• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মিরপুরে সমাহিত হলেন মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল মামা

    অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

    মিরপুরে সমাহিত হলেন মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল মামা

    মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা আর তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে সমাহিত হলেন একাত্তরে মামা বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শহীদুল হক।


    সবার কাছে মামা হিসেবে পরিচিত এই মুক্তিযোদ্ধা সমাহিত হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তি ও সংগঠকদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেষবারের মতো সিক্ত হন।

    ajkerograbani.com

    এর আগে ভোরে কাতারের রাজধানী দোহার একটি হাসপাতালে শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা শহীদুল মামার মরদেহ ঢাকায় আসে বলে জানান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

    তিনি বলেন, পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘরে রেখে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ আসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

    সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব হয়, যাতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

    ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী মাহবুবের নেতৃত্বে গার্ড অব অনারের পর মুক্তিযোদ্ধারা জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালালের নেতৃত্বে আরেক দফা গার্ড অব অনার দেন।

    পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “তার অবিস্মরণীয় অবদানকে আমরা হয়তো সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরণোত্তর সম্মাননা জানাতে চেষ্টা করব আমি।”

    পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আওয়ামী লীগের পক্ষে ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

    শহীদুল হকের ছেলে সৈয়দ খালেদ শুভ বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের সমার্থক বিভিন্ন পেইজ থেকে বলা হচ্ছিল, বাবার মরদেহ কোনোভাবেই দেশের মাটিতে সমাহিত হতে দেওয়া হবে না। বাবার কারণে কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে বলে তারা এর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল।

    “কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাবার লাশটি দেশে আনার জন্য বড় ভূমিকা রেখেছেন। আমি কৃতজ্ঞ থাকব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও।”

    একটি আত্মজৈবনিক গ্রন্থ বের করা মাত্র ৬৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামার শেষ ইচ্ছা ছিল বলে জানান তার ভাই এস এস হক।

    তিনি জানান, তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘আমি মামা শহীদ বলছি’ প্রকাশে কাজ শুরু করবেন তারা। গ্রন্থটি লেখার দায়িত্ব নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন রতন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জ্যেষ্ঠ সদস্য এম সানাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি ট্রাইব্যুনালের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। শহীদ মামা আজীবন এক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি আমাদের গৌরব।”

    সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে শহীদ মামা দেশের আনাচে কানাচে ঘুরেছেন।

    “কাদের মোল্লার ব্যাপারে যখন তথ্য বিভ্রান্তি দেখা গেল, তখন তিনি নানা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সুইডেন থেকে ছুটে এসে এ দেশের তরুণ প্রজন্মকে তারা উৎসাহিত করেছেন।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম সা আরেফিন সিদ্দিক, “একাত্তরের গেরিলা বাহিনী মামা বাহিনীর প্রধান শহীদুল হক স্বাধীনতার পরে যেকোনো অন্যায়, অবিচার আর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি সুইডেন থেকে ছুটে এসেছিলেন।”

    মুজিব বাহিনীর অন্যতম যোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখি বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তাকে হারিয়ে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”

    বিচ্ছু বাহিনীর প্রধান জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “বুকভরা সাহস নিয়ে সারা জীবন ভর তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে লড়াই করে গেছেন। নতুন প্রজন্মকে নতুনভাবে জাগিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি।”

    আর শহীদ মামার চেতনার উত্তরাধিকার তরুণরা প্রজন্মান্তরে প্রজন্ম বয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল লোহানী।

    তিনি বলেন, “যে মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক পরিবেশে সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পন করছে, সে মুহূর্তে আমার বিশ্বাস- তরুণ প্রজন্ম শহীদ মামার চেতনার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাবে প্রজন্মান্তরে।”

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।

    পরে তিনি বলেন, “মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদের নেতৃত্বে শান্তির অন্বেষণে তিনি দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চের পরেও তিনি নবীন প্রজন্মকে জাগাতে চেষ্টা করে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে যখন চোরাবালিতে পড়ে বিভ্রান্ত, তখন আমরা তাকে দেখি স্বাধীনতার মৌলিক আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তিনি সারা জীবন সচেষ্ট থেকেছেন।”

    সব শেষে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‍“শহীদ মামা নেই, কিন্তু তার বজ্রকণ্ঠ তো থেমে যাবে না কোনোদিন। আত্মোৎসর্গের মানসিকতা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান। স্বাধীনতার আদর্শকে বুকে লালন করে সারা জীবন তিনি যুদ্ধ করে গেছেন।”

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বেলা ১২টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, জানাজা হয় সেখানে।

    সেখান থেকে মিরপুর কাজীপাড়ার জামে মসজিদে আরেক দফা জানাজা শেষে বাদ জোহর তার মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানান গোলাম কুদ্দুছ।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757