• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘মালিক স্বার্থের সড়ক পরিবহন আইন হাস্যকর’

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | ০৪ মে ২০১৭ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ

    ‘মালিক স্বার্থের সড়ক পরিবহন আইন হাস্যকর’

    প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে মালিকের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে খসড়া আইনটির পর্যালোচনা বিষয়ক এক গণ-সংলাপে একে ‘হাস্যকর’ বলে সমালোচনা করেছেন কয়েকজন বক্তা।


    বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘সড়ক পরিবহন (খসড়া) আইন-২০১৭’ এর পর্যালোচনা বিষয়ক এ গণ-সংলাপ হয়।

    ajkerograbani.com

    এতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মিশুক মনিরের স্ত্রী মঞ্জলী কাজী বলেন, “এটি একটি হাস্যকর আইন (সড়ক পরিবহন আইন)। মালিকপক্ষের স্বার্থকে সামনে রেখে এ আইন করা হয়েছে। এ আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী ব্যক্তিকে সাজায় আনা হয়নি। আমাদের দেশের নিম্নশ্রেণির যারা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাদের আদালত পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয় না।

    “একটি দুর্বল আইন হিসেবে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সব দায়ভার চাপানো হয়েছে শ্রমিকদের ওপর। জনগণের স্বার্থ রাখা হয়নি এ আইনে, রাখা হয়েছে মালিকপক্ষের স্বার্থ। ট্রাফিক আইন না মানলে শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে কয়টি ট্রাফিক লাইট জ্বলে?”

    গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস এবং চালকের সহকারী হতে হলে লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    গণ-সংলাপে আইনের নামকরণের বিষয়ে আপত্তি তুলে বিষয়টির সমালোচনা করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারপারসন ইলিয়াস কাঞ্চন।

    তিনি বলেন, “আইনটির নাম রাখা হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭’। আমরা চেঞ্জ করে এর নাম রাখতে চেয়েছিলাম ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৭’। কিন্তু কেন সরকার এটি নিতে চাচ্ছে না? শুধু জরিমানা করলে কি রোড সেফটি এনশিওর হবে? যদি নিরাপত্তার বিষয়টি আইনে না থাকে, তাহলে সে আইন সুরক্ষা দেবে কীভাবে?

    “নিরাপত্তার বিষয়টি থাকতে হলে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। জিডিপির ১.৬ শতাংশ এ খাতে নষ্ট হচ্ছে, তা আপনি এনশিওর করবেন কীভাবে? সরকারের এখানে খরচ করার দরকার নাই, জরিমানা নিয়েই তো পকেট ভারি করতে পারে।”

    দুর্ঘটনার বিষয়ে চালক ও যানবাহনের মালিকের বাইরেও অন্যান্য বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বলে এ চলচ্চিত্র অভিনেতা।

    ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “আমরা বলেছিলাম, সড়ক দুর্ঘটনা শুধুমাত্র চালক বা মালিকের জন্যই যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, তা নয়। বরং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক যে বিষয়গুলো আছে, ইঞ্জিনিয়ার যারা আছেন, যারা লাইসেন্স প্রদান করেন, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা দেন কিনা; আইন যারা প্রয়োগ করছেন তা তারা ঠিকমতো প্রয়োগ করছেন কিনা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বিভাগীয়ভাবে করা হবে বলা হয়েছে। চালককে অন দ্য স্পট জরিমানা করা হবে, আর তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

    “আমরা চাই এ আইনটির মাধ্যমে যেন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, আমাদের সুরক্ষা ফিরে আসে। আমাদের জান-মালের নিরাপত্তা যেন ফিরে আসে। সুরক্ষার কথাই যদি না থাকে, তাহলে এ আইন সুরক্ষা ‍দিবে কীভাবে?”

    আইনের নামকরণে তাদের প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আর এ আইনে যে গ্যাপগুলো আছে তা পুনর্বিবেচনা করেই যেন আইনটি পাশ করা হয়।”

    খসড়া আইনটিকে তিনটি বিষয়ের দিক থেকে অসম্পূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।

    তিনি বলেন, “এর একটা হচ্ছে, একটা আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত পরিবহন খাতের বিকাশটা কিভাবে হবে, তা সঠিকভাবে খসড়া আইনে প্রতিফলিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, আইনের উদ্দেশ্য কি হবে তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তৃতীয়ত, এখানে মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এই তিন শ্রেণির প্রকৃত দাবির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”

    অর্থনীতির বিকাশের জন্যও পরিবহন খাত ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে সড়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য শৃঙ্খলিত একটি পরিবহন আইন চান জিল্লুর রহমান।

    “সড়ক পরিবহনে আধুনিকায়ন সম্বলিত একটি আইন আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু এ আইনের তৈরির ক্ষেত্রে আমরা কিছু ঘাটতি দেখেছি। এ ঘাটতিগুলো বিষয়ভিত্তিক ঘাটতি, ইচ্ছা বা দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি। এ আইনের প্রি-অ্যামবেল বা উদ্দেশ্য এর অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার মধ্যে এ আইনটি তৈরি হয়েছে।”

    খসড়া আইনটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একদিকে আইনের ৫৬ ধারায় চালকের সব দোষকে ‘জামিনযোগ্য’ করা হয়েছে। অন্যদিকে জেব্রা ক্রসিং না মানলে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে। অর্থা লঘু অপরাধের জন্য গুরু দণ্ড, আবার গুরু অপরাধের জন্য লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।”

    আইনটির সমালোচনা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, “এ আইনের কোনো উদ্দেশ্য উল্লেখ নেই। আবার চালকের সব অপরাধ কেন জামিনযোগ্য তা বুঝা মুশকিল। আবার এই ক্ষেত্রে কোনো ভুক্তভোগী আইনি সহায়তার জন্য সাহায্য চাইলে সরকারের কোনো এজেন্সির কাছে যাবে, তা আইনে স্পষ্ট করা হয়নি।”

    ব্র্যাক ও সেফ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্স জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই গণ-সংলাপ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, অ্যাডভোসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান ও সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক তালুকদার সোহেল এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757