• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    যে কোন মূল্যে ওই তরুণীদের চেয়েছিলেন সাফাত

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২৬ মে ২০১৭ | ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

    যে কোন মূল্যে ওই তরুণীদের চেয়েছিলেন সাফাত

    অসংখ্য তরুণীর সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ। তবে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে যে দুই তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে এখন তিনি কারাগারে বন্দী, তাদেরকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গিয়েছিল সাফাতের। যে কোন মূল্যে ওই দুই তরুণীকে বিছানায় নিতে চেয়েছিলেন তিনি। আর সেই অনুযায়ীই নানা ফন্দি, অতঃপর বাস্তবায়ন।


    বনানীতে আলোচিত ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার জবানবন্দিতে জানা যায়,
    প্রথম পরিচয়ের দিনই বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে টার্গেট করেছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ। তার (সাফাত) বন্ধু সাদমান সাকিফের (রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে) মাধ্যমে ঘটনার ১৫ দিন আগে একটি রেস্টুরেন্টে সাফাতের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের (দুই তরুণী)। পরে সাকিফকে সাফাত বলেন, ‘ওদের আমার পছন্দ হয়েছে।

    ajkerograbani.com

    যে কোনো মূল্যে আমি তাদের চাই।’ তারপর থেকে দুই তরুণীকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা শুরু করেন সাফাত, সাদমান ও নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম, যিনি সাফাতের আরেক বন্ধু)।

    পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে সাফাতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নেয়ার অনুরোধ করে সাকিফ।

    দীর্ঘদিনের বন্ধু সাকিফ তাদের বারবার অনুরোধ করায় দুই তরুণী তা উপেক্ষা করতে পারেননি। সেদিনের পার্টিতে এসেই তারা ধর্ষণের শিকার হন। সাফাত ও নাঈম তাদের হোটেলে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করেন।

    সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার নাঈমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত নাঈমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

    ১৭ মে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে নাঈম আশরাফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

    এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে ১৮ মে সাফাত ও সাকিফ এবং ২১ মে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ মুহূর্তে মামলার সব আসামি কারাগারে।

    নাঈম আশরাফ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া দুই তরুণীকে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলার জন্য তারা সাফাতের জন্মদিনকে বেছে নেন।

    সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই দ্য রেইনট্রি হোটেলে রুম বুকিং করা হয়। ধর্ষণের আগে সাফাত ও নাঈম সুইমিংপুলে সাঁতার কাটেন। এরপর তারা রুমে গিয়ে কাপড় পরিবর্তন করেন। কিছুক্ষণ পর তারা মদ্যপান করেন।

    দুই তরুণীকেও মদপান করার অনুরোধ করেন তারা। তবে তারা (দুই তরুণী) মদপান করতে চাননি। সাফাত, সাকিফ ও নাঈম জোর করেই তাদের মদপান করান। এর কিছুক্ষণ পর দুই তরুণী বেসামাল হয়ে পড়েন।

    ওই জন্মদিনের পার্টিতে ধর্ষিত দুই তরুণীর একজন চিকিৎসক বন্ধু ছিলেন। মদ্যপানের পর নাঈম ও সাকিফ ওই চিকিৎসক বন্ধুকে রুম থেকে বের করে প্রথমে মারধর করেন এবং পরে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। তারপর রাতভর সাফাত ও নাঈম দুই তরুণীকে হোটেল স্যুটের বেডরুম ও ড্রইংরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। ওই রাতে তারা (সাফাত ও নাঈম) ইয়াবাও সেবন করেছিলেন।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিটেকটিভ ব্র্যাঞ্চ বা ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত রেইনট্রি হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

    বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা করছি রিপোর্টের জন্য। রিপোর্ট পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে মামলার চার্জশিট দেয়া হবে। ঘটনা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট এভিডেন্ট আমাদের হাতে রয়েছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার এক মাস সাত দিন পর মামলা হয়েছে। এ সময়ে অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্ষিত দুই তরুণীর শারীরিক পরীক্ষায়ও ধর্ষণের আলামত নাও মিলতে পারে। তবে দুই ধর্ষকসহ চার আসামির জবানবন্দিতে ঘটনাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    ধর্ষিত দুই তরুণীর অভিযোগ, ২৮ মার্চ দ্য রেইনট্রি হোটেলে রাতভর আটকে রেখে তাদের ধর্ষণ করেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ।

    এ সময় সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন পুরো ঘটনার ভিডিও করেন। এ ঘটনায় সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ ও সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলী সহযোগিতা করেছিলেন।

    দুই তরুণী প্রথমে কোনো অভিযোগ করতে চাননি। পরে সাফাত ও নাঈম সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিলে তারা ৪ মে থানায় মামলা করতে যান। এ সময় বনানী থানা পুলিশ মামলা নিতে চায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এমনকি পুলিশ ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে। পরে পুলিশ অভিযোগ নিলেও এ ঘটনায় তাদের গালাগাল করেছে। এ ঘটনার জন্য উল্টো ধর্ষিত দুই তরুণীকেই দায়ী করছিল থানা পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা হয়।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757