সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাসেলের কৌশল ছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া : র‌্যাব

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

রাসেলের কৌশল ছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া : র‌্যাব

মোবাইল, টিভি, এসি, মোটরবাইক, গাড়িসহ নানা পণ্যে মূল্যছাড়ে আকর্ষণীয় অফার দিয়ে গ্রাহকদের ‘প্রলুব্ধ করে’ ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের লক্ষ্য ছিল, ‘গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া’।

রাজধানীর গুলশান থানায় প্রতারণা মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল।


র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসে র‌্যাব। তখন গণমাধ্যকে এই তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হিসেবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। ‘সাইক্লোন অফার’, ‘আর্থকোয়াক অফার’, ‘ক্যাশব্যাক অফার’, ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’, ‘প্রায়োরিটি স্টোর অফার’ এর মাধ্যমে ইভ্যালি স্বল্পতম সময়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেছে। ‘ঈদ অফার’, ‘বৈশাখী অফার’ এর পাশাপাশি ‘টি-টেন’, ‘টি-ফাইভ’, ‘ট্রি-থ্রি’সহ বিভিন্ন প্যাকেজও ঘোষণা করেছিল ইভ্যালি।


কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এসব লোভনীয় অফার সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করেছিল। বিশাল অফার, বিশাল ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষদের প্রলুব্ধ করতেন। যার ফলে দ্রুততম সময়ে তার বিশাল কাস্টমার হয়ে যায়। তার (রাসেলের) ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল, তৈরিকারক বা গ্রাহকদের চেইন নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।’

শিশুদের নানা পণ্যের ব্যবসা ছেড়ে যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে রাসেল ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, ‘রাসেল জানায়, ব্যবসায়িক অপকৌশল ছিল নতুন গ্রাহকের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের আংশিক আংশিক অর্থ ফেরত অথবা পণ্য ফেরত দিতেন; যা তার দায় ট্রান্সফারের দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে গিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হয়, দায় তত বাড়তে থাকে। গ্রেপ্তারকৃত রাসেল জেনেশুনে নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।’

বিভিন্ন পণ্যে বিশাল মূল্যছাড় দিতে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির ‘বিশাল আকারের দায় তৈরি হয়’ বলে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল; যার পরিমাণ ‘হাজার কোটি টাকা’।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দায় ছিল ৪০৩ কোটি টাকা, যেখানে তাদের সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত রাসেল র‌্যাবকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ইভ্যালি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি লোকসানি কোম্পানি। কোনো ব্যবসায়িক লাভ এ যাবত করতে পারেন নাই মোহাম্মদ রাসেল। গ্রাহকদের অর্থে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতেন তিনি। ক্রমে ক্রমে তার দেনা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বা দেশিয় বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।’

Facebook Comments Box

Posted ২:১২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১