বুধবার, নভেম্বর ১৭, ২০২১

রডের বাজারে উত্তাপ, বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আবাসনখাত

হুমায়ুন কবির:   |   বুধবার, ১৭ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

রডের বাজারে উত্তাপ, বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আবাসনখাত

ভবন নির্মান খাতে প্রধান উপকরণ রডের বাজারে উত্তাপ দিনদিন বেড়েই চলেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে বেড়ে গেছে ৭ হাজার টাকা। আর এক বছরে রডের দাম বেড়েছে প্রতি টনে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে রড। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণকারী ও আবাসন ব্যবসায়ীরা।

রডের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের চলমান উন্নয়নকাজের ব্যয় বেড়ে যাবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে আবাসন-শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা। সেই রডের দাম বেড়ে ৮১ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাঁচ মাস আগে প্রতি টন রড বিক্রয় হতো ৫৫ হাজার টাকা। ফলে এই সময়ে টন প্রতি দাম বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা।
রডের এমন দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ এবং বিলেটের দাম বৃদ্ধি পাওয়াকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


তারা জানান, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম এবং জাহাজ ভাড়া ব্যাপকভাবে বেড়েছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে বিশ্বে নির্মাণকাজ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুসারে কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, নির্মাণকাজের ভরা মৌসুম হওয়াতেও এখন রডের চাহিদা বেশি। এসব কারণে দেশের বাজারেও রডের দাম বেড়েছে। কাঁচামালের দাম না কমলে সামনের মাসগুলোতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। দেশীয় উদ্যোক্তারা জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উন্নত দেশগুলো এখন আর জাহাজ ভাঙতে চাচ্ছে না। ফলে দেশে জাহাজ ভাঙা স্ক্র্যাপের পরিমাণও কমে গেছে।


সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের রডের দাম বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এখন ৬০ গ্রেডের রড ৩৩.৯২ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৫.৩৮ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে ৬০ গ্রেডের রড ৭৯ হাজার ৬০০ থেকে ৮১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫৪ হাজার থেকে ৬৬ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া একই মানের রডের দাম সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৭৫ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় এখন ৪০ গ্রেডের রড ৪০.৬৪ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৪.০৫ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে ৪০ গ্রেডের রড ৭৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫১ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া একই মানের রডের দাম সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৭৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

ক্রেতারা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়ানো হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কী কারণে দাম বেড়েছে তা জানেন না তারা। পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের অতীব প্রয়োজনীয় এ সামগ্রীর দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে আবাসন খাতে। অর্থনৈতিক মন্দা, দীর্ঘসময় কাজ বন্ধ থাকাসহ নানান সমস্যার মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে।

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্টের দামও কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমান শুন্যের কোটায় নেমেছে। এতে আবাসন ভ্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আলতাব রিয়ের সেট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাবুর রহমান চেধৈুরী বলেন আবাসন খাতে বর্তমানে ব্যবসা নাই বললেই চলে। লোকসান কমাতে হিমশিম খাচ্ছে সবাই। নির্মান ব্যয় এতটা বেড়ে গেছে যে এই খাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবে কিনা সেটাই সন্ধেহ। শুধু রডেই নয় আবাসন খাতে ব্যবহারিত সকল পন্যের দাম বেড়েছে। রডসহ নির্মান সামগ্রীর দাম না কমালে আবাসন খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিশ্চিৎ বলে মনে করেন এই আবাসন ব্যবসায়ী।

মিল মালিকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা ৫৫ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হয় ৬০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ বেসরকারি খাতে। রডের প্রধান কাঁচামাল পুরনো লোহালক্কড় বা স্ক্র্যাপ আমদানি করে তা রি-রোলিং মিলে গলিয়ে রড তৈরি করা হয়। দেশে রি-রোলিং মিলের সংখ্যা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩০টি। এর মধ্যে বড় আকারের ৫০টি। বাকিগুলো ছোট ও মাঝারি আকারের।
দেশে রডের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এগুলো হলো- আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং করোনা-পরবর্তী সারা বিশ্বে রডের চাহিদা বেড়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ স্টিল মিলস ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসুদুল আলম মাসুদ বলেন, রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল পুরনো লোহা, যা স্ক্র্যাপ নামে পরিচিত। এই স্ক্র্যাপ আমদানি করে আমরা কারখানায় বিলেট তৈরি করে রড উৎপাদন করি। তিনি বলেন, সরকার আমদানি পর্যায়ে নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্য কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা আরোপ করতে পারে। এতে দাম কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

 

Posted ৫:৪৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ নভেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১