সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মার্চে ঢাকায় ফিরে যেখানে যার কাছে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ

অগ্রবাণী রিপোর্ট   |   বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

মার্চে ঢাকায় ফিরে যেখানে যার কাছে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ

গত মার্চ মাসে দেশের বাইরে থেকে ঢাকায় এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ (বরখাস্ত)। এরপর স্ত্রী সালেহা বেগমের মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের আবাসিক এলাকার বাসায় ছিলেন তিনি। তার দেশে ফেরা ও বসবাস সবই নজরদারিতে ছিল গোয়েন্দাদের।
মঙ্গলবার ভোররাতে মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি দল। পরে আব্দুল মাজেদের গ্রেপ্তার নিয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত মাসে বাংলাদেশে আসেন আব্দুল মাজেদ। এরপর স্ত্রীর ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার এক নম্বর রোডের ১০/এ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দেশে আসার খবরে গোয়েন্দারা তাকে নজরদারি করছিল। এরপরই ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
গ্রেপ্তারের পর আব্দুল মাজেদকে দুপুরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) জুলফিকার হায়াতের আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আব্দুল মাজেদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, দেশবাসীকে আমরা মুজিবর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহারটি দিতে পেরেছি। এছাড়া যারা এই কাজে (গ্রেপ্তারে) সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের সাজা কার্যকর করার অপেক্ষায় ছিলাম। তার মধ্যে অন্যতম একজন খুনি আব্দুল মাজেদ পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে।‘
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, `১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ, নুর এবং রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন সেখানে অবস্থান করেছিলেন। আব্দুল মাজেদ শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তিনি জেলহত্যার ঘটনাতেও অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে আমাদের জানা রয়েছে।’
‘খুনের পর প্রয়াত জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক তিনি (আব্দুল মাজেদ) বঙ্গভবন এবং অন্যান্য জায়গা কাজ করেছেন। আমরা আশা করি, তার দণ্ডাদেশ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর করতে পারব। ’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। ৩৪ বছর পর ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। খুব ধীরে দীর্ঘ বারো বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি পাঁচ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলেন- সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয় আসামি পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে আবদুল মাজেদকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়। পলাতক বাকি পাঁচজনের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছেন। আর রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ভারতের কারাগারে আটক বলে অনেকে ধারণা করছেন।

Facebook Comments Box


Posted ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১