মঙ্গলবার, জুলাই ৬, ২০২১

রাতে ইউরোর লড়াই সকালে মেসি-জাদু

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

রাতে ইউরোর লড়াই সকালে মেসি-জাদু

হতাশার কালো মেঘ কেটে গিয়ে মেসির আকাশে কি সোনালি সূর্যের উদয় হবে! জাতীয় দলের হয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দেখা পাবেন কি আর্জেন্টাইন জাদুকর! তার শূন্য ভাঁড়ারে প্রথম ট্রফির জন্য পার হতে হবে আরও দুটি ধাপ। যার প্রথমটি আগামীকাল বুধবার সকালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনাল। সেখানে উতরাতে পারলে ফাইনালে দেখা হয়ে যেতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের। এ প্রতিবেদন হাতে যাওয়ার আগেই ব্রাজিলের ফাইনাল-ভাগ্য জেনে যাবেন পাঠকরা। লাতিন ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই ধুন্ধুমার লড়াইয়ের প্রত্যাশায় এখনই বিভক্ত হতে শুরু করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। লাতিন ফুটবলের এই উত্তাপের মাঝেও কিন্তু হারিয়ে যায়নি ইউরো; বরং নয়া ইতালির আক্রমণাত্মক ফুটবল, স্পেনের পাসিং কৌশল, ইংল্যান্ডের দৃঢ়তা, এরিকসনের ভালোবাসায় ডেনিশদের স্বপ্ন দৌড়ের চর্চা সবার মুখে মুখে। আজ ওয়েম্বলিতে মানচিনির হাতে বদলে যাওয়া ইতালি কি পারবে স্পেনের তিকিতাকার জাল ভেদ করতে? ইউরো সেমির রোমাঞ্চের এই লড়াইয়ের জন্যও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল পেছনে লিওনেল মেসি। আগামীকাল সকালেই হয়তো ফুটবল সম্রাটের এই রেকর্ডে (লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা) ভাগ বসাতে পারেন মেসি, পুরোপুরি নিজের করেও নিতে পারেন। তবে আর্জেন্টাইন জাদুকরের এসব ব্যক্তিগত অর্জনে মন নেই। জাতীয় দলের হয়ে শিরোপার স্বাদ নিতে চান তিনি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ, চার বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়া, আর কোপায় গত কয়েক আসরে হৃদয় ভাঙার গল্পের আর পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শিরোপার দেখা পায় না আর্জেন্টিনাও। সেই ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ ট্রফি জিতেছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ২৮ বছরের খরা কাটতে আর মাত্র দুটি জয় প্রায়োজন।


আলবেসেলেস্তেদের জন্য কাজটা বেশ কঠিন। কলম্বিয়া সবসময়ই আর্জেন্টিনার জন্য প্রবল প্রতিপক্ষ। আর প্রথম সেমিতে বড় কোনো অঘটন না ঘটলে চার দিন পর মারাকানার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারাতে হবে। এই দু’দলের সঙ্গেই আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক লড়াইয়ের ইতিহাসটা সুখকর নয়। দুই বছর আগে কোপার গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। এরপর সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০-তে পরাজিত হয়েছিলেন মেসিরা। এই দু’দলকে হারাতে জাদু দেখাতে হবে লিওনেল মেসিকে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে মেসি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার উইলমার ব্যারিওসের কাছ থেকে। ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে মেসির সাবেক সতীর্থ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অসুরের শক্তিতে পুরো মাঠ চষে বেড়ান তিনি, ট্যাকেল করায়ও সিদ্ধহস্ত। কোপা শুরুর ঠিক আগে আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দু’দল। সেই ম্যাচে প্রথম আট মিনিটের মধ্যে দুই গোল এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতির পর ব্যারিওস মাঠে নেমেই পাল্টে দেন ম্যাচের চিত্র। মেসিকে বোতলবন্দি করার পাশাপাশি তার গড়া আক্রমণ থেকেই শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। সে ম্যাচে শেষ দিকে চাপ সামলাতে পারেনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। কোপায় অবশ্য বেশ ভালো খেলছেন মেসিরা। তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছে, পাশাপাশি মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও জিওভান্নি লো সেলসো বেশ ভালো খেলছেন। সেন্টার ফরোয়ার্ড লাওতারো মার্টিনেজের সঙ্গেও মেসির বোঝাপড়াটাও গড়ে উঠেছে। চমৎকার এই কম্বিনেশনের কারণেই শিরোপার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা।

ইউরোতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ইতালি। ওয়েম্বলিতে আজ স্পেনের বিপক্ষে তারাই ফেভারিট। এই দু’দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। এক যুগ আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলে স্প্যানিশদের দাপটের যে বৃত্ত সেটা শুরু হয়েছিল ইতালিকে হারানোর মধ্য দিয়ে, আবার শেষও হয়েছে ইতালির কাছে হেরেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উতরাতে ব্যর্থ আজ্জুরিদের আবার পুনর্জন্ম হয়েছে রবার্তো মানচিনির হাতে। আজ স্পেনকে হারাতে পারলে ইতালির সেই জাগরণ পরিপূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে। স্পেনের কোচ লুইস এনরিকের কাছেও ইতালির বিপক্ষে লড়াই একটু বাড়তি কিছু। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই ইতালির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের সঙ্গে নাক ভেঙেছিল এনরিকের। তবে পুরোনো এই শত্রুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্কোরার নিয়ে ভীষণ চিন্তিত স্প্যানিশ কোচ। তার দুই স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা ও জেরার্ড মরেনো ছন্দে নেই। তবে সেমিফাইনাল বলেই তার শিষ্যরা জেগে উঠবেন বলেই প্রত্যাশা এনরিকের।


টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত ইতালি দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল বেলজিয়ামকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ইম্মোবিলে, বারেল্লা, ইনসিনিয়েরা। দারুণ এক ব্যালান্স টিম নিয়ে এসেছে ইতালি। দুর্দান্ত আক্রমণভাগের পাশাপাশি আজ্জুরি মাঝমাঠও ভীষণ শক্তিশালী। তরুণ ফরোয়ার্ড বারেল্লার মতে, দুই মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তি ও জর্জিনহো হলের তাদের শক্তির মূল উৎস। ইন্টার মিলানের এই তারকার মতে, তাদের মিডফিল্ড আসরের সেরা। তাই জয়ের সম্ভাবনা তাদেরই বেশি।

Posted ৬:০৮ পিএম | মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement