• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মাদকে বুদ শোবিজ জগত, অবাধ মেলামেশা

    অনলাইন ডেস্ক | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

    মাদকে বুদ শোবিজ জগত, অবাধ মেলামেশা

    শোবিজ জগতটা স্বপ্নের জগত। এ জগতে ঢুকলেই খুব অল্প সময়ে কেউ কেউ পেয়ে যায় খ্যাতি-যশ,বাড়ি-গাড়ি। নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে নেশার প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। মাদকের বিস্তার ঘটেছে মহামারি আকারে। আর এর সাথে জড়িয়ে পড়েছেন সাধারন মানুষের চোখে অনন্য হয়ে থাকা রঙ্গিন ভুবনের মানুষেরাও।


    এই আসক্তির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ড্রাগ ইয়াবা, ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে শোবিজ তারকারা। ডিজে ও ডিস্কো পার্টির আড়ালেও চলছে ইয়াবা নামক মাদকের জমজমাট ব্যবসা। শুধু তাই নয়, ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার পাশাপাশি এদের অনেকে এখন অন্ধকার জগৎকে বেছে নিয়েছেন।

    ajkerograbani.com

    এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মিডিয়ার প্রায় শতকরা ২০-২৫ ভাগ তারকা ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে গেছেন। এদের বেশির ভাগই নতুন ও উঠতি তারকা। পরিচালকরা অভিযোগ করছেন, যারা ইয়াবায় আসক্ত তারা অভিনয়ে সিডিউল মিস করছেন প্রতিনিয়ত। যদি আগে থেকেই তাদের এ আসক্তির বিষয়টি বুঝা যায় না।

    শুধু তাই নয়, নাটক সিনেমা শুটিংয়ের আড়ালেও চলছে ইয়াবা ব্যবসা। আগে আড়ালে-আবডালে থাকলেও ফিল্মপাড়ায় ইয়াবার ব্যবসা এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। অনেক নামিদামি মডেল অভিনেত্রীও ইয়াবায় আসক্ত। ইয়াবা সেবনের পর এসব মডেল অভিনেত্রী পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মতো অবাধ মেলামেশায় জড়িয়ে পড়েন।

    ইয়াবা সেবন থেকে শুরু করা তা আমদানী ও ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন এই মিডিয়ার মানুষগুলোও। কেউ কেউ শুধু মাত্র ইয়াবায় আসক্ত হলেও অনেকে আবার এই অবৈধ-অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছেন।
    মিডিয়ায় ইয়াবা ব্যবসা এবং এটি আমদানীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে উঠতি মডেল-নায়িকারা। অন্যদিকে ইয়াবা সেবনের ক্ষেত্রে অনেক সিনিয়র শিল্পী থেকে শুরু করে ট্যাকনিক্যাল ক্রু’রাও রয়েছেন। অনেকে আবার একে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ পরিশ্রমে সহায়ক ফতেয়া দিয়ে অনায়াসে সেবন করে যাচ্ছে।

    ইয়াবার চালানসহ বেশ কয়েকবার কয়েকজন মডেল ও নায়িকাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তখন মিডিয়ায় ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে অনেক তারকারই নাম উঠে আসে। অনুসন্ধানে আরো বেরিয়ে আসে পর্দার সমানের এই তারকাদের পাশাপাশি পেছনের কারিগররাও অনেকেই ইয়াবাসেবী হিসেবে নাম লেখিয়ে ফেলেছেন।

    বছর তিনেক আগে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন চলচিত্র নায়িকা সিলভিয়া।

    তিনি জানান, চলচ্চিত্র জগতের ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের নাম। গ্রেপ্তার হওয়া আরেক মডেল পায়েল জানিয়েছিলেন, ছোট ও বড় পর্দার অনেক জনপ্রিয় তারকাদের নাম। এসময় আরো বেশ কয়েকজন নায়িকা ও মডেল জানান, মিডিয়ায় ইয়াবার প্রসার সম্পর্কে। তখন মিডিয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসায় অনেকেই নিজেদের নাম বাঁচাতে নানান কৌশল নিয়েছিলেন। এসময় মিডিয়া পাড়ায় ইয়াবা চক্রের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিতহয়ে পড়লেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ইয়াবা সেবনের সাথে শুধু মডেল অভিনেতা অভিনেত্রীরাও জড়িত নন এর সাথে সমান দাপটে ইয়াবা সেবন করে যাচ্ছে ক্যামেরাম্যান, ভিডিও এডিটর। এমনকি কোন কোন পরিচালকও এদের সাথে তাল মেলাচ্ছেন।
    এক সন্তানের জনক হওয়ার পর ইয়াবা সেবন ছেড়ে দেন একটি প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের ভিডিও এডিটর আরিফ (ছদ্মনাম)। তিনি দীর্ঘ ৪ বছর ইয়াবা সেবন করে অবশেষে চিকিৎসা নিয়ে এ মরন নেশার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। তিনি জানান, প্রথমে রাত জেগে কাজ করার জন্য ইয়াবা সেবন করতেন। তারপর নিয়মিত এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি জানান, অফিস ডিউটির বাইরে আলাদাভাবে নাটকসহ অন্যান্য কাজ করতাম। এতে একপর্যায়ে টানা ৩-৪ দিন জেগে থাকতাম ইয়াবা সেবন করে।
    একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ভিডিও এডিটর জানালেন, বাড়তি কাজ নিলেই তিনি ইয়াবা সেবন করতেন। এক পর্যায়ে এমন হলো যে, ইয়াবা ছাড়া কোন কাজ করতে পারতেন না।

    আরেক ক্যামেরাম্যান জানালেন, তিনিও এই মিডিয়ায় পা দিয়ে ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এক সময় দিনে ৩-৪টি ইয়াবা সেবন করতেন। তার কাছ থেকেই জানা গেলো, মিডিয়ার অনেকেই শুধু টানা শুটিং করায় ক্লান্তি কাটানোর দোহাই দিয়ে ইয়াবা সেবন করে যাচ্ছেন গোপনে।

    ইয়াবা ভাইরাস দিন দিন মিডিয়া অঙ্গনকেও কলুষিত করে চলছে। অনেকেই ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে ক্যারিয়ার ধংস করেছেন। কারো কারো এই গ্ল্যামার জগত ছেড়ে দিয়ে মাদসক্তি পূর্নবাসন কেন্দ্রেই কাটাতে হচ্ছে মাসের পর মাস।

    আনেক জনপ্রিয় তারকারা মিড়িয়া থেকে বিতাড়িত হয়েছে অতিরিক্ত আসক্ততার কারনে। এদের মধ্যে সারিকা,তিন্নি,মিলা,নওসীন,প্রভা,শখসহ অনেকের নাম উঠে এসেছে। সারিকা মিডিয়া ছেড়ে কেন গেছে এমন প্রশ্নে সারিকাকে নিয়ে কাজ করেছেন একজন পরিচালক জানান, ইয়াবাই নাকি সারিকার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছে। এবং ইয়াবার আসক্তি থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য দেশের বাইরেও চিকিৎসার জন্য পাঠানোর একটি খবরও পাওয়া যায়।

    জানা যায়, নাটক শুটিংয়ের আড়ালে যেসব অভিনেতা-অভিনেত্রী চুটিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করছেন তারা ইয়াবা ব্যবসার জন্য ফেসবুকে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্টও খুলেছেন। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার সিস্টেম চালু করে নির্বিঘে ইয়াবা ব্যবসাকে আর এক ধাপ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

    বিশেষ সূত্র জানায়, রাজধানীর শোবিজ জগতে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত আছে জামিল হোসেন ওরফে ডিজে জামিল, নাতাশা ওরফে ডিজে নাতাশা, মডেল নেহা ওরফে নেহা কুইন, ডিজে পরি, জনি ওরফে জানেমান জনি, শরিফ ওরফে জনি শরিফ, ডিজে ফারজানা, ডিজে রাকিব ও নোমান।

    সূত্র বলছে, শুধু এই মাদকের ব্যবসায় নয়, মাঝে মধ্যে গাজীপুরে বিভিন্ন কটেজ ভাড়া নিয়ে এসব শোবিজ তারকা ইয়াবার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকেন। আর সেখানে ডিজে পার্টির নামে রাতভর অশ্লীলতা তো আছেই।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755