• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    যেসব কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ছাত্রলীগের কমিটি

    ডেস্ক | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

    যেসব কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ছাত্রলীগের কমিটি

    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    প্রথমত, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরেই জানতে পারছিলেন যে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা অনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্রলীগে পদ দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মাদক গ্রহণ ও টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্য।


    দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক কাজে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাফিলতিও কমিটি ভেঙে দেওয়ার বড় কারণ বলে জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তারা বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়গুলো ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের বড় অযোগ্যতা হিসেবে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কমিটি নিয়ে আন্দোলন, অনশন কর্মসুচির পর বিতর্কিত সদস্যদের বাদ পড়াদের সংখ্যা উল্লেখ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও তারা কারা সেটা স্পষ্ট না করা ও পরে বাদ দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর না করা, পাশাপাশি অনেক ত্যাগীকে বাদ দেওয়ার বিষয়গুলো শোভন-রাব্বানীর গাফিলতির কারণেই ঘটেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন অযোগ্যদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি থাকার না থেকে না থাকাই উত্তম।

    শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার তৃতীয় কারন হলো, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা। জানা গেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কেউই দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠেন না। শোভন-রাব্বানি এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শোভন-রাব্বানীর জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এমনকি সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের আরেকটি অনুষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার জন্যই এই ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানা যায়। এছাড়া সংগঠনের কর্মকাণ্ডের যেকোনো বিহশয়ে কথা বলার জন্যেও কর্মীরা দিনের বেলা শোভন-রাব্বানীর কাউকেই খুঁজে পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য সঙ্গঠনের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

    ছাত্রলীগ কমিটি ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের চতুর্থ কারণ হলো কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করা। শোভন-রাব্বানি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার পর থেকে যতগুলো কমিটি হয়েছে তার সবগুলোতেই বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামাতসংশ্লিষ্টদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি ছাত্রলীগের সভাপতি নিজেই বিবাহিত, সেটাও উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়। এছাড়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দু`জনের বিরুদ্ধেই অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকা নিয়েও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কানাঘুষা রয়েছে।

    শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার পঞ্চম কারণ হিসেবে শীর্ষ নেতারা সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন। ছাত্রলীগের অনেকেই জানিয়েছেন, শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগে আন্তঃকোন্দল প্রকট। এমনটা আগে কখনই ছিল না।

    আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। সবকিছু হিসেব-নিকেশ করে প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন যে, বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়াটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ হবে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী