• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মায়ের স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস আজও আমার কাছে রহস্য!

    মো. ওবায়দুল্লাহ | ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:১৮ অপরাহ্ণ

    মায়ের স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস আজও আমার কাছে রহস্য!

    উন্নয়নের ছোঁয়ায় বাংলাদেশের কোনও এলাকাই হয়তো এখন আর প্রত্যন্ত নেই। কিন্ত আমি কিংবা আমার ভাইবোনেরা যে সময় বেড়ে ওঠেছি সে সময় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রাম শুধু প্রত্যন্ত নয়, নিতান্ত অজপাড়াগাঁ।


    সেই অজপাড়াগাঁয় বসে মাত্র চতুর্থ শ্রেণী পাশ হয়েও এবং কাঁধে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” টাইপের বিশাল এক পরিবারের দায়িত্ব পালন করে ছেলেমেয়েদের (৫ ছেলে, ১ মেয়ে) শিক্ষিত করার, মানুষ এর মতো মানুষ করার স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস কিভাবে করেছিলেন আমার মা তা আজও আমার কাছে রহস্য! যদি তিনি ওই সময় আশেপাশের পরিবারের মতো স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে অন্য সবার মতো স্রোতে গা ভাসাতেন, তবে আমাদের হাতে তিন চাকার ভ্যানের দুই প্যাডেল জুটত নয়তো কাস্তে নিয়ে মাঠে দৌড়াতাম!


    অথচ আমার মা শত অভাব অভিযোগকে পাশ কাটিয়ে শুধু বড় হওয়ার স্বপ্নই বুনে দেননি সহজ করে দিয়েছেন স্বপ্ন পূরণের রাস্তা। আজ আমার বলতে দ্বিধা নেই, আমার সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাস্টার বাবার স্বল্প বেতনে এত বড় পরিবারের সব যোগান যেখানে জুটত না, সেখানে উচ্চশিক্ষা একটা দিবাস্বপ্ন কিন্ত তারপরেও আমার বাবা-মা আমাদের ৫ ভাইকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছে দিয়েছেন আর একমাত্র বোন তাকেও অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন।

    ফলাফল, বড় ভাই নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এর কর্ণধার হিসেবে সফলভাবে ব্যবসা করছেন; মেজো ভাই গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ; সেজো ভাই বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক; চতুর্থ এই অধম সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) এবং ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবং সর্বশেষ জন এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে রেজাল্ট এর অপেক্ষায় পাশাপাশি ৪০ তম বিসিএস প্রিলি উত্তীর্ণ (তার ইচ্ছা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে ভাইদের সফলতার ধারা বজায় রাখবে)।

    আজ আমার মায়ের কষ্ট স্বার্থক কারণ তিনি আজ শুধু কলারোয়া উপজেলায় নয়, পুরো সাতক্ষীরা জেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমে “সফল জননী” হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। যদি বাবাদের জন্য কোনও পুরস্কার থাকত তবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে পারি আমার বাবাও নিশ্চয়ই পুরস্কার পেতেন।

    সর্বশেষ, আমার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ বাংলাদেশ সরকারকে। ধন্যবাদ সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ধন্যবাদ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন কলারোয়া । আর একজনকে ধন্যবাদ না দিলেই না যে আমার মাথায় আমার মায়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছেন, আমার সহধর্মিণী। সবাই আমার এবং আমার পরিবারের সবার জন্য দোয়া করবেন।

    লেখক: মো. ওবায়দুল্লাহ
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ভারপ্রাপ্ত ইউএনও

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669