• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    মুকসুদপুরে যে কারণে আত্মহত্যা করলেন বাবু মিনা

    তারিকুল ইসলাম: | ১৯ এপ্রিল ২০১৯ | ৭:১০ অপরাহ্ণ

    মুকসুদপুরে যে কারণে আত্মহত্যা করলেন বাবু মিনা

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়নের গুনহার গ্রামের লিয়াকত হোসেন বাবু মিনা (২২),প্রাপ্য টাকা পাওয়ার পরিবর্তে ভাইদের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে গত ১৮ এপ্রিল আত্মহত্যা করে। মুকসুদপুর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
    গ্রামবাসি সূত্রে জানাযায়, লিয়াকত হোসেন বাবু মিনার চিরকুমার চাচা মোক্তার হোসেন মিনা ঢাকায় জীবন বীমা কর্পোরেশনে হিসাব রক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তার কোন উত্তরাধিকার না থাকায় মৃত্যুর পূর্বে বড় ভাইয়ের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রিপন মিনা এবং মেঝ ছেলে শিপন মিনাকে নমিনি করে কয়েকটি ব্যাংকে প্রায় কোটি টাকা রেখে যায়। বয়েস কম থাকায় সরল প্রকৃতির লিয়াকত হোসেন বাবু মিনাকে নমিনি না করলেও পরিবারের সকলের সামনে ওসিয়ত করে যান যে টাকা উঠিয়ে তিন ভাই সমান তিনভাগ করে নিবে। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে ২০১৪ সালে মোক্তার হোসেন মারা যান। চাচার মৃত্যুর পরে রিপন মিনা এবং শিপন মিনা ব্যাংক থেকে প্রায় সমুদয় টাকা উঠিয়ে দুইজনে ভাগ করে নেয়। বাবু মিনা তার ভাগের টাকা চাইলে বড় দুই ভাই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো এবং প্রায়ই তাকে মারধর করতো বলে গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ বিষয়ে গ্রামে কয়েকবার শালিশ হলেও কোন সুরাহা হয়নি। ঘটনার সত্যতা স্মীকার করেছেন বাবু মিনার আপন ফুপু মাহিনুর বেগম এবং ফুপাত বোন সাহানা বেগম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসি জানায়,মারধরের পরে চিকিৎসার নাম করে বাবু কে ওষুধ খাওয়াত। ওষুধ খাওয়ার পরে সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়তো। এক প্রশ্নের উত্তরে বড়ভাই রিপন মিনা স্মীকার করে বলেন,বাবুকে মাঝে মাঝে মানষিক রোগীর ইনজেকশন দেয়া হতো। গ্রামের কয়েকজন এবং ফুপু মাহিনুর জানায় বাবু পাগল ছিলনা,তবে সরল প্রকৃতির ছিল।

    বাবুর মাতা মনোয়ারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবু মিনা একটি টিভি কেনার জন্য ভাই রিপন মিনার নিকট ১০ হাজার টাকা চায়। বড় ভাই রিপন টাকা না দিয়ে তাকে গালিগালাজ করে। ছেলেদের উপর নির্ভরশীল মনোয়ারা জানান, এসময় তার কাছে ৫০ টাকা ছিল। বাবুকে তাই দিলে বাবু বাড়ির বাইরে চলে যায়। একটু পরে বাবু বাড়ি ফিরে এসে অসুস্থ পড়ে। কি হয়েছে জানতে চাইলে ফোরাডন বিষ খেয়েছে বলে সে জানায়। এ সময় মা মনোয়ারা বাবুকে তেতুল গুলিয়ে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। অবস্থার অবনতি হলে মনোয়ার বেগম এবং তার এক ভাগ্নি অটোযোগে বিকাল ৫ টার দিকে রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে বলে ডাক্তার তাকে ফরিদপুর হাসপাতালে রেফার করে। ফরিদপুর নেয়ার পথে গাড়ীতেই বাবু মিনা মারা যায়।


    লাশ বাড়িতে গেলে বড় দুইভাই রিপন ও শিপন তড়িঘড়ি করে কবর দেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানার এসআই মশিউর রহমান সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। তিনি জানান লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ৯, তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০১৯।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী