• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    যৌতুকের অর্থ ফিরিয়ে দিচ্ছেন ঝাড়খন্ডের মুসলিমরা

    অগ্রবাণী ডেস্ক: | ০৩ মার্চ ২০১৭ | ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

    যৌতুকের অর্থ ফিরিয়ে দিচ্ছেন ঝাড়খন্ডের মুসলিমরা

    যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপরে অত্যাচারের ঘটনা ভারতে নিয়মিতই শোনা যায়। কিন্তু সেদেশেরই একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন ঘটছে পুরো বিপরীত ঘটনা। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছে পাত্রপক্ষ। এরই মধ্যে প্রায় আটশো মুসলমান পরিবার ছেলের বিয়ের সময়ে নেওয়া যৌতুক ফিরিয়ে দিয়েছে কনের পরিবারকে। যার পরিমান প্রায় ৬ কোটি রুপি।


    পিছিয়ে থাকা রাজ্য বলে পরিচিত ঝাড়খন্ডের পালামৌতে এই প্রক্রিয়া চলছে বছরখানেক ধরে। মুসলমান পরিবারগুলিকে দেখে ওই অঞ্চলের অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও যৌতুক ফেরানো শুরু হয়েছে।


    যেভাবে শুরু:
    গ্রামের বাসিন্দা হাজি মুমতাজ আনসারি প্রথম এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলেনন, “অনেক লোক আমার কাছে এসে দু:খ করত যে মেয়ের বিয়ের যৌতুকের অর্থ যোগাড় করতে গিয়ে কী অসুবিধায় পড়েছেন। ধারদেনা তো বটেই, জমিও বিক্রি করতে হত। তখনই মানুষকে বোঝাতে শুরু করি বিষয়টা।”

    গত বছর এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই পণ-বিরোধী অভিযানে একে একে মেয়ের পরিবারের হাতে টাকা তুলে দিয়েছে আটশো পরিবার। যৌতুক নেওয়ার চেনা পথের উল্টোদিকে প্রথম হাঁটতে শুরু করে ঝাড়খন্ড রাজ্যের পোখারিটোলা গ্রাম। ছেলের বিয়ের সময়ে যে পণ নিয়েছিল পোখারিটোলার মুসলমান পরিবারগুলি, সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে শুরু করেছে তারা।

    অনেকে হয়তো টাকা এখনই ফেরত দিতে পারছে না, কিন্তু তারাও সবার সামনে অঙ্গীকার করছে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে। যৌতুক নেওয়াকে তারা নিজের আত্মসম্মানের হানি বলে মনে করতে শুরু করেছে। এছাড়া এটা নিজের টাকা রোজগারের অযোগ্যতা বলেও মনে করছেন অনেকে।

    মুমতাজ আনসারির কথায়, “মুসলমান পরিবারগুলোকে দেখে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও এগিয়ে আসছেন। তারাও টাকা ফিরিয়ে দিতে শুরু করেছেন।”

    পোখারিটোলার এই পণ বিরোধী অভিযান এতটাই সমর্থন পেয়েছে পালামৌ অঞ্চলে যে এখন আর মুসলিম পরিবারগুলিতে কেউ যৌতুক চাইতেই সাহস পাচ্ছে না। আর যদি পাত্র পক্ষ এবং কন্যা পক্ষ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে যৌতুকের ব্যবস্থা করেও ফেলে, তাহলে সমাজের মাথারা গিয়ে সেটা আটকিয়ে দিচ্ছেন। এমন কী যৌতুকের কথা কানে এলে কাজি সাহেব সেই বিয়ে দিতেও সরাসরি অস্বীকার করছেন!

    পোখারিটোলার বাসিন্দা মুহম্মদ জাকির হোসেন তিন মেয়ের মধ্যে সবথেকে ছোটটির বিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে। যৌতুক ফেরত দেওয়ার এই অভিযান শুরু হওয়ার পরে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা।

    জাকির হুসেন বলছিলেন, “বড় দুই মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। তাদের বিয়ের সময়ে নগদ অর্থ না দিলেও দুই চাকার যান কিনে দিতে হয়েছিল। সঙ্গে বাসন, খাট, আলমারি এসব তো ছিলই। সেগুলো আর ফেরত পাওয়া যায় নি। তবে ছোট মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা – যেটা নগদে দেওয়া হয়েছিল, সেটা ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং বরপক্ষ সানন্দেই ফিরিয়ে দিয়েছেন টাকাটা।”

    বিহার ঝাড়খন্ডে পণপ্রথা, বাল্যবিবাহ সমস্যা নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রেকথ্রুর ভাইস প্রেসিডেন্ট সোহিনী ভট্টাচার্য বলেন, ”মুসলমানদের মধ্যে কিন্তু পণ প্রথা ছিল না, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তারা এই পণের ব্যাপারটা শিখেছে। ঝাড়খন্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও পণপ্রথা ছড়িয়েছে। এছাড়া বিহার-ঝাড়খন্ডে পণপ্রথার সঙ্গে বাল্যবিবাহও যুক্ত হয়ে রয়েছে। যে মেয়ের বয়স যত বেশি বা যে যত বেশি শিক্ষিত, তার বাবা-মাকে তত বেশি পণ দিতে হয়। সেজন্যই মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেন বহু মানুষ। এতে নিজের পরিবারের কাছেই একটা মেয়ের জীবনের মূল্যটা কমে যায়।”

    এলএস/অগ্রবাণী

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669