সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যাদের কারণে সুনামহানি হয়েছে আওয়ামী লীগের

ডেস্ক   |   বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

যাদের কারণে সুনামহানি হয়েছে আওয়ামী লীগের

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার ১ বছর পূর্ণ করলো। এই ১ বছরে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেমন রেখেছে তেমনি অনেক নেতাকর্মী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের জন্য দলের বদনাম হয়েছে এবং দল অস্বস্তিতে পড়েছে। ৭ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের অধিকাংশর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমন বিতর্কিত কয়েকজনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন;
ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট
ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্ত অভিযোগের কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই প্রকাশ্যে তার নাম উচ্চারণ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই প্রেক্ষিতেই ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেপ্তার হন এবং সরকার ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। ক্যাসিনো কার্যক্রম বন্ধ হলেও এটা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কারণে আওয়ামী লীগের সুনামহানি ঘটেছে।
নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন
নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন আওয়ামী লীগের এমপি এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তার ব্যাংক হিসেব জব্দ করে। আওয়ামী লীগের একজন এমপি হবার পরেও তিনি নানা রকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন নিখোঁজ।
ওমর ফারুক চৌধুরী
যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে যুবলীগ একটি সুসংগঠিত সংগঠন ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাস থেকে যুবলীগের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা রকম অভিযোগ উঠতে থাকে এবং এসকল অভিযোগের পর যুবলীগ চেয়ারম্যান হিসেবে ওমর ফারুক চৌধুরী বিতর্কিতদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আর একারণেই যুবলীগের কংগ্রেসের আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসেব জব্দ করা হয় এবং বিদেশ যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। গত ১ বছরে ওমর ফারুক চৌধুরীও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত একজন।
মোল্লা আবু কাওসার
মোল্লা আবু কাওসার আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধেও ক্যাসিনো বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। আর এ কারণে তার ব্যাংক হিসেব জব্দ করা হয় এবং বিদেশ যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মোল্লা আবু কাওসারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।
শোভন-রাব্বানি
শোভন-রাব্বানি যদিও দুজন ব্যক্তি, তবুও তাদের কার্যক্রম এক অভিন্ন ধারায় পরিচালিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বাছাই করে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন। কিন্তু তারা নির্বাচিত হবার পরেই নানা রকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দল থেকে বহিষ্কার করেন।
এই পাঁচজন ছাড়াও বিতর্কিতদের তালিকায় ছিলেন হুইপ শামসুল হক, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথসহ আরও অনেকে। আর এই সমস্ত বিতর্কিত লোকদের জন্য আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

Facebook Comments Box


Posted ৫:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০