সোমবার ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ছড়ায় করোনা

  |   রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

যেভাবে ছড়ায় করোনা

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম তিনজন রোগী রবিবার শনাক্ত হয়েছে। সর্বপ্রথম চীনের উহানে গত বছরের শেষ দিকে ভাইরাসসৃষ্ট এই রোগের সূচনা। এরই মধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর আঘাতে মারা গেছে অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষ, আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক।
এই ভাইরাসের প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার পাশপাশি এ ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথাও বলা হচ্ছে।
করোনা কীভাবে ছড়ায়
করোনা একটি সংক্রামক ভাইরাসের নাম। অন্য নাম ২০১৯-এনসিওভি। এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। একাধিক প্রজাতি থাকলেও করোনার সাতটি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট’ করছে অর্থাৎ গঠন পরিবর্তনের মাধ্যম নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ফলে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
এর বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজনের মাধ্যমে থেকে অন্য মানুষের দেহে ছড়াতে পারে। বিবিসির তথ্য মতে, মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই ভাইরাসটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনা ছড়ায়।
এর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং কাশি। এর ফলে দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ জ্বর। এরপর শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
করোনাকে সাধারণভাবে ভয়ঙ্কর মনে করা হলেও কতটা বিপদজনক তা একটা প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তির ৬ ফুট নাগালের মধ্যে থাকলে সুস্থ মানুষের রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে আক্রান্ত মানুষের হাঁচি, কাশি, নাক ঝাড়া বা নাকে-মুখে হাত দিয়ে সুস্থ মানুষের সংস্পর্শে এলে, অন্যজনেরও অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে মুশকিল হলো জীবাণু সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায়। মূলত প্রাণীর শরীর থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। তাই যে কোনো মানুষ এ ধরনের রোগীর সংস্পর্শে এলে রোগাক্রান্ত হতে পারেন। এটি মারাত্মক হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের মধ্যে। এ ছাড়া যারা হার্ট, ফুসফুস বা ক্যানসারের মত অসুখে ভুগছেন, ডায়াবেটিস আছে অথবা কোনো কারণে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, তাদের ক্ষেত্রেই ভাইরাসটি নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
মোটাদাগে করোনায় অসুস্থ ব্যক্তির সাধারণত ঠান্ডাজনিত লক্ষণ থাকে। তার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে ঢুকতে পারে করোনাভাইরাস।
এভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভাইরাসটি একজন মানুষের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে কলম, ট্রেনের হাত রাখার জায়গা, চায়ের কাপ, টিস্যু, সিঁড়ির হাতল, লিফটের সুইচ, কম্পিউটারের মাউস, চামচ বা চপস্টিকের মতো বস্তুর বিষয়েও সতর্কতা জরুরি।

Facebook Comments Box


Posted ১০:২৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১