• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাই ভোট দিতে যান…

    খালিদ ফেরদৌস | ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ

    ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাই ভোট দিতে যান…

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পত্রিকার রিপোর্টের জন্য শহর, গ্রাম-গঞ্জ ও প্রত্যন্তর অঞ্চল ঘুরেছি, মানুষের সাথে কথা বলেছি। ভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশময় গুমট, অস্বস্তির মোড়কে মোড়া ভীতিকর পরিবেশ। এ যেন সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বেকার অস্বাভাবিক অবস্থা। যেখানে বাজার-ঘাট, চায়ের দোকান, অফিস-আদালতের আড্ডায় ভোট নিয়ে উৎসবের পরিবেশ থাকার কথা সেখানে মানুষ মুখে ভোটের ভও উচ্চারণ করে না। সবার একই কথা, ঝামেলা করে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে না। তাদের অনেকের ভেতর জীবন যাবার ভয়। তবে নির্বাচনের দু’দিন আগে এসে মানুষের মানসিকার পরিবর্তণ দারুনভাবে লক্ষ্যণীয়। ঢাকাসহ দূর-দূরন্ত থেকে ভোট দিতে এলাকায় এসেছেন অনেকে। ভোটের দিন সবারই প্রায় কাজ থেকে অবসর। অনেক দিন ভোট না দিতে পারার পূঞ্জিভূত ক্ষোভ, ভোটদানে মানুষের ভেতর ছাইচাপা আগুনের মত বিপুল উৎসহ দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে তারা অবশেষে ভোটের মাঠে যেতে উদগ্রিব।
    কিন্তু বর্তমান যে পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে তা আমাদের হতাশায় নিমজ্জিত করে। আমরা কী এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম! শ্যামলী মায়ের সূর্য সন্তানেরা কী এই জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলো? না! না! অবশ্যই না! তারা এই বাংলাদেশের জন্য বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেনি। দু:খ লাগে যখন শুনি, উত্তরপাড়ার লোক ধানের শীষের সমর্থক; ওদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিষেধ। দক্ষিণপাড়ার লোক নৌকার সমর্থক; ওরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিন্তু নৌকায় ভোট দেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। নিজেদের দলীয় লোকও দলের প্রতিকে ভোট দেবে কিনা সঙ্গা, সন্ধেহ। এই জন্য বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দলের অনেকে ভোটদান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। পূর্বে এই পরিস্থিতির উল্টোটাও দেশের জনগণ অবলোকন করেছে। অবশ্য এর ব্যাপকতায় অনেক ফারাক ছিলো। সে যাই হোক, এমন অবস্থা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এই অবস্থার পরিবর্তণ অতি দ্রুত অতি জরুরি।
    আপনি সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আপনার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিয়ে দল বেঁধে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে অাপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেখিয়ে দিন যারা হুমকি-ধামকি দেয় তাদের চেয়ে আপনি তথা সাধারণ জনগণ বেশি শক্তিশালী। ভোটকেন্দ্রে আপনার উপস্থিতি বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি। তাছাড়া ভোটদানের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন আপনার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
    মনে রাখবেন, আপনি যদি ভোট দিতে না যান তবে যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় তারা একা হয়ে যাবে। এই সুযোগে ভোটে যারা পেশীশক্তি ও প্রশাসনের পরোক্ষ সমর্থনে কারচুপি করতে চায় তারা সংখ্যায় বেশি হয়ে অনিয়ম করার পরিবেশ পেয়ে যাবে। গুণ্ডা-পাণ্ডারা যদি খুব ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রাখে তবে দেরি না করে এখনই এলাকায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদের সহায়তা নিয়ে কেন্দ্রে যান। আমি বিশ্বাস করি শত প্রতিকূলতার ভেতরেও স্বদেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আপনাদেরকে সাহায্য করবে। ইতোমধ্যে সারাদেশে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় ভোট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
    আপনার মহামূল্যবান একটা ভোট এনে দিতে পারে নতুন দিনের অবগাহন। আপনি যাকেই ভোট দেন না কেন আপনার ভোটেই যেন নির্বাচিত হয় যোগ্য একজন জন-প্রতিনিধি। আমরা বিনাভোটের জনপ্রতিনিধি চাই না। আপনি যদি বাঁধা-বিপত্তি হেতু ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তবে আপনি নাগরিক দায়িত্ব অগ্রাহ্য করলেন। যা এক ধরণের দোষই বলব। আসুন আমরা ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন দল বেঁধে ভোটকেন্দ্রে যায়। যদি আপনার অংশ গ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তবে জিতবে জনগণ। এর ব্যত্যয় হলে জিতবে পেশী শক্তি ও ক্ষমতা। দেশের জন্য রচিত হবে রাজনৈতিক পরাজয়। বাংলাদেশের জন্য জুটবে রাজনেতিক সংস্কৃতির নিগুঢ় প্রতিবন্ধীতা। শাসন ক্ষমতার চেক-এন্ড ব্যালান্স বিনষ্ট হবে। ভুলুণ্ঠিত হবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। যা কারো জন্য কাম্য নয়। তাই আসুন
    আমরা কোন নিদিষ্ট দল বা প্রতিকে পথভ্রষ্ট না হয়ে; প্রত্যাশা করি জনগণের ভোটে যোগ্য প্রার্থী জিতুক। সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটে কেউ জিতুক কেউ দায়িত্বশীল বিরোধীদল হোক। দেশে ফিরে আসুক সহমর্মিতা ও সহনশীলতার হৃদ্রতাপূর্ণ পরিবেশ। আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাংলার বুকে আর দেখতে চাই না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি যেই জিতুক তারা যেনো অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জিতে সরকার গঠন করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ও জনগণের ক্ষমতায়নে কাজ করুক। আবার বলছি, দীর্ঘদিন পর আপনার ভোট দেবার মহান সুযোগ এসেছে। আপনি এই সুযোগ অবিবেচনাপ্রসূতভাবে হাত ছাড়া করবেন না। আপনার ভোট আপনি দিন, জেনে-শুনে বুঝে দিন।
    লেখক,
    খালিদ ফেরদৌস
    কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673