শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যমুনায় বিলীন হচ্ছে গ্রামটি

ডেস্ক রিপোর্ট   |   রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

যমুনায় বিলীন হচ্ছে গ্রামটি

যমুনার ভাঙনে দিশাহারা গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিপুলিয়া এলাকায় নদীতীরবর্তী মানুষজন। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩০ পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে একটি আদর্শ গ্রাম, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, একটি ঈদগাহ মাঠসহ কয়েকশ পরিবারের ঘরবাড়িসহ শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন নদীপাড়ের এসব মানুষ।

ঈদের আগের দিন থেকে ভাঙন শুরু হলেও তা তীব্র আকার ধারণ করে গতকাল শনিবার। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩০টি পরিবার তাদের সর্বত্র হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে। গৃহহীন মানুষগুলো আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন উঁচু ফাঁকা স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। হুমকির মুখে পড়া পরিবারগুলো আগেভাগেই ঘরের আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।


শনিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা নদীপাড়ে বসে অশ্রু চোখে শুধু ভাঙনের দৃশ্য দেখছে। হুমকির সম্মুখীন পিপুলিয়া গ্রামের প্রায় ১৫০টি পরিবার অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছে বাড়ি-ঘর, আসবাবপত্র, গাছপালাসহ সম্ভাব্য জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে।

ভাঙনকবলিত পিপুলিয়া গ্রামের ফয়দুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেউ খোঁজ রাখেন না অসহায় এ মানুষগুলোর। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় কার্যকরী কোনো ভূমিকা রাখেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।


পিপুলিয়া গ্রামের সুরুজ্জামান, বেলাল হোসেন ও কাশেম বলেন, নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ভাঙন আতঙ্কে রাতে দু’চোখে ঘুম আসে না। শুধু একটাই চিন্তা, কখন যে ঘরসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যায়। অবশেষে হলোও তাই। যমুনায় বিলীন হলো মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও। আমাদের মতো আরও অনেকে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, যমুনার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে আত্মীয়ের বাড়িতে ছাপড়া তুলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এখন কী করব, কোথায় যাব ভেবে দু’চোখে অন্ধকার দেখছি। একই এলাকার হালিমা বেগম বলেন, যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব-অসহায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি।

ফুলছড়ি উপজেলার ঠিকাদার জসিজল হক জানান, জিওব্যাগ ফেলে পিপুলিয়া এলাকায় নদীভাঙন রোধ জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার স্কুল, পিপুলিয়া সরকারি আদর্শ গ্রামসহ পিপুলিয়া গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মণ্ডল জানান, পিপুলিয়া গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের বসবাস। নদীভাঙনের কবলে পড়ে ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনকবলিতদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙন ঠেকাতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। গাইবান্ধা থেকে পিপুলিয়া এলাকার দূরত্ব অর্ধশত কিলোমিটারের বেশি। তারপরও ওই এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০