বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২০

যাত্রাবাড়ি-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে: মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় উপহার

আর কে চৌধুরী   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

যাত্রাবাড়ি-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে: মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় উপহার

আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপন শুরুর প্রাক্কালে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হলো দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন যাত্রাবাড়ি-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সসেস কন্ট্রোল ননস্টপ এক্সপ্রেসওয়ে। এর ফলে ভ্রমণের পাশাপাশি খুব কম সময়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে যাতায়াতকারীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ১২ মার্চ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আধুনিক ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা’ সমৃদ্ধ ৬ লেনের এ মহাসড়কটিতে স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য থাকছে দুই লেনের সার্ভিস রোড। এছাড়াও রয়েছে ৪টি করে ফ্লাইওভার, রেলওয়ে ওভারব্রিজ, বড় ব্রিজ এবং ১৯টি আন্ডারপাসসহ বিশ্বমানের সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এক্সপ্রেসওয়েটিতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারবে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সে হিসেবে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ২৭ থেকে ৩০ মিনিট। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে ২০১৬ সালে চারটি জেলা– ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করে এবং এটি নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাস আগে নির্মাণকাজ শেষ করে।
৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে চারটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ রয়েছে এবং চারটি বড় সেতু রয়েছে যার মধ্যে ৩৬৩ মিটার ধলেশ্বরী- ১, ৫৯১ মিটার ধলেশ্বরী- ২, ৪৬৬ মিটার আড়িয়াল খান এবং ১৩৬ মিটার কুমার সেতু।
বাংলাদেশের বর্তমান অভাবনীয় ও ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূলে যে সড়ক যোগাযোগ অন্যতম প্রধান নিয়ামক সে বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা চলে না। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে তখন সড়ক যোগাযোগ বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। এমনকি ছোট-বড় ব্রিজ কালভার্ট- সেতুগুলোও ছিল যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত, ভাঙ্গাচোরা ও বিপদসঙ্কুল। অথচ বর্তমানে সারাদেশের সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে সুপ্রশস্ত, সুন্দর ও মসৃণ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। সময় সময় অতিবর্ষণ ও বন্যায় সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেসব সাময়িক দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। সওজের উদ্যোগ ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সেসব মেরামতও করা হয়। অধুনা ব্যস্ত মহাসড়কগুলো চার লেন ও আট লেনে উন্নীত করা হচ্ছে, সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত, ব্যয়সাশ্রয়ী সর্বোপরি সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু অবহেলিত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রশস্ত করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নও বর্তমানে দৃশ্যমান অনেকটাই। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই সেতু সচল হলে দক্ষিণ বাংলার সঙ্গে সড়ক ও রেলযোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অফুরান সম্ভাবনাসহ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যা যোগ করবে বাড়তি মাত্রা। এর বাইরেও নির্মিত হচ্ছে রাজধানীতে মেট্রোরেল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি। তবু স্বীকার করতে হবে যে, দেশে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অত্যন্ত বেশি। সে কারণে অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত সড়ক দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও ব্যাপক। এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক জাতিসংঘ।
১৯৭০ এর নির্বাচনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আমি বঙ্গবন্ধুর আসনের সমন্বয়েক দায়িত্বে ছিলাম। আমার যাত্রাবাড়ির বাড়ির সামনে (যাত্রাবাড়ি মোড়ে) জনসভার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেদিন বলেছিলেন ‘আমি যাত্রাবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করলাম’। যাত্রাবাড়ি-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর আমার একটি বিষয় মনে পড়ছে, বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ এর নির্বাচনে আগে বলেছিলেন আমি যাত্রাবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করলাম। তার মেয়ে আজ ২০২০ সালে এসে সেই যাত্রাবাড়ি থেকেই বাংলাদেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন যাত্রাবাড়ি-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রা করালেন। যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা। তাইতো বলতে হয়, পিতা দিলেন স্বাধীনতা, কন্যা দিলেন উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিশ্বে প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী, অনুকরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মূল্যবোধ, কৃষি, অর্থনীতি, রেমিটেন্স, বিদ্যুৎ, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশবাসীকে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। শুধু আর্থিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দেশ থেকে জঙ্গীবাদ নির্মূল হয়েছে, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন রকমের সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
শুধু দেশেই নয় আন্তজার্তিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশের সফলতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন ও নানাবিধ সম্মানে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে। বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ছাড়া এমন গুণাবলি সম্পন্ন আর কোনো নেতা বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। এ কারণে তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতার তুলনা চলে না, শেখ হাসিনা নিজেই নিজের তুলনা।
লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, উপদেষ্টা, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।


Posted ৯:৩৩ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement