• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রপ্তানি সম্ভাবনা; পণ্যের মান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

    আর কে চৌধুরী | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    রপ্তানি সম্ভাবনা; পণ্যের মান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

    বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মূল গন্তব্য ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডা। ফলে এসব বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়া ভালো লক্ষণ। তবে বেশি ভালো হয় যদি নতুন বাজার ও অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ে। হাতে গোনা দু-তিনটি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা পণ্য রপ্তানির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর জুন পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০টি কারখানার ৩১৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়। স্থগিত হয় হিমায়িত চিংড়ির ক্রয়াদেশ। সবজি রপ্তানি বন্ধ।


    সম্প্রতি বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম গন্তব্য ইউরোপের দেশগুলোয় রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এ সম্ভাবনা দেখছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, চীন নিয়ে উন্নত বিশ্বের নতুন চিন্তাভাবনার কারণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বহুগুণে বাড়বে। আগামী বছরের গোড়ায় ইউরোপের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেই পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো সংকট, শুল্কায়ন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩০ ভাগেরই গন্তব্য জার্মানি। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি না পেলে রপ্তানি আয় বাড়বে না।


    পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সেজন্য দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. দেশের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করা। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কারণ, ক্রেতা দেশগুলো যখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে তখন যদি আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি, তবে পণ্য সরবরাহ করা যাবে না। দুই. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তা করা। না হলে ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবেন না। রপ্তানিতে এত দিন পণ্যের দাম ও মান দিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হতো। করোনা-পরবর্তী স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও সুনাম যুক্ত হবে। তাই শ্রমিক ছাঁটাই কিংবা মজুরি না দেওয়ার কারণে খারাপ ভাবমূর্তি তৈরি হলে ক্রেতা হারানোর শঙ্কা থাকবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তবেই আবার নতুন উদ্যমে বাড়বে রপ্তানি। এ জন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

    বাংলাদেশের একমাত্র সুবিধা সস্তা শ্রম এবং পণ্যের কম দাম। যদিও অবকাঠামোগত সংকট আছে ব্যাপক। এই সংকট কমাতে পারলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা আছে ইউরোপে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, চীন থেকে জাপান ও ইউরোপের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    সবাই চায় সস্তা শ্রম, উন্নত যোগাযোগ এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব শুল্ক-করনীতি। এসব দিতে পারলে সামনে বাংলাদেশের রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনি আসবে বিদেশি বিনিয়োগ। জানা গেছে, ইউরোপে বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা দেশ সুইডেন তাদের রপ্তানি আদেশ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে ডেনমার্কও করোনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।

    স্বাধীনতার পর বিদেশ থেকে বেশির ভাগ ওষুধ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হতো। আর বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৫১টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে দেশের ওষুধ। যে কারণে রপ্তানির পরিমাণও ব্যাপক। এছাড়া ওষুধের গুণগতমান বজায় রাখায় বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের ওষুধ বাণিজ্যের ১০ শতাংশ দখল করা সম্ভব।
    বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বের ছাড়ের সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা আর বিশ্ববাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ওষুধ রপ্তানিতে এশিয়ার শীর্ষে উঠে আসবে বাংলাদেশ।
    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করে ৩৮৬ কোটি টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৮ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫৪ কোটি টাকা। এরপর ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে হয় ৫৪১ কোটি টাকা। এরপর আবার রপ্তানি আয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে আয় হয় ৬৫৭ কোটি টাকা ও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে আয় করে ৭১৪ কোটি টাকা। ওষুধ রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, রপ্তানি বৃদ্ধির হার প্রত্যাশিত মাত্রার নয়। আর রপ্তানি আয়ও তুলনামূলক কম। তবে রপ্তানির পরিমাণ ও দেশের সংখ্যা আগামীতে আরো বাড়বে বলে আশা করছেন।

    লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, উপদেষ্টা, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669