• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মায়ের পরকীয়ার বলি শিশু, মাসহ চারজনের ফাঁসি

    এম, এ, রউফ খান রিপন | ৩০ আগস্ট ২০১৭ | ৮:৪১ অপরাহ্ণ

    মায়ের পরকীয়ার বলি শিশু, মাসহ চারজনের ফাঁসি

    পৃথিবীতে এমন কোন মা নেই যে মা তার সন্তানকে ভালোবাসে না।এই সত্য বাক্যটি শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমানিত হলো খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালাতে।
    কুকর্মে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গর্ভ জাত পুত্র হাসমীর (৯) দেখে ফেলায় খুন হতে হলো সরদারডাঙ্গা হাতেম আহম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র হাসমীকে। এই জঘন্য ধরনের অপরাধ সমস্ত মা জাতির মুখে কলঙ্ক লেপন করলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পেলোনা কুলাঙ্গার মা এবং তার প্রেমিক সহ ৪ জন। ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করার আদেশ দিলেন বিজ্ঞ দায়রা জজ মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা।


    ঘটনাটি ঘটেছিল খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকার সরদারডাঙ্গা এলাকায় ২০১৬ সালে ৬ই জুন তারিখের রাতে । আসামিরা হলেন শিশু হাসমির মা সোনিয়া আক্তার, মো. নুরুন্নবী, মোঃ রসুল, মোঃ হাফিজুর রহমান। এই মামলার অপর আসামি রাব্বি সরদারের
    বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। মায়ের সঙ্গে অন্যকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় দেখে ফেলায় আড়ংঘাটা থানা এলাকার সরদারডাঙ্গা শহিদ হাতেম আহম্মেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হাসমিকে (৯)-কে খুন করা হয়। মা সোনিয়া বেগমের সামনেই শিশুটিকে নৃশংসভাবে খুন করে তিন ঘাতক। বারবার শিশুটি তার মাকে ডেকে ডেকে বলছিল, ‘মা আমাকে বাঁচাও।’ তবুও মা ও তার সহযোগীদের মনে করুনা হয়নি বলে মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়।

    ajkerograbani.com

    মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৬ সালে মানিকতলার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়ার সাথে মো. হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। এর ছয় মাস পর হাফিজুর রহমান বিদেশে চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সোনিয়ার চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল হতে থাকে। তিনি বিভিন্ন যুবকদের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। দেশে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন স্বামী হাফিজুর রহমান। এরপর তিনি স্ত্রীকে শোধরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দেন স্ত্রীকে। হাসমি থেকে যায় পিতার সঙ্গে। হাসমিকে তার পিতার কাছ থেকে অপহরণ করে আনার জন্য নুরুন্নবী ও রসুলের সাথে ৫০০ টাকা ও অনৈতিক কাজের চুক্তি হয় সোনিয়ার।
    ২০১৬ সালের ৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে শিশু হাসমিকে অপহরণ নিয়ে করে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে। এরপর চুক্তি অনুযায়ী সরদার ডাঙ্গা বাগানের (বাঁশ ঝাড়)’র মধ্যে পালাক্রমে অপহরণকারীরা সোনিয়ার সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। এ সময় শিশু হাসমি ঘটনা দেখে তার মাকে বলে ‘মা’ তুমি কী করতেছো, আমি বাবাকে বলে দেব। এ ঘটনা বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ঘাতকরা মা সোনিয়ার সামনেই শিশু হাসমিকে মুখ চেপে ধরে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুমের জন্য ওই রাতেই সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদার ডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। এরপর ৯ জুন সকালে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে থেকে সিমেন্টের বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সেদিনই হাসমির পিতা মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মো. নুরুন্নবী, হাফিজুর রহমান, মো. রসুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের মামলা দায়ের করেন (নং-০২)। তদন্ত কর্মকর্তা আড়ংঘাটা থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান একই বছরের ৩০ জুন এজাহারভুক্ত হাফিজুর রহমান ও আসাদ ফকিরকে বাদ দিয়ে সোনিয়া আক্তার মো. নুরুন্নবী ও মোঃ রসুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের পর পুনরায় তদন্ত শেষে সিআইড’র পরিদর্শক মিঠু রানী দাসি একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

    মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট গৃহীত হওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। ২ এপ্রিল অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত দু’জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠন হওয়া পাঁচ আসামি হলেন, সোনিয়া আক্তার, মো. নুরুন্নবী, মো. রসুল, মো. হাফিজুর রহমান ও রাব্বি সরদার। এছাড়া অব্যাহতি পাওয়া দু’জন হলেন মো. জসিম খান ও মো. আসাদ ফকির।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755