• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    যে কারণে আটকে আছে জবি ছাত্রলীগের কমিটি

    অনলাইন ডেস্ক | ২১ মে ২০১৭ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

    যে কারণে আটকে আছে জবি ছাত্রলীগের কমিটি

    সম্মেলনের মাধ্যমে বিগত কমিটির বিদায়ের প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

    ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, কমিটি গঠনের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নেতা করতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের চাপ এবং সর্ব ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বের করে আনা সিন্ডিকেটে মতানৈক্যের অভাব।


    এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করার চেষ্টা চলছে। কমিটি দেওয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শাখা হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

    নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণে কোনো চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিভিন্ন মহলের চাপ তো আছেই। তাই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এত সহজে করা যাচ্ছে না।

    গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে না। একই সাথে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো ট্রেন্ড থাকবে না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগ-জাকির তাদের পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি দিতে পারবে না।

    দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ওই বক্তব্য আবারো আলোচনায় এসেছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কমিটি দিতে নিজস্ব প্রভাব না থাকলে, তবে কি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগের নেতাদের অদৃশ্য প্রভাব থাকবে?

    এক বছর মেয়াদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল বিলুপ্ত করা হয়। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ শাখাটির নেতৃত্ব নির্বাচনে পর্দার অন্তরাল থেকে ঘোল ঢালছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা।

    ছাত্রলীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রত্যাশীদের মধ্যে সাইদুর রহমান জুয়েল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির পছন্দের। যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা নূরুন-নবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলাম মুরাদের ইব্রাহিম ফরাজি, আওয়ামী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এবং সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের সুরঞ্জন ঘোস, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদারের সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের তরিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের হারুন-অর রশিদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম এবং ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেলের মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকনের পছন্দের প্রার্থী আনিসুর রহমান শিশির। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি এফ এম শরিফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলামের যৌথ প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম টিটন এবং শামীম রেজা।

    এছাড়াও পদ-প্রত্যাশী অন্যান্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আপেল মাহমুদ, কামরুল হাসান, তানভীর রহমান খান, জহির রায়হান আগুন, শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল ও নাহিদ পারভেজ। তারাও আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন।

    জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি জেলা শাখা ও প্রবাসী শাখার নতুন কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দেশের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক এ শাখাগুলোর কমিটি গঠনে গুটিকয়েক আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতার প্রভাব থাকলেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ শাখাটির নতুন নেতৃত্বে নজর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতার। কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই চান তাদের অনুগত ছাত্রলীগের কর্মীরাই আসুক রাজধানীর এ গুরুত্বপূর্ণ শাখাটির নেতৃত্বে। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাদের চরম লবিং তদবির ও প্রভাব এবং সিন্ডিকেটের মতানৈক্যের অভাবে প্রায় দু মাসেও শাখাটির নতুন কমিটি গঠন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

    এদিকে দীর্ঘদিনেও কমিটি গঠন না হওয়ায় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পরেছে। ক্যাম্পাসে নিয়মিত শোডাউন, উপস্থিতি কমে যাওয়ার সাথে শাখা ছাত্রলীগ পহেলা বৈশাখের দিন এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনেও আনন্দ মিছিলও করতে দেখা যায় নি। ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতির কারণে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন পর আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোডাউন ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশের এলাকায় সরব উপস্থিতি দেখাচ্ছে ছাত্রদল।

    এদিকে পদপ্রত্যাশী নেতারা ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও লবিং তদবিরের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা ও সালাম ঠুকে বেড়াচ্ছেন। সূত্র : আমাদের সময়

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী