বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে পানিবন্দি ১ লাখ মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

রূপগঞ্জে পানিবন্দি ১ লাখ মানুষ

টানা বর্ষণে রূপগঞ্জ উপজেলায় পানিবন্দি প্রায় এক লাখ বাসিন্দা। এতে সাধারণ মানুষের যেন ভোগান্তির অন্ত নেই। রোববার উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বলাইখা, বিজয়নগর, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, ৫ নং ক্যানেল, উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, তারাব পৌরসভার কর্ণগোপ, মাসাবো, তারাব, রূপসী, খাদুন, মৈকুলী, কাঞ্চন পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এ পানিবন্দি চিত্র দেখা যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, যত্রতত্র বালু ভরাট, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা জলাবদ্ধতার মূল কারণ হিসেবে জানা যায়।

গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই এ তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত পাঁচ বছর এ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এ ইউনিয়নের গড়ে ওঠা পদ্মা টেক্সটাইলসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি এ ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের খালটি দখল করে রেখেছে। এছাড়া পানি নিস্কাশনের জন্য মধ্যপাড়া এলাকার স্লুইসগেট কয়েকটি কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে জমি ক্রয় করতে বন্ধ করে রেখেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এসব কারণে কৃষকরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বছরের পর বছর। সর্বশেষ জলাবদ্ধতায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। জলাবদ্ধতায় ওই নারীর দাফনেও ভোগান্তি পোহাতে হয় পরিবারের লোকজনকে। এ ছাড়া ২ জুলাই ফাহিম নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যু হয়। তিনি বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘর থেকে ফ্রিজ বের করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান।


সরেজমিন দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ কেউ হাঁটু সমান পানিতে আবার কেউ কেউ গলা পানিতে নেমে চলাচল করছে। মানুষের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানি প্রবেশের কারণে রান্নাবান্না, চলাচলের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী জাকির হোসেন বলেন, পদ্মা টেক্সটাইলসহ কয়েক কোম্পানি পানি নিস্কাশনের খাল দখল করে রাখায় রাস্তাঘাট ও ঘরের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। আমার বেশ কয়েকটি ঘর ভাড়া দেওয়া ছিল। সবক’টি ঘরে পানি প্রবেশ করায় ভাড়াটিয়ারা


চলে গেছে। একদিকে করোনা আর অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের না খেয়ে মরার উপক্রম।

ভ্যানচালক মিঠুন বলেন, ‘আমাগো ঘরে পানি উঠছে, অহন আমরা যামু কই। করোনার লাইগা ভ্যান লইয়া বাইরে যাইতে পারি না, পুলিশ ধইরা মারে। আর ঘরের মইধ্যে পানি উঠায় ঘরে থাকন যায় না।’

ইউএনও শাহ নূসরাত জাহান বলেন, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে শুনেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। শিগগির জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১