বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

রাজধানীতে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশের সামনে বসে মুড়ি খাচ্ছিলেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

রাজধানীতে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশের সামনে বসে মুড়ি খাচ্ছিলেন স্বামী

স্ত্রীকে হত্যার পর ঠান্ডা মাথায় লাশের সামনে বসে মুড়ি ও বিস্কুট খান ফেরদৌস আলম। রক্ত মাখা ঘরেই পাঁচ ঘন্টা বসে থাকেন তিনি। ঘর থেকেই আশপাশের লোকদের ভয় দেখিয়ে তিনি বলেন, যে পুলিশকে খবর দিবে তাকেই আমি জেল থেকে বের হয়ে হয়ে খুন করব। পুলিশ আমাকে তিন বছরের বেশি ধরে রাখতে পারবে না। মাদকাসক্ত খুনি ফেরদৌস আলম পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু প্রতিবেশিরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
বুধবার রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসা থেকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
ওই দম্পতি এই বাসায় একবছর ধরে থাকতো। স্বামী রিকশা চালালেও বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই বসে থাকতো এবং নেশা করতো। এই নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রায়শই তাদের মধ্যে ভেজাল লেগে থাকতো। যে দিন খুন হয় সেদিন সন্ধ্যা থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও খুন হওয়া স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছিলো।
ঘটনার সময় পাশের ঘরে থাকা রহিমা বেগম জানান, খুন করার পরেও অভিযুক্ত স্বাভাবিক ছিলেন। তার মধ্যে কোনো অস্থিরতা কাজ করেনি। ঘরের ভিতর যত ধরনের খাবার ছিলো সেগুলো খেতে খেতে আশপাশের মানুষদের নানা ধরনের ভয় ভীতি দেখান অভিযুক্ত। সে চিৎকার করে বলতে থাকে যে পুলিশকে যে খবর দিবে তাকেই জেল থেকে বের হয়ে মেরে ফেলবো।
হত্যার শিকার গৃহবধূ সাজেদা আক্তারের বোন মায়াতুল আক্তার বলেন, আমার বোনের বাচ্চারা এতিম হয়ে গেলো। আমার বোনকে যে এভাবে খুন করেছে তার সঠিক বিচার চাই। এই খুনি আমার বোনকে সবসময় অত্যাচার করতো। সে নেশায় আসক্ত ছিলো। এই নেশার টাকার জন্যই আমার বোনকে খুন করা হয়েছে।
কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বলেন, ফেরদৌস ও সাজেদার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহ চলে আসছিলো। স্বামী তাকে নানান বিষয়ে সন্দেহ করতো। ঘটনার দিনও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই একপর্যায়ে ফেরদৌস সাজেদাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ফেরদৌসকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, সে এখন কারাগারে রয়েছে।


Posted ১০:৩৬ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement