• শিরোনাম



    ঘূর্ণিঝড় বুলবুল | সৌজন্যে: windy.com



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    যে কারণে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক সেনা প্রধান মাহবুব ও মোরশেদ খান

    ডেস্ক | ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

    যে কারণে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক সেনা প্রধান মাহবুব ও মোরশেদ খান

    এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সময় এমনিতেই তেমন ভালো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতার পদত্যাগ দলের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এই সময়ে তাঁরা কেন পদত্যাগ করলেন, সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবার মধ্যে।

    এ বিষয়ে প্রায় দুই মাস আগে পদত্যাগকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘৮০ বছরের ওপরে আমার বয়স হয়ে গেছে। বিএনপিতে অবদান রাখার মতো অবস্থায়ও আমি নেই। তবে এ কথাও ঠিক বিএনপির সব কিছুর সঙ্গে আমি একমত নই।’ কোন বিষয়ের সঙ্গে একমত নন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সবাই অবগত আছেন।’


    বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এবং মাহবুবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে লন্ডনে তারেক রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্যের সূত্রপাত। ওই সময় তারেক এক বক্তৃতায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পিতা’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মাহবুবুর রহমান একটি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘বাপ বলেই জিয়াউর রহমানকে জাতির পিতার আসনে বসানো ঠিক নয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘তারেক রহমান যেভাবে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পিতা ঘোষণা করছেন, এটা আমি মোটেই ভালোভাবে দেখছি না।’ বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করে তারেক রহমান নিজের বাবাকে যেভাবে জোর করে জাতির পিতা বানানোর অপচেষ্টা করছেন তাতে বিতর্ক সৃিষ্ট হচ্ছে এবং রাজনীতি একটি সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’

    পরে মাহবুবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলেছিলেন, ‘জে. (অব.) মাহবুব বেশ কিছুদিন ধরে দারুণ অসুস্থ ও শয্যাশায়ী। সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে কী বলেছেন, তা তাঁর মনে নেই।’ তবে যা ছাপা হয়েছে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল।

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। দলের অন্তত চার নেতা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকা উচিত বলে মত দেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে পাঠানো হয় বনানী ডিওএইচএসে মাহবুবের বাসায়। স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে মাহবুবকে তাঁর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে কিংবা অন্তত দুঃখ প্রকাশ করতে অনুরোধ জানান নজরুল ইসলাম খান। কিন্তু মাহবুব অনড় থাকেন। তিনি বলেন, দুঃখ প্রকাশ নয়; তার বদলে তিনি পদত্যাগ করতে চান।

    সূত্র মতে, মাহবুবের অনুরোধেই সেদিন নজরুল ইসলাম খান ওই পদত্যাগপত্র লেখেন। তাতে কেবল সই করেন মাহবুব। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করে মহাসচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। এখন বিএনপি কেন এ ঘটনা গোপন করছে এর জবাব তারাই দিতে পারবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জাতির পিতা মানি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে। আর জিয়াউর রহমানকে মানি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে।’

    পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় দলের অভ্যন্তরীণ, এমনকি নীতি-নির্ধারণী অনেক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে স্পষ্ট ভাষায় কিছু কথা বলেছেন ২০০০ সালের দিকে বিএনপিতে যোগদানকারী সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুব।

    অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৌশলগত কারণে এ বিষয়ে দুই দিন ধরে নীরব আছেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কে কোন কারণে পদত্যাগ করেছেন, তা জানিও না। ফলে মন্তব্য নেই।’

    দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘পদত্যাগী দুই নেতাই বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁরা যে দলে খুব বেশি অবদান রাখতে পারতেন, এমন নয়। এ জন্য মাহবুব সাহেব অনেক দিন ধরেই ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলেন। আর শরীর ছাড়াও মোরশেদ খান সাহেবের নামে মামলা ও কিছুটা চাপও থাকতে পারে। তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্যতাগ করেছেন।’

    অবশ্য সদ্য পদত্যাগী নেতা এম মোরশেদ খান নিজের ওপর ‘চাপ’ আছে বলে মনে করেন না। তিনি গতকাল বলেন, ‘চাপের কথা চিন্তা করলে এক যুগ অপেক্ষা করতাম না। আরো আগেই পদত্যাগ করতাম। চ্যালেঞ্জ জেনেই রাজনীতিতে এসেছি।’ তবে রাজনীতির জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ‘চড়া মাসুল’ দিতে হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। মোরশেদ খান জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলা রয়েছে।

    বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, ৮২ বছর বয়স এবং অসুস্থতা মোরশেদ খানের পদত্যাগে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তিনি বেশ চাপের মুখে ছিলেন। বিএনপির পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনা আছে, তাঁর মালিকানাধীন একটি বেসরকারি ব্যাংক প্রায় হাতছাড়া হয়েও শেষ মুহূর্তে রক্ষা পেয়েছে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাঁর এক আত্মীয়র সুবাদে। অনেকের মতে, মোরশেদ খান বিএনপিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারিতে ছিলেন। অথচ গত নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ফলে বিএনপি ছাড়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ ছিল বলে জানা যায়।

    এ প্রসঙ্গে মোরশেদ খান অবশ্য বলেন, ‘বস্তুত বিএনপিকে কনট্রিবিউট করার মতো অবস্থা এখন আমার নেই। তবে দলের যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে দাঁড়াব।’

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী