• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মাগুরা হাসপাতালে এক রোগীর দুই ছাড়পত্র

    আসিফ হাসান কাজল- | ৩০ অক্টোবর ২০১৮ | ২:০৬ অপরাহ্ণ

    মাগুরা হাসপাতালে এক রোগীর দুই ছাড়পত্র

    মাথায় আঘাত ও জখমের ঘটনায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে পারভীন সুলতানা (৪০) নামের এক রোগীকে দুইটি ছাড়পত্র তৈরী ও প্রদান করার ঘটনা ঘটেছে । গত ১০ই সেপ্টেম্বর মাগুরা সদরের গোপালগ্রাম ইউনিয়নে গ্রাম্য বিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের করা দ্বিতীয় হামলায় মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন ফারুক মোল্লার স্ত্রী পারভীন সুলতানা (৪০)। ওই দিন থেকে পরবর্তী ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ২৪ দিন হাসপাতালের অন্ত বিভাগ মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডের ৮ নম্বর কেবিনে ভর্তি অবস্থায় তিনি চিকিৎসা গ্রহন করেন । শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সার্জারি বিভাগের সিনিয়ন কন্সাল্টেন্ট ডাঃ শফিউর রহমান তাকে ১১ই অক্টোবর ছাড়পত্র সহ পারভীন সুলতানাকে হাসপাতাল ত্যাগ করার অনুমতি প্রদান করেন। এই মারামারির ও মাথায় জখমের ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানান পারভীন সুলতানা। তবে ২য় ছাড়পত্রের ব্যাপার জানার পরে ভুক্তভোগী পারভীন সুলতানা আজকের অগ্রবাণীকে অভিযোগ করে বলেন, আদালতে মামলা করায় উপযুক্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের দূর্নীতির আশ্রুয়গ্রহণ ও বিবাদীকে সাহায্য করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে দ্বৈত ছাড়পত্র তৈরী করা হয়েছে। উল্লেখ্য পারভিন সুলতানা একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তার পিতার নাম আব্দুর রাজ্জাক।


    অভিযোগ ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই ব্যক্তির নামে হাতে দুইটি ছাড়পত্র দেখে জানা যায়, হাসপাতাল সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কন্সাল্টটেন্ট ডাঃ শফিউর রহমান কর্তৃক সই ও সিল সম্বলিত পারভীন সুলতানার ছাড়পত্রের কাগজে তিনি ১৭ই সেপ্টেম্বার থেকে ১১ ই অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতলে ২৪ দিন অবস্থান করার পরে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। অপরটিতে দেখা যায়, ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ০৬ই অক্টোবর পর্যন্ত পারভীন সুলতানা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও একজন রোগীর জন্য দুইটি ভিন্ন ছাড়পত্রের কারন জানতে সদর হাসপাতালের রেকর্ড কিপার তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেও মেলেনি কোন সদ উত্তর ৷ এই ঘটনায় তিনি বলেন, এই রোগীর কোন তথ্যই এখন পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। আসতে অন্তত সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলেও তিনি জানান।


    এদিকে রেকর্ড রুমে রেকর্ড না পৌছানো হলেও মাগুরা সদর হাসপাতাল এর নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে ,২০ দিনের ছাড়পত্র সংযুক্ত করে মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলশ কর্মকর্তার কাছে মেডিকেল সার্টিফিকেট ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

    দুইটি ছাড়পত্রের পার্থক্য খুঁজে দেখা যায়, দুইটি ছাড়পত্রের মধ্যে সবকিছু ঠিক থাকলেও শুধুমাত্র তারিখের পরিবির্তন করে চারদিনের ব্যবধান করা হয়েছে। তবে সাইনের নিচে তারিখ পরিবর্তন করতে মনে না থাকায় উভই ছাড়পত্রেই চিকিৎসক এর সই ও সিলের নিচে একই তারিখ অর্থাৎ ১১ ই অক্টোবর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

    এই ঘটনায় চিকিৎসক শফিউর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুইটি ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন , এসময় তিনি জানান তার উপর একাধিক মহলের চাপ থাকায় তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।

    সরকারী হাসপাতালের ছাড়পত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের গাফিলতির পেছনে কোন দূর্ণীতি জড়িত কি? একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক এর এমন পেশাগত আচরণ আপনারা সমর্থন করেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে মাগুরা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, কোন রোগী যদি মাথায় ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত ও জখম হয় সেক্ষেত্রে নূন্যতম ২১ দিন হাসপাতালে একটানা ভর্তি থাকলে মেডিকেল সার্টিফিকেট এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে রোগী যদি ২০ দিনেই সুস্থ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট এর আইনী ধারায় পরিবর্তন ঘটতে পারে।

    এই ঘটনা জানানো হলে মাগুরা সদর হাসপাতাল ত্বত্বাবধায়ক সুশান্ত কুমার বলেন, একজন রোগীর জন্য একাধিক ছাড়পত্র প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী। তবে এই ব্যাপারে তিনি ডাঃ শফিউর রহমানের সাথে কথা বলবেন ও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা ও প্রকৃত কারন জানার পর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673