মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২০

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মেয়েকে হত্যার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা

  |   মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

মেয়েকে হত্যার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের শিশুকন্যা ইলমাকে হত্যা করতে হবে। এ জন্য দেওয়া হবে ৩০ লাখ টাকা। মেয়েকে হত্যায় সহযোগিতা করতে আপন বাবা আবদুল মোতালেবের সঙ্গে এমনই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী রাতের আঁধারে জামাইকে দিয়ে মেয়ে ইলমাকে ধানক্ষেতে ডেকে নেওয়া হয়। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়ে ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুম। এ সময় বাবা মোতালেব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সহায়তা করে।
আজ থেকে ৫ বছর আগে হত্যাকাণ্ডটি নরসিংদীর বাহেরচর গ্রামে ঘটে। এতদিন পর ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় নরসিংদীর সদর এলাকা থেকে বাবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো বাবা আবদুল মোতালেব, মঙ্গলী বেগম, ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, মো. বাতেন ও গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভুইয়া।
সোমবার সকালে রাজধানীর মালিবাগস্থ সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ ১১ বছর বয়সি ইলমার মৃতদেহ নরসিংদী থানাধীন বাহেরচর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। ইলমা বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল বলে জানান তিনি।
ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, নরসিংদীর বাহেরচর গ্রামটিতে শাহজাহান ভূইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্ব›দ্ব ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার উদ্দেশ্যে মাসুম তানিয়াকে তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসে। পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, মাসুমের ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এরপর মূলত দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করার জন্য শাহজাহানের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১ মার্চ রাতে মাসুমসহ ১৩ জন বৈঠক করে এবং বৈঠকে প্রতিশোধ নিতে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্উপ লিডার শাহজাহান মোতালেবকে তার মেয়ে ইলমাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যা করার প্রস্তাব দেয়। মোতালেবও লোভে রাজি হয়ে যায়। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই ও অন্যরা মিলে তাকে টাকা দেয় বাজার করার জন্য। টাকা পেয়ে ইলমা বাড়ির পাশে নুরা নামের এক ব্যক্তির দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আটজন মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যায়। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ইলমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ সময় ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম সিআইডিকে জানায়, ইলমার বাবা এ সময় ‘আগে টাকা ও পরে কাম সারো’ বলে টাকা দাবি করেছিল।
ইলমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে ইলমার বাবা মোতালেব বাদী হয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা করে। এত কিছুর পরও প্রকৃতপক্ষে হত্যাকাণ্ডের জন্য চুক্তিকৃত ৩০ লাখ টাকা ইলমার বাবা পায়নি বলে জানায় মাসুম। গ্রেফতার আসামি মাসুম মিয়া আদালতে ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডে তর ফুপাতো ভাই মাসুমকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।


Posted ৯:২৬ এএম | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement