• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মাগুরায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক

    আসিফ হাসান কাজল মাগুরা প্রতিনিধি: | ০৪ মে ২০১৭ | ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

    মাগুরায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক

    কখনো সে সাংসদের ভাগ্নে কখনো বা আর্মি মেজর এমন পরিচয়ে মাগুরা শহরের একাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। নাম মো: মুরাদ বিশ্বাস। মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় ২ বছর যাবৎ ভাড়া আছেন। স্থায়ী নিবাস ডুমাইন মোল্লাপাড়া।


    কাউকে বিজিবিতে চাকরি দিবেন, কাউকে আবার অর্ধেক মূল্যে মোটর সাইকেল এনে দিবেন এমন আশ্বাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক।

    ajkerograbani.com

    মাগুরা পুলিশ লাইন বাজারের মাছ বিক্রেতা তাপস বিশ্বাসও এই প্রতারণার ভুক্তভোগী। তাপস বলেন -প্রথম দিন আমদানী রপ্তানী ব্যাবসায়ী পরিচয় দিয়ে ১২০০০ টাকার ইলিশ মাছ কিনে ৬০০০ টাকা বাকী রেখে চলে যান। তার পর দিন এসেই বাকী ৬০০০ টাকা পরিশোধ করে আরো ৩০০০ টাকার মাছ কিনেন। তাই মাছ বিক্রেতা তাপসের চোখে তিনি বিশ্বাসী পরীক্ষিত ভাল মানুষ হয়ে পড়েন। আর এই বিশ্বাসের ফাঁদে আটকা পড়ে ৩ মেয়াদে সর্বমোট ৯০০০০ টাকা দেন। মোটর সাইকেল তো দূরে থাক দীর্ঘ ৮ মাস ঘুরে টাকা ফেরতের অনেক তারিখ পেয়েছেন কিন্তু কোন টাকাই আর ফেরত পাননি।

    প্রতারক মুরাদ বিশ্বাসের ঠিক পাশের বাড়িটি মোহাম্মদ হাকীম সাহেবের। এল জি ই ডি সম্মুখে তার একটি বড় মুদিখানার দোকান রয়েছে। কিন্তু হাকীম বিশ্বাসের কাছে মুরাদ বিশ্বাসের পরিচয়টা একটু ভিন্ন। এখানে তিনি আমদানী রপ্তানি ব্যবসায়ী নন তিনি আর্মি মেজর। তাই বিজিবিতে জোয়ান পদে কারো চাকুরী দেওয়া কিংবা চাকুরীচ্যূত কারো চাকরী ফেরত দেওয়া কোন ঘটনাই নয়! তার উপর তিনি মাগুরা -১ আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অব) এম এ ওহাবের ভাগ্নে। এই পরিচয়ে মোহাম্মদ হাকীমের কাছ থেকে ৭ লক্ষাধিক টাকা ও মোটর সাইকেল এনে দিবে এই কথা বলে আরো ৮ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।

    কথিত মেজর মুরাদ বিশ্বাসের কাছে ২ লক্ষ টাকার মোটর সাইকেল ৮০ হাজার টাকায় এনে দিবেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অকশনের মোটর সাইকেল কিনে বিআরটিএ অফিস থেকে কাগজ করে সল্প মূল্যে তিনি বাইক এনে দেন। অকশনের কোন যানের কাগজ বিআরটিএ থেকে করা সম্ভব নয় এমন কথায় উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন সিস্টেম আছে আপনি বুঝবেন না।

    হাকীম সাহেবের সহধর্মীনি বলেন, এই লোক দীর্ঘ দেড় বছর ধরে টাকা দিবে বলে ঘুরিয়ে যাচ্ছে। প্রতি তিন চার মাস পর টাকা ফেরতের সময় দিলেও তা দেন না। খুব বিপদে পড়েছি আমরা। কোন লোভে এত টাকা দিয়েছেন আর কেনই বা পুলিশে অভিযোগ দেননি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথমে দেখে সব ঠিকঠাকই মনে হয়েছিল আর পুলিশের কাছে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে টাকা পাওয়া আরো জটিল হবে। তাই থানা পুলিশ করা হয় নাই।

    এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি মো: রেজাউল ইসলাম কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করলে অবশ্যই আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিবো, কিন্তু কোন অভিযোগ মামলা ছাড়া কিছুই করা সম্ভপ নয়। তবে এ ধরনের প্রতারক আইনের বাইরে ঘুরে বেড়াক যা কোন ভাবেই জনগনের জন্য মঙ্গলজনক নয় এমন কথায় তিনি সহমত প্রকাশ করেন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757