• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের ট্রফি জয়ে অভিনন্দন

    আর কে চৌধুরী | ২১ নভেম্বর ২০২০ | ১০:২১ অপরাহ্ণ

    মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের ট্রফি জয়ে অভিনন্দন

    বাংলাদেশের ফুটবলে দুরন্ত খরা চলছে দীর্ঘদিন। প্রায় দেড় দশক ধরে ফুটবলে কোনো ট্রফি আসেনি বাংলাদেশের ঘরে। সে খরার অবসান ঘটিয়েছে মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সিরিজ জিতে। নেপালের বিরুদ্ধে দুটি খেলায় প্রথমটিতে ২-০ গোলে জিতে এবং শেষ খেলায় গোলশূন্য ড্র করে এ সাফল্য এসেছে। একসময় বাংলাদেশ ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হতো। একমাত্র ভারতকেই ভাবা হতো শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু নেপাল, মালদ্বীপের দ্রুত উত্থান সে সুদিনের অবসান ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক খেলায় নেপাল জিতেই চলছিল। এ কৃতিত্বের কারণে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। সে বিবেচনায় নেপালকে হারিয়ে ট্রফি জয় নিঃসন্দেহে খরা মোচনের ঘটনা।
    বাংলাদেশ ফুটবলের দৈন্যদশা ঝেড়ে ফেলে যে ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছে, সে সত্যটি স্পষ্ট হয়েছে জামাল বাহিনীর জয়ে। দীর্ঘ আট মাস পর ফুটবলে ফিরে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোল দুটো ছিল অসাধারণ। অধিনায়ক জামাল আগের দিন বলেছিলেন দ্বিতীয় ম্যাচে তারা আরও ভালো খেলবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভালো খেললেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে নেপাল ম্যাচ জিততে শুরু থেকেই খেলেছে আক্রমণাত্মক। সুযোগ পেলেও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালে বল পাঠাতে পারেনি। তবে শেষ মুহূর্তে নেপালের লবইযুগ শ্রেষ্ঠার প্লেসিং পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বল জালে জড়ালে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেত না বাংলাদেশ। ফুটবল ছিল একসময় এ দেশের মানুষের প্রাণের খেলা। আবাহনী, মোহামেডানের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে উপচে পড়ত মানুষ। কালোবাজারে বিক্রি হতো ফুটবলের টিকিট। এমনকি বিভাগীয় শহরের স্টেডিয়ামে ফুটবল লিগের খেলা মানুষ টিকিট কেটে দেখতে যেত। ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহের ঘাটতি না থাকলেও দেশীয় খেলার মান কমেছে দুঃখজনকভাবে। ফুটবলের সুদিন ফিরিয়ে আনতে যে নানামুখী চেষ্টা চলছে তাতে উৎসাহ জোগাবে জামালদের ট্রফি জয়। বাংলাদেশ দলের সবাইকে অভিনন্দন।
    বাংলাদেশের ফুটবলের পথ চলা শুরু স্বাধীনতার আগে থেকেই। দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় এসেছেন জার্মানি-অস্ট্রিয়া-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কোচরাও। কখনো ইউরোপীয়, কখনো ডাচ ধাঁচে খেলেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। কিন্তু এত বছরেও নিজেদের একটি স্বতন্ত্র স্টাইল গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবল।
    আমি মনে করি এ মুহুর্তে ফুটবলের উন্নয়নে করনীয় হচ্ছে, জাতীয় দল ও ক্লাব গলোর জন্য ভালো ও দীর্ঘমেয়াদী কোচের ব্যবস্থা করা। যদি ক্লাব গুলো ভালো দল গঠন না করে, পরস্পরের প্রতিদ্বন্দীতায় আসতে না পারে তাহলে কিন্তু দর্শক গ্যালারি ভরবে না। দেশের ফুটবল উন্নয়নে বাফুফের যেমন উদ্যোগী হতে হবে, তেমনি ক্লাবগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
    দেশের ফুটবলের মান্নোয়নে প্রয়োজন- ১। ঘরোয়া ফুটবলে পেশাদারিত্ব বাড়ানো। ২। ফুটবলের জন্য সারা দেশের মধ্যে অন্তত তিনটি মাঠের ব্যবস্থা রাখা যেখানে মারাত্মক প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছাড়া (অথবা রাজনৈতিক!) খেলা বন্ধ হবে না। ৩। ঘরোয়া ফুটবলের ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন করা এবং টুর্নামেন্টগুলো আরো আকর্ষনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করা। ৪। বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট বাড়ানো। ৫। সারাদেশে পর্যাপ্ত ফুটবল একাডেমী তৈরী করা যা যেকোন ফুটবলারের স্কিল ডেভেলপমেন্টে ভ‚মিকা রাখতে পারে। ৬। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ইনজুরিকালীন সুবিধা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ৭। ক্লাবগুলোর নিজস্ব মাঠ ও আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি করা। ৮। ক্লাবগুলোর বিদেশি খেলোয়াড় নিয়োগে আরো যতœবান হওয়া। ৯। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশাদারী মনোভাব চালু করা।
    আমি মনে করি কাজী সালাউদ্দিন বাংলাদেশের কিংবদন্তি খেলোয়াড়। তিনি হংকংয়ে পেশাদারী ফুটবল খেলেছেন, যা কোন বাংলাদেশী ফুটবলার হিসেবে প্রথম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান। কাজী সালাউদ্দিন যদি আরেকটু যতœবান হন তাহলে বাংলাদেশের ফুটবল আরো এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য শুভ কামনা।


    লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই, মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673