• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    জি.এম. জিল্লুর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন

    আতিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক মাগুরা | ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

    জি.এম. জিল্লুর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন

    “অফিসের দ্বারে দ্বারে দিন প্রতিদিন
    মেলেনাতো পেনশন চলে যায় দিন।
    এতোগুলো বছরের ফেলে আসা স্মৃতি
    অফিসের ফাইলে ফিতে বন্দী।”-(বাপ্পি খান, ১৯৯৯)


    পেনশন শিরোনামের এলআরবি’র গানটা পেনশনারদের কষ্ট কাব্যিকভাবে তুলে ধরেছে। পেনশন নিয়ে হয়রানীর ইতিহাস প্রায় শতবর্ষের। ২০০৯ সালে পেনশন সহজীকরণ বিধি চালু হওয়ার পর এর অবসান হয়েছে। বর্তমানে চাকুরী শেষে সহজে পেনশন পাওয়া গেলেও উন্মোচিত হয় ভোগান্তির আরেক দিগন্ত। ন্যূনতম ২৫-৩৯ বছর সরকারী চাকুরে হিসেবে মানুষকে সেবা দেয়ার পর অবসরজীবনে পেনশনভোগী হিসেবে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখী হয়। রঙীন জীবনটা মাঝে মাঝে সেখানে সাদাকালো।

    ajkerograbani.com

    বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ও ৪৮৯ উপজেলায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয় আছে। এ অফিসগুলোতে গেলে সেবা গ্রহীতা বা সেবাদানকারী, উভয়পক্ষেরই চিন্তিত মুখভঙ্গি দেখা যায়। কাজের পরিবেশ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব যে আদর্শ তা নয়। এর অন্যতম বড় কারণ, এখাণে সেবা প্রার্থীর তুলনায় সেবাদাতার সংখ্যা অনেক কম। তাই এসব অফিসের পরিবেশ নিয়ে কেউ তেমন আশাও করে না। অভিযোগ নিয়েও খুব একটা আলোচনা হয় না।

    তবে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ এর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পেলাম মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে।

    মাগুরা জেলায় মোট ২৫১০ জন পেনশনার রয়েছে। প্রবীণ হওয়ার কারণে তাদের অনেকেই শারিরিকভাবে দুর্বল বা অসুস্থ। প্রতিমাসে অন্তত: একবার পেনশনের চেক পাওয়ার জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে অপেক্ষারত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় সারাটা জীবন দেশ আর দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পর নিজের কল্যাণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা না পাওয়ার বিষয়টি প্রকৃতই একটি সমস্যা। মাগুরা জেলার পেনশনারদের উন্নত সেবা দেয়ার জন্য এখানকার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জনাব জি.এম. জিল্লুর রহমান কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

    তিনি দ্রুততম সময়ে পেনশনের মাসিক ভাতা গ্রহীতার কাছে প্রদান করছেন। আগে সকালে বই জমা দিয়ে বিকেলে টাকা পেতো, এখন তারা ৩০-৪০ মিনিটে টাকা পেয়ে যাচ্ছে। আগে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বসার জায়গা না থাকলেও এখন সেটা আছে।

    প্রচলিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পেনশন কেস নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি আপত্তিহীন কেসগুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করেছেন। আগত পেনশনারদের জন্য সাবেক জেলা প্রশাসকের সহায়তায় ৫০টি চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন। অপেক্ষমানদের জন্য দুটি দৈনিক পত্রিকার ব্যবস্থা করেছেন। এসব কাজ তিনি করেছেন নিজ উদ্যোগে।

    সাবেক সিভিল সার্জনের সহায়তায় মাসে দুই দিন পেনশনারদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো। বর্তমানে একজন চিকিৎসক মাসে একদিন আসেন। বন্ধ হয়ে গেছে বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান কার্যক্রম মূলতঃ অর্থের অভাবে। পেনশনারদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণের ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি বন্ধ রয়েছে। তিনি জানালেন মহিলাদের জন্য আরেকটি টয়লেট থাকলে ভাল হতো। ভাল হতো যদি একটি টেলিভিশন থাকত।

    জিল্লুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলাম, এই উদ্ভাবনের প্রেরণা তিনি কোথায় পেলেন? জানালেন, এ ধরণের ভাবনা বিক্ষিপ্তভাবে তার মাথায় কাজ করছিল আগে থেকেই। তবে ২০১৫ সালে পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন কার্যক্রম তাকে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ দেখায়।

    পেনশনারদের কারো কারো সাথে কথা হলো। তারা বেশ সন্তুষ্ট বর্তমান সময়ের সেবা পেয়ে।

    আজকে চারিদিকে উদ্ভাবনী আর ভালো কাজের ভীড়ে জিল্লুর রহমানের কাজগুলো খুব ব্যতিক্রমধর্মী নাও মনে হতে পারে। তবে তাকে অনেকের চেয়ে আলাদা মনে হয়েছে। আমরা কেউ কেউ ভালো কোন কাজ করলেই স্বীকৃতির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যে কাজগুলো নিয়মিত আর স্বাভাবিক নিয়মে করার কথা, সেগুলো করে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করি। কিন্তু জিল্লুর রহমান কখোনো নিজেকে প্রচারের আলোয় আলোকিত করেননি। লোকমুখে শুনে তার অফিসে তার কাজ দেখতে যাওয়া।

    ঘটনাটা কলকাতার গায়ক কবির সুমন (সাবেক সুমন চট্টোপাধ্যায়) এর কাছ থেকে শোনা (১৯৯৭)। পশ্চিম বঙ্গের লেখক- সমাজসেবক কমল কুমার মজুমদারকে একবার প্রশ্ন করা হলো- এই যে, আপনারা এতো সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন, এতে কি সমাজের কোন পরিবর্তন হয়। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন “ব্যাঙের একটা ল্যাটিন নাম আছে, ব্যাঙ কি সেটা জানে? এতে কি ব্যাঙের কিছু আসে যায়?” অর্থাৎ সমাজে কিছু লোক থাকে, যারা কোন স্বীকৃতির অপেক্ষা না করেই কাজ করে যান নিরবে, নিভৃতে। যেমন মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জনাব জিল্লুর রহমান। দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে যারা জি.এম. জিল্লুর রহমানের মতো, এভাবে চাকুরীর চেয়ে বেশী কিছু করেছেন, তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

    DC magura এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755