• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মন্ত্রিসভার রদবদল, তারা নেই কেন?

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৫ জানুয়ারি ২০১৮ | ৬:০৯ অপরাহ্ণ

    মন্ত্রিসভার রদবদল, তারা নেই কেন?

    মন্ত্রিসভার রদবদল হলেই তাঁদের নাম ঘুরে ফিরে আসে, কিন্তু তারপরও তাঁরা উপেক্ষিত। কেন? বছরের শুরুতেই মন্ত্রিসভার রদবদলের পর সেই নামগুলো আলোচনায় উঠে এসেছে। তাঁরা এবারও কেন অন্তভুক্ত হলেন না মন্ত্রিসভায় সে প্রসঙ্গে চায়ের কাপে ঝড়ও উঠেছে। তবে, কারও কাছে উত্তর নেই।


    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের প্রভাবশালী সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে সর্বশেষ রদবদল পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব শেখ সেলিমের জন্য অধরাই রয়ে গেল। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ অনেকে মনে করেন, ওয়ান ইলেভেনে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া জবানবন্দির কারণেই মন্ত্রিত্ব থেকে দূরে আছেন তিনি। কিন্তু এরকম জবানবন্দি অনেকেই দিয়েছিলেন, যাঁরা এখন মন্ত্রী। তাছাড়া ওয়ান ইলেভেনে যাঁরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তাঁরাও মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। কাজেই ‘জবানবন্দি’ মন্ত্রিত্বের পথে অদৌ বাধা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র দাবি করে শেখ হাসিনা তাঁর আত্মীয় কাউকে মন্ত্রী না করার নীতি নিয়ে গত নয় বছর দেশ চালাচ্ছেন, সেই নীতির অংশ হিসেবেই শেখ সেলিম হয়তো মন্ত্রিসভায় নেই।


    আওয়ামী লীগের অরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু। ৯৬ সালে আইন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রমও তাঁর হাতেই শুরু হয়েছিল। ওয়ান ইলেভেন তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম কৌসুলী ছিলেন। তারপরও তাঁর মন্ত্রিসভায় না থাকাটা একটা বিস্ময়। গত নয় বছরে প্রতিটি রদবদলেই তাঁর নাম এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর বঙ্গভবন যাওয়া হয়নি।

    পদ্মা সেতু নিয়ে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন সৈয়দ আবুল হোসেন। কানাডার আদালত যখন রায় দেয় পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি তখন থেকেই তাঁর ফিরে আসার জল্পনা কল্পনা হতে থাকে। কিন্তু এসব কল্পনা কখনো বাস্তবতার ভূমি স্পর্শ করতে পারেনি। মন্ত্রিসভা রদবদলের পরদিনই মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর সৈয়দ আবুল হোসেন প্রসঙ্গ আবার আলোচনায় এসেছে। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে তখন সৈয়দ আবুল হোসেন ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন, আর সচিব ছিলেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। দুর্নীতি দমন কমিশন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়াও পড়িয়েছিল। এটা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া চাকরিতে পুনর্বহাল হন। শিল্প সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের সময় তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দেওয়া হয়। মাত্র কিছুদিন আগে তিনি অবসরে গিয়েছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন করেন, পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগে সচিব যতোটা না অপমানিত হয়েছেন তারচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছেন মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। অথচ সচিব বার বার পুরস্কৃত হলেও মন্ত্রী কেন তাঁর সম্মাণ ফিরে পাচ্ছেন না?

    অবশ্য সৈয়দ আবুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই তিনি ব্যস্ত আছেন। মন্ত্রী হতে তিনি আগ্রহী নন। তবে সরকারের একাংশ মনে করে, সৈয়দ আবুল হোসেন কী চায় না চায় সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সরকারের আত্মমর্যাদা ও সম্মাণ প্রতিষ্ঠার জন্যই সৈয়দ আবুল হোসেনকে আরেকবার মন্ত্রী করা উচিত ছিল। মন্ত্রিসভার রদবদলে উপেক্ষিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনিও। তবে, এটা সরকারের দল ও সরকার পৃথক করার নীতিরই অংশ বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। ভবিষ্যতে দলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের মন্ত্রী না করার নীতি আরও পূর্ণতা পাবে বলেও ওই সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673