• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি করোনার কাছে হার মানতে পারে না

    আর কে চৌধুরী | ১৯ মার্চ ২০২০ | ৭:১৯ অপরাহ্ণ

    মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি করোনার কাছে হার মানতে পারে না

    কভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার পর দেশে দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে বেশ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়েছে উদ্বেগ। বাংলাদেশে প্রথম রোগী ধরা পড়ার পর আতঙ্কিত মানুষের কেনাকাটার হিড়িকে বাজার থেকে স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক ও মাস্ক উধাও হয়ে যায়।

    নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে—এমন ভাবনা পেয়ে বসেছে মানুষজনকে। ফলে নিত্যপণ্যের মজুদ করতে শুরু করেছে অনেকেই। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, চাল, ডালসহ দীর্ঘদিন রেখে খাওয়া যায় এমন পণ্যই বেশি কিনছে লোকজন। এ ছাড়া বিস্কুট ও মুড়ির মতো শুকনো খাবারের চাহিদাও বেড়েছে।


    বাজারে যখন কোনো জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়, তখন ওই পণ্যের দামও বাড়ে। ভোক্তারা এভাবে গুজবে বিশ্বাস করে নিজেদের মতো ঘরে মজুদ করতে শুরু করলে তার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। এরই মধ্যে কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়তির দিকে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক আছে। এমনকি রোজা সামনে রেখে সরকারের নিত্যপণ্যের মজুদও চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। বাণিজ্যমন্ত্রী সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে; মূল্যও স্বাভাবিক রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্য ভোক্তাদের কতটা আশ্বস্ত করতে পারছে? হাতের কাছে উদাহরণ তো আছেই। এর আগে পেঁয়াজ নিয়েও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে লবণ সংকটের গুজবে এই পণ্যটিরও দাম বেড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও তো বাজারে চালের দাম বেড়েছে। অর্থাৎ বাজারে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে যাচ্ছে করোনাভাইরাস।

    করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলেছে। রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিদেশ থেকে কয়েক লাখ কর্মজীবী মানুষ দেশে ফিরেছে; যার প্রতিক্রিয়ায় রেমিট্যান্স আয় হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কমেছে রপ্তানি আয়। আমদানিও পড়ন্ত। ফলে সরকারের পক্ষে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে না পারলে সরকারের বিড়ম্বনা বাড়বে।

    করোনাভাইরাস সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধের একমাত্র পথ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ যতটা সম্ভব সীমিত করা। বিশ্বের অনেক দেশে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আমাদের দেশে লোকজন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই চলাচল করছে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছিল। সরকারি সেই সিদ্ধান্ত নিতেও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগিয়েছে। ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা। এ নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ভ্রমণ না করাই ভালো। বাইরে যেকোনো জায়গায় রেলিং, দরজার নব, গেট, হাতল, কম্পিউটারের মাউস, টাকা, পাসপোর্ট ইত্যাদি স্পর্শ করার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে সব জায়গায় সাবান-পানি পাওয়া যায় না। তাই ব্যাগে বা পকেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। চোখ, নাক ও মুখে হাত বা আঙুল লাগানো থেকে বিরত থাকুন। জ্বর-কাশি থাকলে ভ্রমণ বাতিলের চেষ্টা করুন। ভ্রমণরত অবস্থায় এই দুই উপসর্গের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। যেকোনো জ্বর-কাশির রোগী থেকে অন্তত ৬ ফুট দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের কর্মীদের মাস্ক ব্যবহার করা এখন অপরিহার্য।

    করেনা ভাইরাসের আতঙ্কের সারা পৃথিবী যখন কাঁপছে তখন বৈপ্লবিক এক আবিষ্কারের কথা জানাল বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তারা সহজ এবং সুলভ এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, যার মাধ্যমে মাত্র ১৫ মিনিটেই করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা যাবে। ১৯ মার্চ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এরই মধ্যে সরকারের তরফ থেকে এটি উৎপাদনের অনুমতিও পেয়েছেন বলে জানান ড. জাফরুল্লাহ।

    ড. জাফরুল্লাহ বলেছেন, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে কাঁচামাল দেশে পৌঁছাবে। দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যাবো। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করলে দেশে কিট নিয়ে কোনো সঙ্কট থাকবে না বলেও দাবি করেন ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ড. জাফরুল্লাহ আমার বাল্যবন্ধু। স্কুলে আমারা একসঙ্গে পড়েছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। এবারও তিনি সফল হবেন। ড. জাফরুল্লাহ এমন এক বন্ধু যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়।

    পরিশেষে বলছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে অনেক উন্নতি হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত করতে শেখ হাসিনা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশবাসী এ পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জঙ্গি দমন করেছেন। বাংলাদেশকে তিনি একটি উন্নত দেশে পরিণত করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

    আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার করোনা মোকাবেলায়ও সফল হবেন। যে জাতি যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে সে জাতি করোনার কাছে হার মানতে পারে না। যদি আমারা সবাই সচেতন হই তা হলে করোনা মোকাবেলায় সফল হবো।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344