• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিআরটিএ ও ট্রাফিকের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

    যশোরে ফিটনেসবিহীন যানবহনে সয়লাব

    নিজাম উদ্দিন শিমুল(যশোর ব্যুরো প্রধান) | ১২ মে ২০১৭ | ১০:৪১ অপরাহ্ণ

    যশোরে ফিটনেসবিহীন যানবহনে সয়লাব

    যশোরে চলাচলের অনুপযোগী বিভিন্ন যানবহনের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে । সারাদেশে এ সকল যানবহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত অভিযান চললেও কার্যত তেমন কোন অভিযান চলছে না যশোরে। এতে করে লক্কর ঝক্কর যানবহনের অবাধ চলাচলের ফলে একদিকে যেমন যাত্রীরা দূর্ঘটনার ঝুকিতে আছে অন্যদিকে যশোর বিআরটিএ প্রতিবছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারী রাজস্ব হারাচ্ছে।অথচ এসব বিষয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের। পদক্ষেপ হিসেবে মাসে কয়েকবার হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ীকে ভাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা আর বাৎসরিক নোটিস ছোড়াছুরির মধ্যদিয়েই চলছে খেলাপি আদায়ের কার্যক্রম।
    বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় যানবহনে চলাচলের জন্য চরম হুমকির মুখে পরেছে যাত্রীরা।
    বিআরটি এ সুত্র যানায়, যশোরে প্রায় ৮-৯ হাজার (আনুমানিক) নিবন্ধিত বাস,মিনি বাস,ট্রাক,মিনি ট্রাক,পিকআপ চলাচল করছে। এরমধ্যে প্রায় ৪ -৫ হাজার (আনুমানিক) যানবহন রয়েছে ফিটনেসবিহীন। বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর বিআরটিএ অফিসের মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন ,আমরা খেলাপীদের প্রতিনিয়ত তাগিদ দেই। কেউ আসে আর অধিকাংশই আসেনা।
    এদিকে মোটরযান আইন বলছে, যানবাহনের ফিটনেস সনদ পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে কারিগরি ও বাহ্যিকভাবে চলাচলের উপযোগী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে যানবাহনের ৬০টির মতো কারিগরি ও বাহ্যিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসব বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যানের ইঞ্জিনের পুরো কার্যকারিতা, আকৃতি ও নিবন্ধনের সময় উল্লেখ করা ওজন ঠিক আছে কি না, কালো ধোঁয়া বের হয় কি না এবং ব্রেক, লাইট ও বাহ্যিক অবয়ব ঠিক আছে কি না। এসব বিষয় নিশ্চিত হলেই ফিটনেস সনদ দেওয়ার নিয়ম। বিআরটিএর হিসেবে যশোরের ৫০ শতাংশ যানবহনের ফিটনেস সনদ নেই । তবে


    বিশেষঙ্গরা বলছেন, পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন,খালি চোখে দেখলেই মনে হয় যশোরে যানবাহনের ৬০ শতাংশই অনুপযুক্ত । ফিটনেস দেওয়ার প্রদ্ধতিতেও গলদ রয়েছে। সড়কে আইনের প্রয়োগও কম। যশোরে যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেই যেমন সত্য, তেমনি যেসব যানের সনদ আছে, যন্ত্রে পরীক্ষা হলে সেগুলোর একটা বড় অংশই চলাচলের উপযুক্ততা হারাবে। তারা আরো বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলার পেছনে কতগুলো কারণ আছে। বিআরটিএর একশ্রেণীর কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে অনেক সময় যানবাহন না দেখেই সনদ দিয়ে দেন। আবার কখনো কখনো বিআরটিএর কিছু কর্মকর্র্তাদের সাথে আতাত করে সনদ না নিয়েই মালিরকেরা গাড়ি চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাদের অভিমত, পুলিশ সড়কে কঠোর অবস্থান নিলে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল কমে যাবে।
    সূত্র জানায়, ফিটনেসবিহীন যানের বড় অংশ চলছে যশোর ও এর আশপাশের উপজেলাতে। আর কিছু চলছে দূরের পথে।
    জনসাধারনের জন্য বিশেষ করে বাসের ব্য্যবহারটিই বেশী। সেক্ষেত্রে যশোরের বিভিন্ন বাস স্টান্ড ঘুড়ে দেখা যায়,যশোর নিউমার্কেট থেকে মাগুরা রুটে, মনিহারের সামনে থেকে মনিরামপুর, কেশপপুর, নড়াইল ষ্টান্ড থেকে নড়াইল, লোহাগাড়া, কালনা বাঘারপাড়া, যশোর কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল থেকে ছুটিপুর, চৌগাছা,বেনাপোল,সাতক্ষীরা সহ বেশ কিছু রুটে যে সব বাস চলাচল করে তার অধিকাংশ বাসের ফিটনেস সনদ নেই। তাছাড়া বিভিন্ন ট্রাক ষ্টান্ড গুলোর অধিদকাংশ ট্রাকগুলোর একই হাল। এসব যানবহনের মালিকেরা নিবন্ধনের পর আর কোনদিন ফিটনেস সনদ নেইনি । আবার কোন কোন যানবহনের নিবন্ধন সনদের মেয়াদ উত্তির্নের হলেও তারা সনদ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননা।
    এসব যানবহনের ইনজিনের অবস্থা শোচনীয় , গাড়ির রং চটা ,অনেক বাসে সিটের বদলে বেন্স, লুকিং গ্লাস নেই, লাইট জলে আবার জ্বলেনা, দেধারছে বেরোচ্ছে কালো ধুয়া ফলে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ, ব্রেকের রয়েছে ত্রুটি,আর এভাবেই প্রতিদিন চলছে হাজার হাজার বাস,ট্রাক পিকআপ সহ নানা যানবহন । এমন কি যশোরে এমন বাস দেধারছে চলছে তাদের কোন রেজিষ্টেশন প্লেট পর্যন্ত টঙ্গানো থাকেনা অথচ এসব বিষয় নিয়ে ট্রাফিকের কোন মাথা ব্যথা নেই।
    এদিকে যানা যায় ,সেসব যানবহনের ফিটনেস আছে সেসব যানের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে ফিটনেস পরিক্ষা নেওয়া হয়না। এগুলোর সব বিআরটিএর পরিদর্শকেরা চোখে দেখে পরিক্ষা নেন।
    আরো জানাযায়, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে একটি ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ে বসানো হয় একটি যন্ত্র আর ওই যন্ত্রের উপর গাড়ি উঠিয়ে যান্ত্রিক ভাবে গাড়ীর ফিটনেস পরিক্ষার করে ফিটনেস সনদ গ্রহন করার নিয়ম করা হয়। কিন্তু তা ২০০১ সালেই বিকল হয়ে পরে। তারপর ১৬ বছর পার হয়েগেলেও ওই যন্ত্রটি সচল করতে পারেনি খুলান বিভাগীয় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।
    এদিকে অবাধ ফিটনেসবিহীন যান চলাচলে একদিকে যেমন যাত্রীরা ঝুকির মধ্যে রয়েছে তেমনি প্রতিবছরে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বনচিত হচ্ছে।
    বিআরটিএর অন্য এক সুত্র জানায়, ফিটনেস সনদ ফি বাবদ প্রতিবছরে বাস, মিনিবাস, ট্রাক এর জন্য ১ হাজার ৬শ’ ৫ টাকা(ভ্যাট সহ) ও মিনিট্রাক,পিকআপ সহ অন্যান্য যানের জন্য ১হাজার ৮৭ টাকা (ভ্যাট সহ) নির্ধারন করা রয়েছে।
    যশোর বিআরটি এর ভাস্য মতে প্রায় ৪হাজার ফিটনেসবিহীন যান রয়েছে যশোরে। অথচ এসব গাড়ীথেকে ফিটনেস সনদ গ্রহন বাবদ কোন অর্থ সরকার পাচ্ছেনা। সে হিসেবে ২ হাজার বাস, মিনিবাস, ট্রাক ধরলে বছরে ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং আন্যান্য যানবহন ২ হাজার ধরলে বছরে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে প্রতিবছর সর্বমোট ৫৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারী রাজস্ব খাতে জমা পড়ছে না। সে হিসেবে বলা যায় সরকার প্রতিবছর বিআরটিএর ফিটনেস ফি বাবদ প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্বথেকে বনচিত হচ্ছে।
    জানতে চাইলে বিআরটিএর যশোরের সহকারী পরিচালক (ইন্জি) সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন অগ্রবাণীকে বলেন, যশোরে যে সব ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলছে তাদেরকে ধরতে প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালানো হয়, এছাড়া এসব যানবহনের ফিটনেসসনদ পরিক্ষা ও প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।তারা প্রতিনিয়ত মিটিং করে খেলাপীদের একাধিকবার খেলাপি নোটিস পাঠানো হয়েছে।তাদের কেউ কেউ ফি জমা দিচ্ছেন। তাছাড়া মালিক সমিতি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন কেউ খেলাপি টাকা পরিশোধে একাধিকবার যানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে যশোর বিআরটিএ গুরুত্বের সাথেই কাজ করে যাচ্ছে।
    এদিকে বছরে সরকারী অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব খোয়া যাবার বিষয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যা বিআরটিএর একার পক্ষে সম্ভাব নয়। এ সমস্যা নিরাসনে যান শংশ্লিষ্ট প্রতিটি মহল কে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও এসব সমস্য সমাধানে পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
    এদিকে অভিযোগ রয়েছে,যাদের এসমস্যা সমাধানে মুল ভুমিকা তারাই বিষয়টা গরিমষি করে।
    যশোর ট্রাফিক অফিস সুত্রে যানা যায়,ট্রাফিক অফিসের একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও একজন সিনিয়ার সার্জেন্ট এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে প্রতিমাসে মাসোয়ারা আদায় করেন। সেকাজে নিযুক্ত আছেন একজন এটিএস আই,ও ৪ জন কনেস্টবল।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে তারা এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ীগুলোর নামে ভুয়া কেস শ্লিপ বিক্রি করে ওইসব গাড়ীগুলোকে রাস্তায় নামার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এতে করে যশোরের বাইরে গেলেও কেসশ্লিপ দেখিয়ে ফিটনেস সনদ যশোর ট্রাফিক অফিসে আটক বলে বাইরের জেলা থেকে পারপেয়ে যাচ্ছে । এসব গাড়ী গুলো ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিয়ে মাসের পর মাস কেস শ্লিপ নিয়ে অবৈধ ভাবে রাস্তায় চলাচল করছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে যশোর ট্রাফিক অফিসের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাখাওয়াত হোসেনের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন,কি পরিমান ফিটনেবিহীন যানবহন আছে সেটা আমার জানা নেই। তিনি আরো বলেন,সেটা বি.আরটি এ ভালো বলতে পারবে। অবৈধ মাসোয়ারা আদায় ও ভুয়া কেসশ্লিপ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইন কেটে যায়। পরবর্তিতে তাকে কল করলে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
    এবিষয়ে সড়ক পরিবহন এৗক্য পরিষদের দক্ষিন পশ্চিম অনচলের আহবায়ক ও যশোরবাস,মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আলী আকবার সাথে কথা বললে তিনি গ্রামেরকাগজকে বলেন,যশোরে যেসব বাসের ফিটনেস নেই সেসব বাসের তালিকা আমরা বিআরটিএর কাছে জমা দিয়েছি এবং তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তিনি আরো বলেন,আমি ইতিমধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবহনের মালিকদের লিখিত নোটিস দিয়েছি, সেখানে উল্লেখ ছিলো চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে ফিটনেস সনদ গ্রহন করতে হবে অন্যথায় সেসকল গাড়ীর কোন দ্বায়ভার আমরা গ্রহন করবো না। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে এসব গাড়ির মালিকদের এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের জেল এবং শ্রমিকদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রেখে একটি আইন পাশ হচ্ছে বলে নোটিসের মাধ্যমে তাদেরকে অবগত করা হয়েছে।

    ajkerograbani.com

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757