• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে সর্বত্র আলোচনায় শেখ মারুফ, মাশরাফি ও শেখ তন্ময়

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে সর্বত্র আলোচনায় শেখ মারুফ, মাশরাফি ও শেখ তন্ময়

    যুবলীগে চলছে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান। চলমান শুদ্ধি অভিযানে লণ্ডভণ্ড এ সংগঠনের ভাবমূর্তি ফেরাতে শিগগিরই সম্মেলন করে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। ২০ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই যুবলীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন হতে পারে।


    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে একাধিক প্রাক্তন যুবলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে যুবলীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন। এসব আলাপচারিতায় যুবলীগের নতুন সম্মেলনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।


    ছাত্রলীগের বিষয়ে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    তেমনি এবার যুবলীগের বিষয়টি নিয়েও তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। ছাত্রলীগে যেহেতু শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং তার সত্যতা পেয়েছেন তাই দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে দুজনকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যুবলীগের অনেকেই জড়িয়ে গেছেন অপরাধ জগতে। এ ছাড়া কমিটিও পাঁচ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। তাই ইমেজ পুনরুদ্ধারে যুবলীগে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প দেখছেন না আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সব সংগঠনের যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে সেসব কমিটির সম্মেলন শেষ করতে হবে।

    আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ১০ বছর ধরে যুবলীগের নেতৃত্বে রয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি যুবলীগের নেতৃত্ব কারও হাতে তুলে দিতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কে হবেন যুবলীগের নতুন নেতা? কে পারবেন যুবলীগের ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতি নির্ধারক বলছেন যে, একজন ভালো সংগঠক হওয়ার চেয়ে একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব যুবলীগের ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ভাই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফের নাম আলোচনায় রয়েছে। শেখ মারুফ নিজেও যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

    তারুণ্যের আরেক আইকন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার নামও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসছে। বিগত নির্বাচনে মাশরাফি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভিন্নধর্মী চিন্তার মানুষ মাশরাফিকে তার ভক্তরা ম্যাশ নামেই ডাকে। নিজ এলাকায় গণমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেশ জুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। যুবলীগের ইমেজ পুনরুদ্ধারে ম্যাশকে দায়িত্বে আনার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

    যুবলীগের শীর্ষ পদের আলোচনায় আছেন তারুণ্যের আইকন শেখ সারহান নাসের তন্ময়। তিনি বাগেরহাট-২ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শেখ তন্ময় রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ২০১১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা শেখ হেলাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই।

    রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তন্ময়ের সরব উপস্থিতি ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গিতে দেওয়া বক্তৃতা সবার নজর কেড়েছে। রাজনীতি সচেতনরা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে পারেন তিনি। তন্ময় পেশায় ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী শিক্ষকতা করছেন। তন্ময় দায়িত্বে এলে যুবলীগের ইমেজ অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে দলের হাইকমান্ড। তবে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেষ পর্যন্ত কে হবেন সে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সফরের পরপরই তার ভারত সফর রয়েছে। এরপর দেশে ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগের ভাবমূর্তি একেবারে ধুলোয় মিশে গেছে। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন যুব নেতারা। তাদের অনেকেই অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকা আয় করেছেন গত কয়েক বছরে। সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পরপরই ছাত্রলীগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে। কিন্তু যুবলীগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নেতাদের তালিকা অনেক লম্বা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা থেকে অন্য নেতারা, মহানগর নেতারা এমনকি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেকের নামেই অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সংগঠনটি ঢেলে সাজানো দরকার। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই হয়তো এ বিষয়ে নির্দেশনা আসবে।

    যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর রশিদ। ২০১৬ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের আর সম্মেলন হয়নি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673