• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রিজার্ভ চুরি: ফেঁসে যাচ্ছেন ফিলিপাইনের ৫ কর্মকর্তা

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২৪ এপ্রিল ২০১৭ | ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

    রিজার্ভ চুরি: ফেঁসে যাচ্ছেন ফিলিপাইনের ৫ কর্মকর্তা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের ৫ কর্মকর্তা।


    অভিযুক্তরা হলেন, রিজাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দিগুইতো, রেমিট্যান্স সংক্রান্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এনরিকো তিয়াদ্রো ভাসকোয়েজ, আলফ্রেড সান্তোষ ভার্গারা, মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ ও জেসি ক্রিসটোফার লাগরোস। বিচার বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছে। সোমবার ফিলিপাইনের জিএমএ নিউজ অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    ajkerograbani.com

    রিজার্ভ চুরির যে ৪ অ্যাকাউন্টে চুরি হওয়া অর্থ পাচার হয়, দিগুইতো ওই অ্যাকাউন্টগুলো ২০১৫ সালের মে মাসে খোলেন। এর জন্য ব্যবসায়ী কিম অং এর সুপারিশও নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ অপরিচিত ওই হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করেন।

    এরপর ওই অর্থ এক জায়গায় করে আরেক ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোরের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এর আগে ফিলরেম থেকে ওই অর্থ ক্যাসিনো মালিক উইক্যাং জুর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

    তবে আইনজীবীরা বলছেন, অর্থপাচারের সঙ্গে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী জু ও কিম অং এর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি তারা। আর সে কারণে তাদের খালাস দেওয়া হচ্ছে।

    গত মার্চে ফিলিপাইনের ব্লু রিবন সিনেটের তদন্তে কিম অং-কে দায়ী করা হয়। বলা হয়, তার কোম্পানি ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০০ কোটি পেসো স্থানান্তর হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী তা স্বীকারও করেন।

    তবে তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি পেসো পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটা তো বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা নয়। এটা তাদের বিনিয়োগ ও ঋণ হিসেবে এক দম্পতি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ নিয়ে কিছু জানেন না।

    অপরদিকে, এবিএস-সিবিএনের এক খবরে বলা হয়েছে, দিগুইতোসহ যাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তাদের প্রজাতন্ত্রিক আইন ১৯৬০ অথবা মানিলন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের বিচার হবে।

    বিচার বিভাগের কাগজপত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও বলা হয়, দিগুইতো রিজাল ব্যাংক থেকে ওই অর্থ তোলারও ব্যবস্থা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সে অর্থ কল্পিত কোনো হিসাবে জমা দিতে সহায়তা করেছিলেন।

    ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংক সিস্টেম হ্যাক হয়। অভিযোগ আছে, ওই অর্থ ফিলিপাইনের আর্থিক সিস্টেমে প্রবেশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সময় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে সুইফট বার্তা পাঠায় এবং হ্যাক হওয়া অর্থ লেনদেন থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তখনও লেনদেন চালু রাখা হয়।

    এর আগে ম্যানিলার একটি আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে দুই দফায় চুরি হওয়া অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। অং ওই সময় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কিছু টাকা পরিশোধ করেন। আদালত আরও জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকই এই অর্থ পাওয়ার সঠিক দাবিদার।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত এসেছে। বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে দেড় কোটি ডলারের মতো। বাকি রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলার (৫১০ কোটি টাকা)।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় প্রায় দেড় মাস পর। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একই দিন সরিয়ে দেওয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকে। তৎকালীন ব্যাংকিং সচিব ড. আসলামকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবিরকে গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়।[LS]

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757