• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মুজিববর্ষ ভিলেজে এখনই দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

    মো: অলিউল্লাহ খান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৫:০৯ অপরাহ্ণ

    মুজিববর্ষ ভিলেজে এখনই দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

    সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থানের অভাবী লোকজন বিভিন্ন হীনমন্যতায় ভোগে। সমাজে তারা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে না। বাসস্থান হলো মৌলিক উপকরণ বা অধিকারের মধ্যে অন্যতম। যখন এ পাচটি মৌলিক অধিকারের আইনগত দিকের কথা সামনে আসে, তখন বাসস্থান বলতে বুঝানো হতো যে কোন জায়গায় কোন রকমে মাথা গোজর স্থান কে। কিন্তু যুগের চাহিদায় শুধু আষ্টেপিষ্টে বসবাস নয় বাসস্থানের অধিকার বলতে মানসম্পন্ন ও নিরাপদ বাসস্থানকেই বুঝায়। আর এতে মূখ্য ভূমিকায় কাজ করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প। এ প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে গ্রামে গ্রামে অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য মানসম্মত বসবাসের ঘর তৈরি করা হচ্ছে। হত দরিদ্রদের মধ্যে যাদের জায়গা আছে কিন্তু বসবাসের ঘর নেই তাদের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে টয়লেট ও রান্নার ব্যবস্থা সহ দুই রুমের টিন শেড বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বিদ্যুৎ পানি সহ প্রয়োজনীয় সেবাকে গুরুত্বও দেয়া হয়েছে।


    মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে সরকার সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একযোগে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণের কাজ হাতে নিয়েছে। এক সাথে এত অধিক সংখ্যক লোককে অশ্রয়ণের সুযোগ করে দেয়া শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই নয় সারা বিশ্বের মধ্যে বিরল ঘটনা।এর মধ্য দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প তাদের মূল স্লোগান” আশ্রয়ণের অধিকার , শেখ হাসিনার উপহার” কে দেশব্যাপী সামনে আনতে সক্ষম হয়েছে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে এবার আশ্রয়ন প্রকল্প ইউনিয়ন ভিত্তিক ঘর নির্মাণে কিছুটা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ভুমি অফিস গুলোর মাধ্যমে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাস জমি চিহ্নিত করে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের মাধ্যমে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সার্বিক তদারকিতে এক লক্ষ একাত্তর হাজার টাকার মধ্যে এক একটি পরিবারের জন্য টয়লেট, রান্না করা জায়গা সংযুক্ত দুই রুমের সেমি পাকা টিনসেট বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। একই এরিয়ায় মধ্যে ২০ থেকে শতাধিক পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে মুজিববর্ষ ভিলেজ। এসব আশ্রয়নে প্রকল্প গুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস , বিদ্যুৎ এর জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

    ajkerograbani.com

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে একযোগে ২৩ জানুয়ারি ইউনিয়ন ভিত্তিক মুজিববর্ষ ভিলেজ উদ্বোধন করেন। এসব ঘরের সংখ্যা যাতে অধিক হয় তার জন্য সরকারের টাকার বাহিরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানও নেয়া হয়েছে। যার ফলে অধিক সংখ্যক গৃহহীনকে মানসম্মত আবাসনের আওতায় আনা যাচ্ছে। বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান নেয়ার পদ্ধতিটা স্থানীয় ভাবে প্রশংসীত হয়েছে। যেমন কেউ ঘর তৈরি করে দিতে ইচ্ছুক তাকে উপজেলা কমিটির কাছে ঘর প্রতি এক লক্ষ একাত্তর হাজার টাকা জমা দিয়ে দিলেই হল। উপজেলা কমিটি সরকারি বেসরকারি ফান্ড একসাথে করে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এরয়িার খাস জমিতে একই এরিয়ার ভিতরে ২০ থেকে শতাধিক ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। এতে করে যারা অনুদান দিয়েছেন তারা কোন ঘরটি তার অনুদানে হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না। আর এত করে যারা ঘর পাবেন এটা তাদের জন্য সম্মানের। ব্যক্তিগত অনুদানে পৃথকভাবে ঘর তৈরি করে দিলে এটা তাদের জন্য তত সম্মানের নাও হতে পারত। এখন গৃহহীনরা বলতে পারছে সরকার থেকে পেয়েছেন এসব ঘর। তাছাড়া একসাথে এবং পাশাপাশি এসব ঘর নির্মাণ করায় অতি সহজে এবং তুলনামূলক কম খরচে সকল নাগরিক সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে এসব ঘর নির্মাণ করা হলে খরচ বেশি হওয়ার পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের সুবিধা সমানভাবে দেয়া কঠিন হতো। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব ঘর নির্মাণ করেছে উপজেলা কমিটি। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে নাগরিক সুবিধা ছাড়া প্রত্যন্ত এরিয়ার যেখানেই গৃহহীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। এবার কমিটি মোটামোটি সকল প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ আশ্রয়নের জন্য মিনি পল্লী গড়ে তোলায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়।

    ইতোমধ্যে এসব মিনি পল্লীতে বসবাসের জন্য গৃহহীনরা উপজেলা কমিটির নিকট যোগাযোগ শুরু করেছে। কমিটির সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় আবেদন বেশি হওয়ায় লটারির মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে বাকিদের জন্যও ঘর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। তাছাড়া এবার এসব আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরকেই বেছে নেয়া হচ্ছে। তাতে করে বরাদ্দ পাওয়া পরিবার তার মূল বাড়ির আশেপাশেই পূর্নবাসীত হচ্ছেন। এর জন্যই এসব পূর্নবাসিত পল্লীতে মানুষের আগ্রহ বেশি। শুধু গড় বরাদ্দ নয় পূর্নবাসিত দম্পত্তির নামে খাস জমির প্রায় ২শতাংশ করে মালিকানাও দেয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবারটি দাবী করতে পারবে তারা তাদের নিজের জায়গায় বসবাস করছে। ঘর বরাদ্দের পাশাপাশি জায়গার মালিকানা দেয়া সরকারের আরেকটি প্রশংসনীয় কাজ। গুরুত্বপূর্ন জায়গায় এসব পল্লী গড়ে তোলায় জায়গার দামও নিশ্চয়ই বেশি। লক্ষ্য রাখতে হবে এসব জায়গা যাতে বরাদ্দ পাওয়া পরিবার গুলো কোনমতেই তৃতীয় কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর বা বিক্রি না করতে পারে। এ সুযোগ দিলে সরকারের এ মহতী কাজের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ঘর বরাদ্দ দেয়ার সময় প্রকৃত পক্ষে যারা গৃহহীন এবং ঘর পাওয়ার যোগ্য শুধু তাদেরকেই যেন বেছে নেয়া হয়। আবেদন বেশি হলে প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার ন্যায় উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে করা যেতে পারে। সারাদেশের ন্যায় রুপগঞ্জ উপজেলায় ভুমিহীন ও গৃহহীন ক’ শ্রেনি পরিবারের জন্য ৪৯৮টি গৃহ নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ২১০টি গৃহ নিমার্ণের কাজ শেষ যার মধ্যে ২০৪টি সরকারি অর্থায়নে বাকি ৬টি ব্যক্তিগত অর্থায়নে। মুড়াপাড়া ইউনিয়নে ২০টি, কাঞ্চন পৌরসভায় ১৩০টি, গোলাকান্দাইল ৫০টি, দাউদপুর ১০টি। ৪৯৮টির বাকি গৃহ নিমার্ণকাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে স্থানীয় অফিস থেকে জানানো হয়েছে। রুপগঞ্জের ন্যায় সারাদেশ এভাবেই গৃহহীনদের জন্য মানসম্মত মুজিববর্ষ ভিলেজ তৈরি হচ্ছে বলা জানা যাচ্ছে।

    পুনর্বাসন পরবর্তী এখন দরকার কর্মমুখী উদ্যোগ:

    বিআরডিবিসহ অন্য দপ্তর গুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে:

    মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে নির্মাণাধীন মুজিববর্ষ ভিলেজে সংশিষ্ট ইউনিয়নের গৃহহীন দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা, ভিক্ষুক, হিজড়া সম্প্রদায়, অসহায় লোকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এসব পরিবার ভিন্ন গ্রাম, সমাজ, প্রথা ও ধর্ম থেকে এসে এসব ভিলেজে একসাথে বসবাস শুরু করবে, সেহেতু একেক পরিবারের এতদিনকার পেশা, চলাচলের ধরন, চিন্তা চেতনাও কিছুটা ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। ভাল বাসস্থান দিয়েই শুধু ক্ষান্ত না থেকে এখন সরকারের উচিত হবে পরিবার গুলো যাতে ভাল থাকে সে ব্যবস্থা করে দেয়া। তবেই মুজিবর্ষ ভিলেজ তার পূর্ণতা পাবে। প্রথমেই দরকার কর্মমুখী প্রশিক্ষণ যাতে এসব পরিবার নতুন পরিবেশে এসে তাদের জীবিকা নির্বাহে নতুনত্ব আনতে পারে। মনে রাখতে হবে এসব পরিবার গুলো সমাজে এত দিন সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছিল সেই সাথে তারা এমন কোন পেশায় ছিলেন না যে তারা তাদের আয় থেকে বসবাসের জন্য নূন্যতম ব্যবস্থা করতে পারে। অনেকটা অপারগ না হলে কেউ সরকারের কাছে ঘর চায় না। তাই তাদের প্রথমেই কর্মমুখী/ আয়বর্ধক কোন পেশার সাথে সম্পৃক্ত করানোর চেষ্টা করা উচিৎ। দরিদ্র হওয়ার কারণে পরিবার গুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সেনিটেশন, সঞ্চয়. পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নিয়ে তেমন সচেতন নয়। সরকারের উচিত বসবাসের শুরুতেই এসব মৌলিক বিষয়কে সামনে এনে কাজ করা। যাতে করে পূর্নবাসিত পরিবার গুলো ভাল লাভবান হয়। ভিন্ন ভিন্ন কালচার /প্রথা থেকে পরিবার গুলো আসায় এসব পরিবারের মধ্যে ভবিষতে পারিবারিক বিরোধ কি রকম হতে পারে তা এখনই ভাবতে হবে। এর জন্য এসব ভিলেজে শক্তিশালী কমিউনিটি সৃষ্টি করতে পারলে ভাল হয় যাতে তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারে। না হলে তৃতীয় কোন পক্ষ এখানে সুযোগ নিতে না পারে। তৃতীয় কোন পক্ষ এখানে পরিবার গুলোর দূর্বলতায় সুযোগ নিলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কৃষি কাজ, হাসমুরগী পালন, মৎস চাষ, সেলাই প্রশিক্ষণ, কুটির শিল্প, জামদানী শাড়ি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি পরিবার গুলো থেকে সকল পর্যায়ে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় তার জন্য সরকারকে সুযোগ করে দিতে হবে। এ সব কাজে সরকার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি) কে কাজে লাগতে পারে।

    বিআরডিবি তার সৃষ্টির শুরুতেই সমাজে নেতৃত্ব গঠনের পাশাপাশি কর্মমুখী বিভিন্ন কাজে গরীবদের প্রশিক্ষণ, ঋণদানসহ পূনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য ভাসানচরে স্থানান্তরিত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে কর্মমুখী করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিআরডিবিকে দায়িত্ব দিয়েছে। মুজিববর্ষ ভিলেজে বিআরডিবির পাশাপাশি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প আমার বাড়ি আমার খামার, পিকেএসএফকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় পর্যায়ক্রমে ১৫ লক্ষ পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বর্তমান সরকার। সরকার তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন বিআরডিবি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, আমার বাড়ি আমার খামার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পিকেএসএফ এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সঞ্চয়, নিরাপত্তা, সচেতনতা বিষয়ক সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষ ভিলেজে পূনর্বাসিত পরিবারকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে এসব গরীব জনগন দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755