• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রাঙামাটি জেলার লংগদুতে ১৪৪ ধারা জারি

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৩ জুন ২০১৭ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

    রাঙামাটি জেলার লংগদুতে ১৪৪ ধারা জারি

    পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গত শুক্রবার এক বাঙালি যুবলীগকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের বাড়িঘর-দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। লংগদু এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, চলছে গ্রেপ্তার অভিযান।


    নিহত বাঙালি যুবক নুরুল ইসলাম নয়ন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। তিনি লংগদু সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    ajkerograbani.com

    গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে চার কিলো এলাকা থেকে নয়নের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায়। শুক্রবার সকাল আটটায় তাঁর লাশ লংগদু বাত্যপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

    “নয়নকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে; আমরা এখনো জানি না কে বা কারা বাঙালি যুবক নয়নকে হত্যা করেছে। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে,” বেনারকে বলেন খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার।

    রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাফিউল সারোয়ার জানান, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তারা সাতজনকে আটক করেছেন। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আজ শনিবার সকাল ১১টায় তারা এক বৈঠকে বসবেন বলে জানান তিনি।

    আরমান খান নামের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, যদিও সকালে লংগদুর ওই ঘটনায় ১০ জনকে আটক করার খবর তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, সবার মনে এখন একটা আতঙ্ক কাজ করছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমনকি বিভিন্ন গুজবও ছড়ানো হচ্ছে যে ওই জায়গায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো জায়গায় আক্রমণ করা হবে। এর আগে স্থানীয় পুলিশ জানায়, নুরুল ইসলাম নয়ন নামের এক যুবলীগকর্মীর লাশ বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পাশে পাওয়ার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার জানাজার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাঙালিরা মিছিল বের করলে আক্রমণের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লংগদু উপজেলার একাধিক গ্রামে পাহাড়িদের বেশ কিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা, হতাহতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পাহাড়িদের কাছ থেকেও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫-১৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামলায় আড়াই শ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তা মো. শাফিউল সারোয়ার আজ শনিবার সকালে জানান, প্রাথমিকভাবে ৫০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু সঠিক সংখ্যাটা তারা এখনো জানতে পারেননি। লংগদু এলাকায় হামলার আশঙ্কায় অনেক পাহাড়ি গত বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান এবং হামলার পর আরো অনেকে পালিয়ে গেছেন। তারা এখনো বাড়ি ফেরেননি।

    সাংবাদিক আরাম খান বলেন, ‘যারা পালিয়ে গেছেন তারা এখনো ফেরেননি। যারা পরিবারসহ পালিয়ে গেছে তাদেরতো ফেরার জায়গা নেই। সবতো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে- আপনারা ফিরে আসেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর গতকাল বিকেলেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুই পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। ‘ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেওয়া হয় ওই বৈঠকে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757