• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    যেদিন প্রদীপ নিভে গিয়েছিলো

    আল-মামুন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, হাবিপ্রবি শাখা, দিনাজপুর | ০৪ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

    যেদিন প্রদীপ নিভে গিয়েছিলো

    যার হাত ধরে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল, বাংলার গহীন অরণ্যে জ্বলেছিল আশার প্রদীপ, যিনি ছিলেন ইতিহাসের বাক ঘোরানো এক সিংহ পুরুষ তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷ বাঙ্গালি জাতির চরিত্র সম্পর্কে তার চেয়ে বেশী আর কেউ যেমন জানতেন না, তেমনি তার চেয়ে বেশী বাঙ্গালী জাতিতে কেউ ভালোও বাসতেন না৷ তবুও তিনি জীবনের বিনিময়ে মাত্র ৯ মাস সময়ে সেই জাতির জন্য রচনা করেন ইতিহাসের অমোঘ এক অধ্যায়৷

    কিন্তু ১৯৭৫ সারের ১৫ই আগষ্ট বাঙ্গালি জাতির সেই আলোর প্রদীপ নিভে গিয়েছিলো ইতিহাসের নৃশংস ও মর্মস্পর্শী সেই রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। যেদিন স্বপরিবারে হত্যা করেছিলো মহান এই জাতির নেতাকে কিছু ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল৷ বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর গোটা বিশ্বে নেমে এসেছিলো শোকের ছায়া৷ হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প৷ সেই সময়ে পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, বাঙ্গালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না৷ যে বাঙ্গালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে৷

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট মানব সভ্যতার ইহিতাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকান্ডের কালিমালিপ্ত বেদনা বিধুর এক শোকের দিন৷ ১৪ আগষ্ট রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী বিপদগামী কিছু সদস্য তাদের জঘন্যতম কার্য সম্পুর্ণ করতে যাত্রা করেছিলো। ১৫ আগষ্টের ভোর রাতে তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করে৷ তাকে স্বপরিবারে নিঃশেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জেষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল সদ্য বিবাহিত পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে সেখানে হত্যা করা হয়৷

    বেইলি রোডে সরকারি বাসভবনে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আব্দুর সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবি সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নাঈম খান রিন্টুকে৷ আরেক বাসায় হত্যা করা হয় তার ভাগ্নে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনিকে৷ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে শুনে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মী কর্নেল জামিল উদ্দিন আহম্মেদ। তবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে প্রথমে বাধা দেয়। পরে তিনি বাধা না মানলে তাকেও হত্যা করে। এছাড়া ঐদিন ৩২ নম্বর বাড়িতে কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ড বিশ্বের বুকে নিন্দিত ও ঘৃণিত রাজনৈতিক হত্যা কান্ডের উদাহরণ হয়ে আছে৷

    সেইদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর বড় সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার স্বামী প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে থাকার কারনে বেঁচে যান। এই শোকের মাসটি এলেই তাই মনে পড়ে যায়, সেই ভয়াবহ স্মৃতি। যা আমাদের বেদনার স্মৃতি, সৃষ্টি করে নতুন যন্ত্রনার৷ যে বিশাল হৃদয়ের মানুষকে কারাগারে বন্দি করে রেখেও স্পর্শ করার সাহস দেখাতে পারেননি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অথচ স্বাধীন বাংলার মাটিতেই তাঁকে নির্মম ভাবে জীবন দিতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সেই নীল নকশা আজও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি৷ জাতির পিতাকে হারানোর সেই দুঃখ স্মৃতি দীর্ঘ কয়েক যুগ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন তারই সুযোগ্য উত্তরাধিকারী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা৷ এই বাংলার বুকে যতদিন পদ্মা-মেঘনা-যমুনা রইবে, বাংলার প্রতিটি ধূলিকণা থাকবে, গাছের প্রতিটি সবুজ পাতা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বাংলার প্রতিটা মানুষের মনের গভীরে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ হবে বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী