সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২০

মানুষ পেটানোই নাজিমের নেশা

ডেস্ক   |   সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

মানুষ পেটানোই নাজিমের নেশা

শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ধরে এনে কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে সাজা দেয় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।
আরিফুলের স্ত্রীর ভাষ্যমতে, প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে ফৌজদারী অপরাধে নেতৃত্ব দেয় জেলা প্রশাসনের এল এ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন।
রোববার জামিনে মুক্তির পর আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘রাতে ঘরে ঢুকেই আরডিসি নাজিম উদ্দিন আমার মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। মারতে মারতে আমাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টারে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমাকে নাজিম বারবার বলেন, আজ তোর জীবন শেষ। তুই কলেমা পড়ে ফেল, তোকে এনকাউন্টারে দেওয়া হবে।’
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নাজিম উদ্দিন সর্ম্পকে চাঞ্চল্যকর তথ্য আসতে থাকে। জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তার এধরণের কাজ নতুন নয়। এর আগের কর্মস্থল কক্সবাজারে একইভাবে তার হাতে নির্যাতনের শিকার হন মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ, সংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ।
২০১৮ সালে নাজিম উদ্দিন কক্সবাজারের ভূমি কমিশনার (এসিল্যাল্ড) ছিলেন। সে সময় নফু মাঝি নামে এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের অভিযোগে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছিল।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক নির্যাতনকারী নাজিম উদ্দিন গত ২০১৭ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কারণে-অকারণে সাধারণ মানুষকে লাঞ্চিত করে তিনি আনন্দ পেতেন। নিজেকে এত বেশি ক্ষমতাবান মনে করতেন যে, জনস্বার্থ বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর নিতে গেলে সাংবাদিকদেরও তার কার্যালয়ে ঢুকতে দিতেন না। এমনই এক সময়, স্থানীয় এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, তাঁর অধীনে কিছুদিন চাকরি করেছেন নাজিম উদ্দীন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর তাঁকে রাঙামাটির লংগদুতে বদলি করা হয়।
নাজিমের সঙ্গে চাকরি করেছেন এমন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষানবিশ সময়ে তিনি বাগেরহাটের মোংলায় একটি ছোট ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ফার্মেসির মালিককে তিনি এক লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় মারেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই সময় জেলা প্রশাসক তাঁর ম্যাজিস্ট্রেসি বা বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন। পরে সহকর্মীদের অনুরোধে তাঁর আর শাস্তি হয়নি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, নাজিম উদ্দীন শুধু কক্সবাজারে নয়, এখন পর্যন্ত যেখানেই চাকরি করেছেন, সেখানেই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রশাসনে তিনি বদমেজাজি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
নাজিমউদ্দীন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনে যোগ দেন গত বছরের ২৭ নভেম্বর। তিনি ৩৩তম বিসিএসের কর্মকর্তা। লেখাপড়া করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোরে।


Posted ২:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১