মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়নি: বিএসএমএমইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক:   |   মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ | প্রিন্ট  

মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়নি: বিএসএমএমইউ

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়নি বলে আবারও জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মাঙ্কিপক্স নিয়ে গুজব বা আতঙ্ক নয়; বরং আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গতকাল সোমবার (২৩ মে) সন্ধ্যাতেও সময় সংবাদকে উপাচার্য একই কথা জানান। ওই সময় তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডা. আসিফ ওয়াহিদের বরাত দিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা গুজব।


সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্যানুযায়ী ডা. সরওয়ার জাহান নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসক তার ফেসবুক পোস্টে বিএসএমএমইউতে দেশের প্রথম মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর জানান।

আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, করোনা মহামারিকে আমরা যেভাবে মোকাবিলা করেছি, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে যেভাবে বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দেইনি, সে রকমভাবে আমরা মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের জন্যও প্রস্তুত আছি।


তিনি আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঙ্কিপক্সের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যা ছিল নিছক একটি গুজব। বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে আনেন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল কিছুসংখ্যক সাংবাদিক ভাই। তাদের এ তথ্যে আমাদের প্রশাসন আরও তৎপর হয়। এরপর আমরা খোঁজ নেওয়া শুরু করি আসলে কী ঘটেছে। গুজব রোধ এবং গুজব রটনাকারীকে খুঁজে পেতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কাছে মৌখিকভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের দ্রুত পদক্ষেপে আমরা জানতে পারি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আসিফ ওয়াহিদ অর্কের বরাতে সংশ্লিষ্ট গুজব পোস্ট হয়, পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তবে ডা. আসিফ ওয়াহিদ জানা,ন এমন কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। তিনি এমন পোস্টও করেননি।

তিনি আরও বলেন, ডা. আসিফ ওয়াহিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের নতুন ভর্তিকৃত রেসিডেন্ট হলেও কোনো ক্লাস করেননি। যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তাকে ট্রেস করতে পারিনি। ৩৯তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডার তিনি।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ প্রথম হয়েছে। এ বিষয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ২৬তম অবস্থানে আছে। অন্যান্য রোগের মতো বৈশ্বিক সংকট মাঙ্কিপক্স নিয়েও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বেশ সতর্ক রয়েছে।

এদিকে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি নিয়ে দেশে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রোগটি প্রতিরোধে সতর্কতার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

মাঙ্কিপক্স সন্দেহজনক ও রোগটির লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের ঢাকায় আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) তাদের বিষয়ে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গতকাল সোমবার অধিদফতরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে। মাঙ্কিপক্স নতুন রোগ নয়। এ রোগকে পশ্চিম আফ্রিকা বা মধ্য আফ্রিকান দেশগুলোতে অ্যান্ডেমিক হিসেবে ধরা হয়। আগে শুধু পশ্চিম আফ্রিকা বা মধ্য আফ্রিকান দেশগুলোতে ভ্রমণকারীদের বা বাসিন্দাদের মধ্যে শনাক্ত হলেও সম্প্রতি ভ্রমণের ইতিহাস নেই, ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী এমন ব্যক্তিদের মাঝেও মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে।

রোগীদের মধ্যে ফুসকুড়ি দেখা গেলে এবং সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে এমন দেশগুলোতে ভ্রমণ করলে অথবা এমন কোনো ব্যক্তি বা লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাদের একই রকম ফুসকুড়ি দেখা গেছে বা নিশ্চিত বা সন্দেহজনক মাঙ্কিপক্স রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, তাদের মাঙ্কিপক্সের জন্য সন্দেহজনক রোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সন্দেহজনক ও লক্ষণযুক্ত রোগীকে কাছাকাছি সরকারি হাসপাতালে বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকায় আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আইইডিসিআরে তাদের সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে হবে।

এ ছাড়াও এর আগে গত শনিবার (২১ মে) রাতে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি বন্দরে সতর্কতা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা ও হেলথ স্ক্রিনিং জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাঙ্কিপক্স একটি বিরল ভাইরাস সংক্রমণজনিত রোগ, যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। সাধারণত আফ্রিকার দেশগুলোতে এ রোগটি দেখা গেলেও ওই অঞ্চলের বাইরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বিরল। সে কারণেই দেশে দেশে মাঙ্কিপক্সের বিস্তার উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঙ্কিপক্স খুব একটা গুরুতর নয়। সংক্রমণের সক্ষমতাও তুলনামূলক কম। রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও অবসাদ। পরে মুখ ও শরীরে চিকেনপক্সের মতো র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়। তবে এ রোগ নিজে থেকেই কেটে যায়। ১৪-২১ দিনের মধ্যে সেরে ওঠেন রোগীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত শনিবার সতর্ক করে বলে, মাঙ্কিপক্স আরও ছড়াতে পারে।

মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে তারা বলছেন, এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ানোর ও ব্যাপকভাবে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, মাঙ্কিপক্স থেকে সৃষ্ট অসুস্থতা মৃদু। রোগী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। মাঙ্কিপক্সের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টিকার কথা এখনো বলেননি বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিবিসি বলছে, কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে গুটিবসন্তের টিকা সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে। গুটিবসন্তের সঙ্গে মাঙ্কিপক্সের মিল রয়েছে বলে এই টিকা ৮৫ শতাংশ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

Posted ১:১০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]