বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা চান ডিভি লটারি ভিসা বঞ্চিতরা

  |   রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা চান ডিভি লটারি ভিসা বঞ্চিতরা

নানা স্থানে ধরনা আর তদবির। কিন্তু তারপরও দেখছেন না আশার আলো। ডিভি লটারি বিজয়ী হওয়ার দুই যুগ পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জালিয়াতির কারণে এখনো স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পা রাখতে পারেননি বিজয়ীরা। ভিসার প্রহর গুনতে গুনতে এ পর্যন্ত অনেকেই মারা গেছেন। অধিকাংশ লটারি বিজয়ীরা জ্বলন্ত অভিশাপের মধ্যে ভিটামাটি বিক্রি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার কেউ কেউ বয়সের ভারে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বিষয়টির সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট নানা দপ্তরে ধরনা দিতে দিতে তারা ক্লান্ত। সর্বশেষ এখন তারা ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে চলতি বছরের ৮ই নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন পাঠিয়েছেন।
নবনির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিবাসন নীতি বিরোধী সকল কার্যক্রম বাতিল করে যেসব দেশের নাগরিক আবেদনের পরেও ভিসা পাননি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা নিবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবহেলায় তাদের এ কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি বলে ডিভি লটারি বিজয়ীদের অভিযোগ। তারা বলছেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চিফ কন্স্যুলার অফিসার বরাবর একটি আবেদন পাঠান। কিন্তু অদ্যাবধি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনটি মার্কিন দূতাবাসে পাঠায়নি। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ডিভি লটারি বিজয়ীরা একাধিকবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদনের পরেও কোনো উত্তর দেননি। এনিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সর্বশেষ তারা গত বছরের ৮ই নভেম্বর সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুর্ভোগগ্রস্তরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে আমেরিকা সরকার ডিভি লটারি চালু করে বিশ্বের ৫৫টি দেশ থেকে কোটার ভিত্তিতে প্রতি বছর ৫৫ হাজার লোককে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়। তন্মধ্যে বাংলাদেশের কোটায় প্রতিবছর ৩ হাজার ৮৫০ জন আবেদনকারীর অভিবাসন নিশ্চিত করা হয়। এ আলোকে ১৯৯৫-২০১২ সাল পর্যন্ত মার্কিন অভিবাসন নীতির আলোকে ডিভি লটারির মাধ্যমে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, স্পন্সরশিপ ও মেডিকেল টেস্ট ও ভিসা ফি প্রদান করেও কিছু অসাধু দূতাবাস কর্মকর্তার জালিয়াতি, স্থানীয় দালাল চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত বিজয়ীদের কাগজপত্রে ছবি বদল করে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে ভুয়া লোক পাঠায়। দুর্ভোগগ্রস্তদের অভিযোগ ও নানা স্থানে প্রেরিত আবেদন থেকে জানা যায় ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে ডাক ও বিমান বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে তারা গড়ে তুলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। ওই চক্র বিজয়ীদের নামে আসা চিঠি তাদের হাতে না পৌঁছিয়ে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য জনের কাছে বিক্রি করতো। পরবর্তীতে ডাক সার্ভিসের তৎকালীন পরিচালক সাইদ উদ্দিন মাহমুদকে চেয়ারম্যান ও এপি এমজি নুুরুল আমিনকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটিও ঘটন করা হয়। কিন্তু ওই তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট ১৮ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। বিষয়টি নিয়ে ২০১১ সালের ৯ই মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১১তম সভায় আলোচনা হয় এবং ২০১৩ সালের ১০ই জুন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌখিক উত্তরদানের জন্য ২৯২ নং প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে আমেরিকান ডিভি লটারি বিজয়ী ও ভিসা বঞ্চিত বাংলাদেশি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সৈয়দ ইউনুছ আলী বলেন দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ইস্যু নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করার পরেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আন্তর্জাতিক এ বিষয়টি সমাধান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Facebook Comments Box


Posted ১:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০