• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রাজনীতির কৌতুককাল

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৪:০১ অপরাহ্ণ

    রাজনীতির কৌতুককাল

    গল্পটা বলেছিলেন, ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের এক উপদেষ্টা। যিনি পরে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্ব-ঘোষিত প্রধান ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। অধিকাংশ উপদেষ্টা বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের সব চেষ্টা করতে হবে। রাষ্ট্রপতি হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার ম্যাডামও (বেগম জিয়া) কইছে, নির্বাচক ঠিক-ঠাক মতো করতে।‘ বলেন কি করতে চান। তখন একজন উপদেষ্টা লিখিত সুপারিশ পাঠ করলেন। রাষ্ট্রপতি বললেন, ঠিক আছে দেখুম নে। এখন মিটিং শ্যাষ। আমার ঘুমের টাইম হইছে।’


    বাংলাদেশের রাজনীতিতে দু:সময় এসেছে, কালো সময় এসেছে, সুসময় এসেছে, কিন্তু কৌতুকময় সময় খুবই কম। ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রায় তিন মাস সময় সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে কৌতুকময় অধ্যায়। ২৯ অক্টোবর ২০০৬ সালে, বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকরের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এরপর গঠন করেছিলেন এক উপদেষ্টা কমিটি। এ সময় তাঁর প্রেস সচিব ছিলেন মোখলেছুর রহমান চৌধুরী। পরে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন ড. ইয়াজউদ্দিন। ড. ইয়াজউদ্দিন, বিচারপতি আজিজ, মোখলেছ চৌধুরী- এ ত্রয়ী দিয়ে নির্বাচনী বৈতড়নী পার হবার দাবার ছক সাজিয়েছিলেন তারেক জিয়া। তারা দেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গে দিয়েছিলেন অনেক কৌতুক। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে তামাশায় পরিণত করা যায় তার বড় উদাহরণ ২৯ অক্টোবর ২০০৬ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০০৭।


    ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছিল,বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে । কিন্ত অধ্যাপক চৌধুরী জিয়ার কবরে যাননি, এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিসংশন প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির সংসদীয় কমিটি। অবশ্য অভিসংশিত হবার আগেই বি. চৌধুরী পদত্যাগ করেন। আর অধ্যাপক চৌধুরীকে পেটানোর জন্য বিএনপি রেললাইন ধরে তাড়াও করেছিল। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তো অধ্যাপক বি. চৌধুরীর প্রস্থানের পর বিএনপি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি বানাতে চেয়েছিল, যিনি বিএনপির অনুগত এবং আজ্ঞাবহ থাকবেন। অনেকটা ‘বাপু রাম সাপুড়ে’ টাইপের লোক। যিনি বা যারা ডক্টর ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে আবিষ্কার করেছিলেন, তাদের পুরস্কৃত করা উচিত ছিল। ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের রাষ্ট্রপতিকাল ছিল দু’পর্বের, প্রথম পর্বে তিনি ছিলেন শুধুই আজ্ঞাবহ এবং অনুগত। দ্বিতীয় পর্বে তিনি একাধারে রাষ্ট্রপতি এবং তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচারপতি কে এম হাসান তীব্র আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে অস্বীকৃতি জানান। তখন বিএনপি দ্বারা নির্দেশিত হয়ে ড. ইয়াজউদ্দিন ‘সাংবিধানিক ক্যু’ করে নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। বিএনপি হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। ড. ইয়াজউদ্দিনের রাজত্বে পর্দার আড়ালে ছিলেন তারেক জিয়া। তারেকের নির্দেশ আসতো মোখলেস চৌধুরীর কাছে। আর তিনি তখন তা ড. ইয়াজউদ্দিনকে জানাতেন। সমস্যা হচ্ছিল, উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক নিয়ে। এখানে মোখলেছ চৌধুরীর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি করেন উপদেষ্টারা। উপদেষ্টারা বলতেন, তাঁকে (ড. ইয়াজউদ্দিনকে) কিছু জিজ্ঞেস করলেই তিনি মোখলেছ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে থাকতেন। মোখলেছ চৌধুরী কিছুক্ষণের জন্য উঠে যেতেন, ফোনে কথা বলতেন তারপর ফিরে এসে ড. ইয়াজউদ্দিনের কানে মুখ লাগিয়ে কিছু বলতেন। সেটাই বলতেন রাষ্ট্রপতি। দুপুরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দিবানিদ্রার অভ্যাস ছিল। এ সময় খেয়ে দেয়ে তিনি তাঁর প্রিয় তার প্রিয় মোখলেছকে নিয়ে বেড রুমে জরুরি কাজ করতেন।

    বদলী সহ সব সিদ্ধান্তই আসতো হাওয়া ভবন থেকে। ড. ইয়াজউদ্দিন সব সময় মোখলেছ কে জিজ্ঞেস করতেন, ‘ম্যাডাম খুশি আছেন তো?’ মোখলেস চৌধুরীও সায় দিতো। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এর চেয়ে বড় প্রহসনের ঘটনা সম্ভবত আর একটিও নাই।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669