• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশ, কার দায় কতটুকু: আবীর আহাদ

    | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশ, কার দায় কতটুকু: আবীর আহাদ

    উনিশশো পঁচাত্তর সালে স্বাধীনতাবিরোধী দুর্নীতিবাজ লুটেরা ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বঙ্গবন্ধুকে পরিবার-পরিজনসহ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা ও কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলো। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকার বিনাশের কার্যক্রম। তারই ধারাবাহিকতায় চলে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ধ্বংস ও অবমূল্যায়নের হলাহল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিশেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ওপর চলে অত্যাচারের স্টিম রোলার। এ-লক্ষ্যেই জিয়া এরশাদ ও খালেদা-নিজামী সরকার বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নানান মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা ও নানাভাবে অত্যাচার করেছে। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন থেকে শত শত মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করেছে। ঐসব শাসকরা নিজেদের ক্ষমতা, লুটপাট ও তাদের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐসব কাজগুলো অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছে। এসব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে এক বিন্দুও ছাড় দেয়নি।

    কিন্তু আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনগণের মঙ্গলের কথা বলে কী করে আসছে ? আগের একটার্ম ও চলমান তিনটার্ম একনাগাড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেও জিয়া এরশাদ ও খালেদা-নিজামী তথা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের একটা কেশ স্পর্শ তো করেনি—-বরং তাদের কাছে থেকে মোটা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ও লুটপাটের ভাগাভাগির প্রক্রিয়ায় তাদেরকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি দিয়েছে, লুটেরাদের অবাধে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।


    রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ক্ষমতাসহ তাদের দলের বিশাল নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মী বাহিনী থাকার পরও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও বিএনপির অপরাধী, বিশেষ করে রাজাকার ও রাজাকার শাবকদের নিকট থেকে বিশাল অর্থ নিয়ে তাদেরকে মামলাসহ অন্যান্য ঝামেলা থেকে নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি তাদেরকেই দলের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে মূল ও দরিদ্র আওয়ামী লীগারদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। এ-সুযোগে রাজাকার শাবকরা আওয়ামী লীগের তকমা গায়ে জড়িয়ে তাদের রাজাকার বাপ-দাদাদেরকে যেসব মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় স্বাধীনতার প্রয়োজনে হত্যাসহ নানান শাস্তি প্রদান করেছিলো, সেসবের প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, তাদের বাড়ি দখল, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানান অত্যাচার করে চলেছে। মুক্তিযোদ্ধারা আজ তাদেরই সৃষ্ট দেশে পরবাসী হয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এ-ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনোই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না! অপরদিকে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদী হেফাজতে ইসলামের সাথে রাজনৈতিক দহরম-মহরম করার ফলে ঐসব জঙ্গিরা দেশের সর্বত্র সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনা সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জামায়াত-বিএনপি থেকে আগত ও হেফাজতী জঙ্গিরাই এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড়ো সমর্থক। মুক্তিযোদ্ধা ও অরিজিনাল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব দেখে চরম হতাশা ও মনোবেদনায় নীরবে চোখের জল ফেলছে।

    জামায়াত-বিএনপির হাতে সৃষ্ট লুটেরা শ্রেণী আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর লোভী নেতৃত্বের যোগসাজসে তারা আজ দেশের বড়ো বড়ো মাফিয়া । তারাই দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে, দেশের মধ্যে অতিবিলাসী জীবনযাপন করছে । আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ে বিএনপি-জামায়াতপন্হী আমলা ও ব্যবসায়ীরা দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে প্রায় ভেঙে দিয়েছে । আর হেফাজত ধ্বংস করছে আবহমানকালের বাঙালি সংস্কৃতি । এককথায় বিএনপি জামায়াত ও হেফাজত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী যে লুটেরা ধনবাদী রাজনৈতিক আর্থসামাজিক ও অপসংস্কৃতির পথ রচনা করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নামধারী আওয়ামী লীগ সার্থকভাবে সেই রচিত পথেই দ্বিধাহীন চিত্তে হেঁটে চলেছে । আর এর মাঝখানে চিপায় পড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বিশেষ করে বৃদ্ধ ও দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষীণকণ্ঠে আর্তনাদ করে চলেছেন ।

    যে বিএনপি-জামায়াত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ জামুকা সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে একটি গোঁজামিল সংজ্ঞায় তাদের দ্বি-দলীয় ক্যাডার এবং রাজাকার আলবদর আলশামস ও আলমুজাহিদের মধ্য থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি করে গেছে, এসব জেনেও আওয়ামী লীগ সরকার সেই অমুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছেদ না করে তারাও বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে বিএনপি-জামায়াত সরকারের অনুসৃত নীতিমালা অনুসরণ করে সেই পঞ্চাশ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বহাল রেখে তারাও তাদের প্রায় সমপরিমাণ অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলেছে !

    বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে কোনোই ভুল করেনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে জেনে বা না-বুঝে বা তাদের অপরাজনৈতিক ও আর্থিক লাভের বেদীমূলে নিজেদের সমর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার যেসব ভুল করে আসছে তা কি তারা একবারও ভেবে দেখেছে ?

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের রাজনৈতিক আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক ও জাতির নৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ যদি আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম না-করে তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে ।

    আবীর আহাদ
    সভাপতি, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী