বুধবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যাদের মাস্ক পরা জরুরি

ডেস্ক   |   শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

যাদের মাস্ক পরা জরুরি

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, শুধুমাত্র দুই ধরনের মানুষের সুরক্ষা মাস্ক পরা উচিত। প্রথমত যারা অসুস্থ,যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছে বা যাদের করোনাভাইরাস হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের। দ্বিতীয়ত, এসব লোকজনকে যারা দেখভাল করছেন তাদেরও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য মাস্ক ব্যবহারের সুপারিশ করছেন না ডব্লিউএইচও। তার কারণ হচ্ছে- মাস্ক পরা বা খোলার সময় সেগুলো অন্য মানুষের কাশি এবং হাঁচির কারণে সেগুলো বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। মাস্ক পরার চেয়ে ঘনঘন হাত খোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অনেক বেশি কার্যকরী। এছাড়াও মাস্ক পরার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের মিথ্যা নিরাপদ থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। সেটি হচ্ছে- আমরা তো মাস্ক পরেছি আমাদের কিছু হবেনা।
সংক্রমিত কেউ যখন কথা বলেন, কাশি দেন বা হাঁচি দেন, তখন খুব ক্ষুদ্র আকারে করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। সরাসরি স্পর্শ বা বিষাক্ত কোন বস্তুর মাধ্যমে সেগুলো চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে সেগুলো শরীরের ভেতর প্রবেশ করতে পারে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন গবেষণা করে বোঝার চেষ্টা করছে যে, সাধারণ মানুষজনও মাস্ক ব্যবহার করে উপকার পায় কিনা। তারা পরীক্ষা করে দেখছেন যে, ভাইরাসটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া যায় কিনা।
ঘরে বানানো মাস্ক কাজ করে?
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সে দেশের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, করোনাভাইরাস উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বাইরে গেলে তারা যেন মাস্ক ব্যবহার করেন অথবা তাদের মুখমণ্ডল স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাদুর্ভাবের প্রধান কেন্দ্র, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের এর আগেই এই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেছেন, ‘এটা একটা স্কার্ফ হতে পারে। আপনার বাড়িতে তৈরি কিছু একটা হতে পারে।’
তবে এ ধরণের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেডিকেল ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ অনুসরণ করছে সরকার।
ইংল্যান্ডের ডেপুটি চীফ মেডিকেল অফিসার প্রফেসর জোনাথন ভ্যান টম বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, এসব মাস্ক পরে সুস্থ মানুষজনের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা।’
পুনরায় ব্যবহার উপযোগী কাপড়ের মাস্কগুলোর ব্যবহারও স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং সেগুলো বরং সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িতে দিতে পারে বলে বলছেন ইউরোপিয়ান বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই কাপড়ের ভেতর দিয়ে ভাইরাস চলে যাওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
তারপরেও ঘরে বসে কীভাবে মাস্ক তৈরি করতে হয়, এ নিয়ে অনলাইনে অসংখ্য পরামর্শ দেখতে পাওয়া যায়।
কিন্তু ঘরে বানানো মাস্কের মানের বিষয়টি কোন পর্যালোচনা বা যাচাই বাছাই করা হয় না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বানানো মাস্কগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে তৈরি করতে হয়।
কোন ধরণের মাস্ক সবচেয়ে ভালো?
হাসপাতালে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের মাস্ক বিভিন্ন ধরণের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দেয় যে মাস্কটি, সেটি হলো এফএফপি৩ অথবা এন৯৫ অথবা এফএফপি২, যেগুলোয় একটি বাতাস পরিশোধনের যন্ত্র থাকে।
তবে জনসাধারণের জন্য এসব মাস্ক ব্যবহারের সুপারিশ করেন না বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের জন্য, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসেন এবং বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
এরা হচ্ছেন সেই সব চিকিৎসক, সেবিকা বা স্বাস্থ্যকর্মী, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা সম্ভাব্য রোগীদের এক মিটারের মধ্যে থাকেন। এই কর্মীরা হাসপাতাল, প্রাথমিক সেবা, অ্যাম্বুলেন্স অথবা বাড়িতে সেবাদানকারীরাও হতে পারেন।
অন্য যেসব স্বাস্থ্যকর্মীরা কম ঝুঁকিতে থাকেন, তারা সার্জিক্যাল মাস্ক পরতে পারেন।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আর কি সুরক্ষা দিতে পারে?
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ পরামর্শ দিয়েছে যে, করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে হতে পারে, এমন সব ক্ষেত্রে গ্লাভস এবং অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত।
বিশেষ করে যেসব স্বাস্থ্য কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের শুধুমাত্র অ্যাপ্রন, মাস্ক, হাতমোজা ও চশমার বাইরেও সব ধরণের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।
কিন্তু সাধারণ জনগণকে গ্লাভস বা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়নি।
করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ যেসব পরামর্শ দিয়েছে, তা হলো:
বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর সাবান ও পানি দিয়ে ঘনঘন এবং অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।
সাবান ও পানি পাওয়া না গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
কাশি বা হাঁচি দিলে হাত দেয়ার বদলে একটি টিস্যু অথবা কনুই ব্যবহার করা উচিত।
কাশি বা হাঁচি দেয়ার পরেই ব্যবহৃত টিস্যু ময়লার বাক্সে ফেলে দিতে হবে এবং হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
হাত পরিষ্কার না থাকলে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebook Comments Box


Posted ৩:৫১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১