• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    যাচ্ছে সোনা আসছে মাদক

    যশোর প্রতিনিধি: | ২৭ মার্চ ২০১৭ | ৬:১৪ অপরাহ্ণ

    যাচ্ছে সোনা আসছে মাদক

    যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা। আর ভারত থেকে আসছে হেরোইন ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা। বিজিবি ও পুলিশের হাতে প্রায়ই চোরাকারবারিরা আটক হলেও থেমে নেই তাদের অবৈধ ব্যবসা।
    বিভিন্ন পেশার মানুষেরা এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার পর এসব চোরাকারবারির আসল রূপ বেরিয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে সোনার বারসহ বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন একজন গ্রাম্য ডাক্তার, কাপড় ব্যবসায়ী এবং সমাজের কিছু কথিত বিশিষ্ট ব্যক্তিও।
    বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার প্রতিটি সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে কম বেশি চোরাচালান হলেও এখন চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট বেনাপোল, দৌলতপুর, সাদীপুর, গাতিপাড়া, পুটখালি, রঘুনাথপুর, ঘিবা ও শিকারপুর সীমান্ত। গত কয়েক মাসে যে সমস্ত সোনার বার, বৈদেশিক মুদ্রা ও মাদকদ্রব্য আটক হয়েছে, তা সবই এসব সীমান্ত থেকে।
    গত ৩ মার্চ বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে দুই কেজি ৩০০ গ্রাম (২০ পিস) সোনার বারসহ টিটু বিশ্বাস নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করে বিজিবি। আটক টিটু বিশ্বাস বেনাপোলের গাতিপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি একজন পশু ডাক্তার।
    একই দিন ভারতে পাচারের সময় বেনাপোলের পুটখালি সীমান্ত থেকে ২৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
    ১ মার্চ সন্ধ্যায় বেনাপোলের বারপোতা সীমান্ত থেকে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ উজ্জ্বল হোসেন (২২) নামে এক মুদ্রা পাচারকারীকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটক উজ্জ্বল পোর্ট থানার পুটখালী গ্রামের মৃত কুদ্দুস আলীর ছেলে।
    ২৮ ফেব্রুয়ারি শার্শার নাভারন মহিলা কলেজের সামনে থেকে সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যশোর সদর উপজেলার আলমনগর পূর্বপাড়ার বাবর আলীর ছেলে মনির হোসেন তৌহিদ (২৩) ও একই উপজেলার ঘোষপাড়া শংকরপুর এলাকার বাবু শেখের ছেলে রানা শেখ (৩৪) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
    ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বেনাপোল বাজার থেকে কাপড় ব্যবসায়ী বজলুর রহমানকে ভারতে পাচারকালে এক কেজি ৮০০ গ্রাম (১৪ পিস) সোনাসহ আটক করে বিজিবি। আটক বজলুর রহমান বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামের নেসার উদ্দিনের ছেলে।
    ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতে পাচারকালে বেনাপোলের পুটখালী চরের মাঠ থেকে দশ লাখ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
    ২৫ জানুয়ারি বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তের ঘোনার মাঠ এলাকা থেকে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা জব্দ করে বিজিবি।
    ১০ জানুয়ারি বেনাপোলের ঘিবা সীমান্ত থেকে ১০০ কেজি গাঁজাসহ রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। আটক রফিকুল বেনাপোল পোর্ট থানার দুর্গাপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।
    ৯ জানুয়ারি বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে ৬২ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন, রঘুনাথপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রুস্তম আলী (৫৫) ও তার স্ত্রী মনিরা বেগম (৪৫)।
    একই দিন বেনাপোলের পুটখালি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় বাংলাদেশি চার লাখ দুই হাজার ৭৫০ টাকাসহ জাফর হোসেন (৪৫) নামে এক মুদ্রা পাচারকারীকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা।
    ৬ জানুয়ারি শার্শার শিকারপুর সীমান্ত থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে বিজিবি। আটকদের মধ্যে মফিজুর রহমান নামে একজন ইউপি সদস্য এবং জাকির ও মজিবর নামে দুইজন ভারতীয় নাগরিক।
    গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বেনাপোলের সাদিপুর গ্রাম থেকে এক কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে যশোরের গোয়েন্দা পুলিশ। আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন, সাদিপুর গ্রামের সোবহান গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে শওকত আলী। একই সময়ে ভারতে পাচারের সময় বেনাপোল সীমান্তের শিকড়ি বটতলা নামক স্থান থেকে দেড় কেজি ওজনের ১২টি সোনার বারসহ আসানুর রহমান নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করে বিজিবি। তিনি বেনাপোলের দৌলতপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
    এদিকে সোনা পাচারকারীদের যে সব সদস্য ধরা পড়ছেন, তারা বলছেন, ‘আমরা বাহকমাত্র। কিছু টাকার বিনিময়ে এসব সোনা একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়াই আমাদের কাজ।’
    কিন্তু তাদের কাছে সোনার বারগুলো কারা দিয়েছেন, তা জানাতে নারাজ পাচারকারীরা। পুলিশের রিমান্ডে তারা নাম বলেন ভারতীয় কোনো নাগরিকের; মেলে ঠিকানা। পরে প্রকৃত সোনার মালিকেরা এসব আসামিদের আদালত থেকে জামিন করিয়ে নেন। আটক আসামিরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
    ২১ বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আরিফুল হক জানান, সোনা চোরাচালানে অনেক লাভ হওয়ায় এ ব্যবসা থেকে তারা সরে যাচ্ছেন না। কেউ কেউ ধরা পড়ছেন। বাকিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার কাজ অব্যাহত রাখচেন। বাইরের দুনিয়া থেকে সোনা নিয়ে এলে ভারতে শুল্ক অনেক বেশি লাগে। সে কারণে বাংলাদেশ হয়ে সোনা চোরাচালান হচ্ছে।
    তিনি বলেন, ‘বেনাপোল সীমান্ত থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার হওয়ায় বেনাপোলই সোনা পাচারের জন্য চোরাচালানিদের প্রথম পছন্দ। আর হুন্ডির মাধ্যমে যেসব বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হচ্ছে তার সবই গরু বিক্রির টাকা। তারপরও আমাদের বিজিবি জওয়ানরা পাচাররোধে সব সময় সতর্কতার সাথে কাজ করছে।’


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669