• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রাজধানীজুড়ে চলছে মশার রাজত্ব

    | ০৪ মার্চ ২০২১ | ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

    রাজধানীজুড়ে চলছে মশার রাজত্ব

    রাজধানীজুড়ে এখন মশার রাজত্ব চলছে। দিনরাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বাসাবাড়ি-কর্মস্থান-কোথাও নিস্তার মিলছে না মশা থেকে। আগে সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত বেড়ে যেত। তবে এখন সকাল-সন্ধ্যা একই অবস্থা। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


    তারা বলছেন, শীতের পর হঠাৎ গরম কিউলেক্স মশার প্রজননের খুবই উপযোগী। এ সময় বদ্ধ জলাশয়, কাভার্ড ড্রেন, বক্সকালভার্ট, প্লাস্টিক বর্জ্য ও ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে কিউলেক্স মশার বংশবিস্তার ঘটছে।

    ajkerograbani.com

    সম্প্রতি, রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় কর্মরত অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, তার হাতে মশার ঝাঁক বসেছে। ওই অবস্থাতেই সারারাত কাটিয়েছেন তিনি।

    মো. নাঈমুর রহমান নীল নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওইদিন মশা এতো বেশি ছিল যে, পাঁচটি মশার কয়েল জ্বালিয়েও কাজ হচ্ছিল না।

    জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার বক্সকালভার্ট ও কাভার্ড ড্রেন রয়েছে। যেগুলোদে দুই সিটি মশার ওষুধ ছিটাতে পারে না। আর প্লাস্টিক দ্রব্যসামগ্রী, পলিথিন, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন আবর্জনায় এই ড্রেনগুলো ভরাট থাকে। যে কারণে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় না। জমে থাকা এসব পানিতে কিউলেক্স ভয়াবহরূপে বংশবিস্তার করছে।

    চলতি অর্থবছরে মশক নিধন প্রকল্পে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৭৭ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

    এদিকে, মঙ্গলবার (২ মার্চ) কাউন্সিলরদের সঙ্গে সভা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি আগামী ৮ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় কিউলেক্স মশা নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে বলে জানান।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কিট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিএনসিসি অনেক বড় এলাকা, পুরো এলাকাতেই আমাদের মশক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সব এলাকাতেই আমরা কাজ করছি। তবে অনেক জায়গা যেমন- পুকুর, জলাশয়, খালের সব স্থানে আমরা বা আমাদের মশকনিধন কর্মীরা পৌঁছাতে পারেন না। সে কারণে ড্রোনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    আর মশক নিধন কার্যক্রমে কৌশলগত ভুলের কারণেই মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপটা যেহেতু ছিল সেহেতু সেই কার্যক্রমটা ডিসেম্বর পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া আসলে সেটা ভুল ছিল, সেই কৌশলটা ভুল ছিল। আমাদের দেশে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে কিউলেক্স মশার বিরুদ্ধে কার্যকম হাতে নেওয়া উচিত ছিল। আমরা আশাবাদী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

    আর কিউলেক্স মশা অ্যাডিসের মতো ভয়ংকর নয় উল্লেখ করে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবতা মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বলেন, অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশা ডেঙ্গুর মতো বিপদজনক নয় সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। খালবিল পরিষ্কার-পরিছন্নতা করা হবে তখন এটি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হব আশা করি। বাস্তবতা বিবেচনা করে সবাই সহযোগিতা করবেন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757