• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    মৌলবাদিদের আসলে কোন ধর্মই নাই

    শেখ কনক | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:৩৯ অপরাহ্ণ

    মৌলবাদিদের আসলে কোন ধর্মই নাই

    মৌলবাদ সেটা হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের ভিত্তিতে তারা যতই ভিন্ন হোক না কেন বর্বরতা নিষ্ঠুরতা এবং অমানবিকতায় তারা একদল। একেবারে সহোদর। আর এই সহোদরেরা যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে সে রাষ্ট্রও হারায় তার উদারনৈতিক, গনতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট্য। হাল আমলের আমেরিকা, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভারত তার উদাহরণ।

    ভারতের আসামে বর্তমান ভারতের হিন্দু মৌলবাদী দল বিজেপি কর্তৃক পরিচালিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন বা এন আর সি যে মূলত মুসলমান খেতাও আন্দোলন তা অনেকটাই পরিস্কার। আসামের কাছাড় জেলার দুবারের বিধায়ক (এম এল এ) আতাউর রহমান বিজেপির এন আর সির কোপে এখন বিদেশি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জুনিয়র কমিশন্ড (জে ও সি) মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধে বিরত্বের কারণে প্রেসিডেন্ট পদক পেয়েও এন আর সির কোপে তিনি তার তিন সন্তান সহ এখন বিদেশি। তবে গোল বেধেছে, যে প্রকৃয়ায় বিজেপি সরকার এন আর সি বাস্তবায়ন করছে তাতে করে আসামের মুসলমানদের চেয়ে প্রায় হিন্দুই বেশি ফেঁসে যাচ্ছেন। যার ফলে ভোল পাল্টাতে দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের। আসামে বিজেপির অর্থমন্ত্রী মি. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, এন আর সির তালিকাটি ত্রুটিযুক্ত বলে আবারও রাজ্যের কয়েকটি অংশে পুনবির্চনার জন্যে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করবেন। তিনি আরেক লাইন এগিয়ে বলেছেন, তাদের কোপের শিকার বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ রাষ্ট্রহীন মানুষের মধ্যে ১৫ লাখকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করবেন। একেবারেই মামা বাড়ির আবদার যেন! অবশ্য বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ১৯৭১ সালের পর একজন বাংলাদেশিও ভারতে যায় নি। তাছাড়া বাংলাদেশটি কি মগেরমুলুক, নাকি কার কদর রাজ্য যে যেনতেন অনুরোধ করলেই তা রক্ষা করতে হবে? সর্বপরি এন আর সি তে বাদ পড়ারা যে বাংলাদেশের নাগরিক তার প্রমান ও তো থাকতে হবে।


    অন্যদিকে ভারতের মৌলবাদী সরকার উল্লেখিত এন আর সি তে বাদপড়া মানুষদের সান্তনার নামে নির্মম ‘রশিকতা’ করে বলছে, বাদ পড়াদের এখনি জেলে যেতে হবে না। বাদপড়া মানুষেরা প্রথমে ট্রাইবুনালে যেতে পারবেন। সেখানে সুবিচার না পেলে হাইকোট সেখানেও সুবিচার না পেলে সুপ্রিমকোর্টে যেতে পারবেন। উল্লেখ্য যে বাদ পড়াদের অধিকাংশই হত দরিদ্র জনগোষ্ঠী। যাদের পক্ষে সত্যিই দিল্লি বহুদূর!

    যদিও গত শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মি. রবিশ কুমার এন আর সি নিয়ে হজবরল বিশেষ করে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বুঝতে পেরে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন তাতে তিনি বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ না করলেও বর্তমানে ভারতের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মধ্যে (কেবল ভুটান বাদে) একমাত্র বহুপাক্ষিক সু-সম্পর্ক বিরাজমান বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে এন আর সি নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকার সান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু বিবৃতিতে তিনি এটাও নিশ্চিত করেন নি যে, অদূর ভবিষ্যতে এই এন আর সি’র খড়ক বাংলাদেশের ঘাড়ে এসে পড়বে না। সুতরাং বাংলাদেশকে সদা সর্বদা সতর্কই থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মৌলবাদীদের আসলেই কোন ধর্ম নাই।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী