• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মাটির পুতুল

    মাহবুব হাসান বাবর | ০১ আগস্ট ২০১৭ | ১০:৫০ অপরাহ্ণ

    মাটির পুতুল

    রাত খুব গভীর। হঠাৎ ভয়ংকর এক স্বপ্নে পলাশের ঘুম ভেঙে যায়। পুরো শরীরটা তখনও কাপছে। বিছানা থেকে ওঠে লাইট অন করে। জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক দুগ্লাস পানি খেয়ে ফেলে। বিছানায় বালিশে গা ঠেকিয়ে বসে পলাশ ভাবছে, এ স্বপ্ন সে কেন দেখলো! সেতো এসব নিয়ে ভাবেনা,তারপরও কেন? মেডিকেল সায়েন্সে বলে সারাদিন সে যা নিয়ে ভাবে কিংবা যে কাজ করে তা ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে। কিন্তু পলাশের মা মারা গেছে প্রায় তের বছর। তার মাকে নিয়ে রোজই সে ভাবে। কিন্ত আজ পর্যন্ত মাকে নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখেনি।
    স্বপ্নটা তাকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। পলাশ ভাবলো কাল সকালে মসজিদের ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে এর একটা উত্তর পাওয়া যাবে। বাকী রাতটুকু কিছুতেই ঘুম আসছেনা। ইদানিং পলাশের মাঝে মাঝে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। কারন চাকরী বাকরী না পেয়ে অবশেষে ছোট একটি দোকান নিয়েছে।দোকানটি অবশ্য মেডিসিনের। মফস্বলের দোকান। যারা ঔষুধ কিনতে আসে তাদের বেশীরভাগই গরীব। কোন কাষ্টমারই প্রেসক্রিপশনের পুরো ঔষুধটা নিতে পারেনা। সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের ঔষধের লিষ্টিটা ইদানিং বাজারের লিস্টির মতো বড় হয়ে গেছে। টেস্টের লিস্টিটাও বড়। হাসপাতালের ডাক্তারের চেয়ে রিপ্রেজেন্টটিটিভের সংখ্যা কয়েকগুন বেশী। কি আর করা বেচারারা এতো ভাল সাবজেক্টে পড়াশুনা করেও মামা দুলাভাই না থাকায় সরকারি চাকরী পায়নি। না পেয়ে এখন যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছে তা দেখলে সত্যি মায়া হয়। তারপর আবার কেমিষ্টদের খারাপ ব্যাবহার। এমনকি গায়ে পর্যন্ত হাত তোলে। বাকী টাকা তুলতে গিয়েও মার খেতে হয়। বিবেককেও নাড়া দেয়। পলাশ ভাবছে, সেতো টেনে টুনে বিএ পাশ করে বেকারত্বের দাবী মেটাতে কেমিস্ট হয়েছে কিন্তু এমন কেমিস্টও আছে স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেনি।
    অথচ সাইন্সের ভালো রেজাল্ট করে ব্যাগ টানছে দ্বারে দ্বারে। এল এম এফ, পল্লী চিকিৎসকদের বাসায় বাজারও করে দিচ্ছে। এ হচ্ছে তাদের চাকরীর নমুনা।
    এসব ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেলো। আজ শুক্রবার। নামাজের দিন। নামাজের দিন এজন্যই বললাম সপ্তাহের বাকী সাতদিন মসজিদে খবর নেই। অথচ এইদিন এলেই আতর সুরমা ধবধবে জামা আর বাহারী টুপিতে মুসল্লি ভরে যায়। পাচওয়াক্ত নামাজীরা যায়গা পায়না। পলাশ অবশ্য প্রতিদিনই নামাজ পড়ে, তবে মাঝে মাঝে দু -এক ওয়াক্ত কাজা পড়তে হয়।


    গোসল সেরে নাস্তা করে দোকানে গেলো পলাশ । ১৩/১৪ বছরের একটা ছেলেকে রেখেছি দোকানে টুকটাক হতের কাজ আগানোর জন্য। ছোটবেলা ছেলেটার বাবা মারা গেছে। মা আবার বিয়ে করেছে। ও পলাশদের বাড়ীতেই থাকে।
    দোকান খুলতেই একজন বয়স্ক মহিলা এলো
    ঃবাজান দেহোদি কয় টাহার ঔষুধ দিছে। মহিলার সাথে নোংরা জামাপরা একটি ছেলে, সম্ভবত নাতি হবে। আজকাল ছেলেতে বাপ মাকে ভাত না দিলে কি হবে, দাদী তাদের নাতিকে ভালবাসায় কার্পন্য করেনা এটা আমি হলফ করে বলতে পারি।
    যাহোক প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে দেখলাম চারশত উনত্রিশ টাকার ঔষুদ।
    ঃ চাচী সব ঔষুধের দাম ৪২৯ টাকা। দেবো?
    ঃ বাজান কউকি দাক্তারের বিজিট দিলাম তারপরও এতো টাহার ঔষুধ দিলো?
    ঃ চাচী ভিজিটের সাথে আপনার ঔষুধের সম্পর্ক কি?
    ঃআইচ্ছা বাজান আমার কাছ একশ পয়সট্টি আছে। ঐ কয়টাহারই দেও………..

    ajkerograbani.com

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755