• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মেয়ের লাশ দেখে ট্রেনের নিচে ঝাপ বাবার

    অনলাইন ডেস্ক: | ০২ জুলাই ২০১৭ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ

    মেয়ের লাশ দেখে ট্রেনের নিচে ঝাপ বাবার

    শোয়ার ঘরে ফ্যানের সঙ্গে মেয়ে মঞ্জুলার ঝুলন্ত লাশ দেখেছিলেন বাবা। এই মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী মনে হয় তাঁর। কয়েক ঘণ্টা পরই ছুটে বেরিয়ে যান। লাফ দেন চলন্ত ট্রেনের সামনে।


    বাবা-মেয়ের আত্মহত্যার মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বাইয়ের ভিরার এলাকায়। হতভাগ্য ওই বাবার নাম মুথুকৃষ্ণান নাইডু। ছত্রপতি শিবাজি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে খাদ্য সরবরাহের কাজ করতেন মুথুকৃষ্ণান। থাকেন ভিরার এলাকায় ভূমিকুঞ্জ ভবনে।

    ajkerograbani.com

    মঞ্জুলার ভাই জানকিরমন জানান, তাঁর বোন তালাকপ্রাপ্ত। ২৬ বছর বয়সী বোনকে আবার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বাবা। ২০১২ সালে চেন্নাইয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মঞ্জুলার। বিয়ের দুই মাস পরেই মঞ্জুলা শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসেন। চার মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়।

    জানকিরমনের ভাষ্য, বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও মঞ্জুলা তাঁর স্বামীকে ভুলতে পারেননি। তাঁর সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন। তিন মাস আগে মঞ্জুলার সাবেক স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তখন থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    দ্বিতীয়বার বিয়ে নিয়ে গত ২৮ জুন বাবা মুথুকৃষ্ণানের সঙ্গে মঞ্জুলার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। মঞ্জুলার তখন জ্বর ছিল। বাগ্‌বিতণ্ডার পর মঞ্জুলা ওষুধ খেয়ে শোয়ার ঘরে চলে যান। মুথুকৃষ্ণান রাতের খাবার খাওয়ার জন্য মঞ্জুলাকে ডাকেন। তবে মঞ্জুলা দরজা খোলেননি।

    পরদিন সকালেও দরজা খোলেননি মঞ্জুলা। ভাই জানকিরমন দরজা ভেঙে ফেলেন। এরপর বোনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। মঞ্জুলা আত্মহত্যার কোনো চিঠি লিখে যাননি। মুথুকৃষ্ণান মঞ্জুলার নিথর দেহ দেখে কোনো কথা বলেননি। ভাই জানকিরমন মঞ্জুলাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। চিকিৎসক মঞ্জুলাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর জানকিরমন ভিরার থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

    জানকিরমন বলেন, মঞ্জুলার মৃত্যুর পর নিজেকেই বারবার দোষারোপ করছিলেন বাবা। তিনি মাকে বলছিলেন, জীবন শেষ করে দিতে চান। এরপরই ট্রেনের সামনে লাফ দেন। তাঁর অসুস্থ মা স্বামীকে সে সময় ঘর থেকে বের হতে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও অসুস্থ। তাই শেষরক্ষা আর হয়নি।

    জানকিরমন আরও বলেন, মঞ্জুলার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্য বাবা সব সময় নিজেকেই দায়ী করতেন। মাত্র ১০ দিনের মাথায় তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরেই শ্বশুরবাড়িতে অশান্তির কারণে মঞ্জুলা চলে আসেন। বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত কাজে মঞ্জুলা একাই চেন্নাইতে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। কিন্তু সাবেক স্বামীর মৃত্যুর পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মঞ্জুলা।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757