• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মনোনয়ন দৌড়ে তরুণরা এগিয়ে, নারীরাও পিছিয়ে নেই

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ আগস্ট ২০১৭ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

    মনোনয়ন দৌড়ে তরুণরা এগিয়ে, নারীরাও পিছিয়ে নেই

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের প্রাধান্য থাকবে। এটাকে তারা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন বলছেন। তারা আশা করছেন, আগামী নির্বাচনের নারী প্রার্থীর সংখ্যাও গতবারের তুলনায় বাড়তে পারে। অন্তত তারা পিছিয়ে থাকবেন না।


    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি। তবে বহু আগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। এরই মধ্যে দল দুইটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজও চলছে জোরেশোরে। এবার এমপিদের আমলনামা দেখে মনোনয়ন দেবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নানা কারণে বিতর্কের জন্ম দেয়া এবং জনগণ ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক নেই এমন নেতারা মনোনয়ন পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। এ কারণে প্রার্থী পরিবর্তনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারেন তরুণরা।

    ajkerograbani.com

    এদিকে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিএনপি। আগামী নির্বাচনে তরুণরা প্রাধান্য পাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে দল দুইটির মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন শতাধিক তরুণ নেতা। মূল দলের তরুণ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি তারা যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। নিয়মিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। একই সঙ্গে তারা জনগণেরও খোঁজখবর নিচ্ছেন। মনোয়ন দৌড়ে পিছিয়ে নেই নারীরাও।

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বছর আগে থেকেই প্রার্থী বাছাই শুরু করেছেন। বর্তমানে মন্ত্রী-এমপিদের এলাকায় কার কী অবস্থা; কে কী করছেন, সে তথ্য নিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া অব্যাহত রেখেছেন। অনেককে ডেকে এনে সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকাশ্যেও বলেছেন, মনোনয়ন পেতে হলে জনগণ ও নেতাকর্মীদের মন জয় করতে হবে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার তিনি তৃণমূলেরও মতামত নেবেন বলে দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, নেত্রী বহু আগে থেকেই এমপি-মন্ত্রীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে জয়ের জন্য কোন আসনে কী ধরনের প্রার্থী দিতে হবে, এলাকায় কার কেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে সবকিছুই তার নখদর্পণে রয়েছে। মনোনয়নে পরিবর্তন আসবে এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আসনের জন্যই নেত্রী একাধিক বিকল্প চিন্তা করে রেখেছেন। সবারই কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এবার তরুণদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকেও দেখা যেতে পারে।

    জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের একটা অংশ দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে কাজ করছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় নিয়মিতভাবেই যাতায়াত করেন তারা। রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন তারা। তরুণ নেতাদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান শিখরের নাম জোরালোভাবেই আলোচনায় আছে। মাগুরা-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মারুফা আক্তার পপি জামালপুর থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন।

    এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এএইচএম মাসুদ দুলাল নারায়ণগঞ্জ-৩, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন গাইবান্ধা-৫, সাখাওয়াত হোসেন শফিক বগুড়া-৬, কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি নাটোর-৪, শাহে আলম বরিশাল-২, শফি আহমেদ নেত্রকোনা-৪, অজয় কর খোকন কিশোরগঞ্জ-৫, পনিরুজ্জামান তরুণ ঢাকা-১, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনির ঝালকাঠি-১, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ঢাকা-৮, গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু ঢাকা-১৫, মুহাম্মদ বদিউল আলম চট্টগ্রাম ১২, মাজহারুল ইসলাম মানিক পাবনা-৫, শেখ সোহেল রানা টিপু রাজবাড়ী-১, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা পিরোজপুর-১, নুরুল আলম পাঠান মিলন ময়মনসিংহ-৭, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলামিনুল হক আলামিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, সাবেক ছাত্রনেতা ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন পিরোজপুর-৩, জহিরউদ্দীন মাহমুদ লিপটন ফেনী-৩ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু হুসাইন বিপু দিনাজপুর-১ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

    ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, বগুড়া শহরের ছেলে হিসেবে এখানেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা তখন থেকেই লালন করছি। কাজ করে যাচ্ছি- নেত্রী যেভাবে চাইবেন, আমি সেভাবেই কাজ করব।

    আরেক সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেই ছাত্রজীবন থেকেই দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তখন থেকেই সুখেদুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এখনও তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও দলের পক্ষে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাব। নেত্রী এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ দিলে তা আমি যথাযথভাবে পালন করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

    মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তরুণদের পাশাপাশি এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থীদের মূল্যায়ন করার কথা ভাবা হচ্ছে। নেত্রী সবসময়ই নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে। এজন্য এবার বেশ কিছু জায়গায় নারীদের দেখা যেতে পারে। সংরক্ষিত আসন থেকে এবার সরাসরি নির্বাচনের মাঠে দেখা যেতে পারে অনেককেই।

    দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিভিন্ন জরিপে তাদের নামও এসেছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন নারী সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ। তিনি জামালপুর-২ থেকে নির্বাচন করতে কাজ করছেন। নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা চাঁদপুর-৫, যুব মহিলা লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন ঢাকা-১৪, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী নড়াইল-১, সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম ঢাকা-৪, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী হবিগঞ্জ-২ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি নীলফামারী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন বলে ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এদিকে বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা। যারা মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই এবার কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ এবং পেশাজীবী সংগঠনের সাবেক নেতারাও আছেন। ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতিতে এসেই বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক পদ পান জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। আগামী নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৬ (পল্লবী) আসনে প্রার্থী হওয়ার আশায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভিন্ন ঘরানা থেকে এসে দলকে ভালোবেসে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এ জন্য নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। তবে ম্যাডাম ও তারেক ভাই যা সিদ্ধান্ত দেবেন; সেভাবেই কাজ করব।

    একইভাবে সাংবাদিক নেতা থেকে বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদ পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা কাদের গণি চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচন করার টার্গেটে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। এতে বেশ সাড়াও পাচ্ছেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি সন্ত্রাসী জনপদ। আমি শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ফটিকছড়ি দেখতে চাই। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই কাজ চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি। প্রচণ্ড সাংগঠনিক মেধার অধিকারী এই তরুণ নেতা মনোনয়ন পাবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।

    এছাড়া আগামী নির্বাচনে যেসব নেতা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম ঢাকা-১০, সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ফেনী-৩, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ-১, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), একই আসনে রোটারিয়ান জসিম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে ডা. শাহতাত হোসেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে ব্যারিস্টার মীর হেলাল ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানাউল হক নিরু নরসিংদীর বেলাব থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

    যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া ঢাকা-১৮ আসনে (উত্তরা) ঢাকা মহানগর যুবদল (উত্তর) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, ঢাকা-৪ আসনে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন ও মহানগর বিএনপি নেতা আ ন ম সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিণ্টুর স্ত্রী ও মহানগর বিএনপি নেতা নাসিমা আক্তার কল্পনা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল, ঢাকা-১৩ আসনে অ্যাডভোকেট খন্দকার জিল্লুর রহমান ও ঢাকা-১৪ আসনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মামুন হাসান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

    প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ মুন্সীগঞ্জ-২, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, যুবদলের সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-১, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ-চৌহালী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

    জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল নির্বাচন করতে চান নরসিংদী থেকে। সাবেক ছাত্রনেতা বজলুল বাসিত আনজু ঢাকা-১৫, শাহীন আলম ও কৃষকদল নেতা তকদির হোসেন জসিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আলী রেজাউল রহমান রিপন নরসিংদী-৫, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আওয়াল খান কুমিল্লার দেবীদ্বার, আকরামুজ্জামান বিপ্লব কুমিল্লা-৩, যুবদলের সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু কুমিল্লা-৮, তাঁতী দলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিণ্টু চাঁদপুর-৫, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা খান সফরী চাঁদপুরের মতলব, যুবদলের দফতর সম্পাদক কাজী রফিক চাঁদপুর-৪, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জয়ন্ত কু-ু ঝিনাইদহ-১, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হায়দার আলী লেলিন ভোলা সদর, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১ থেকে নির্বাচন করতে চান।

    এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুরের কালকিনি, বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন পটুয়াখালীর গলাচিপা, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু ফেনী সদর, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল বারী ড্যানি নেত্রকোনা-২ আসন থেকে দলের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু ঝালকাঠি-২, যুবদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন পটুয়াখালীর দুমকিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে চান।

    অন্যদিকে তারকা ফুটবলার সাঈদ হাছান কানন নোয়াখালী-৬, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর বাইরে বিএনপির বেশ কিছু সিনিয়র নেতা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা থাকলে অথবা অসুস্থতার কারণে প্রার্থী হতে না চাইলে তাদের সন্তানরা প্রার্থী হতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

    দলীয় সূত্র মতে, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিএনপি। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ জনের মতো তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৭জন এমপি হন এবং কয়েকজন মন্ত্রী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। দলের চরম দুর্দিনেও ওই নির্বাচনে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার মতো তরুণ নেতারা এমপি নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যখন প্রার্থী বাছাই করা হবে, তখন তরুণদের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে।’

    সূত্র মতে, (ঢাকা-১৫ কাফরুল) তাবিথ আউয়াল, জসিম উদ্দিন চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্মসম্পাদক গাজী সিরাজ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-১২, পটিয়া), তরুণ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা নাজমুল মোস্তফা আমিন, (চট্টগ্রাম -১৫, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে বিএনপির টিকিট পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755