বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১

রেমডেসিভির, অক্সিজেন, বেড সঙ্কট, মুম্বইয়ে কাঁদলেন এক চিকিৎসক

  |   বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট  

রেমডেসিভির, অক্সিজেন, বেড সঙ্কট, মুম্বইয়ে কাঁদলেন এক চিকিৎসক

করোনার ভয়াবহতায় নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না ভারতের মুম্বইয়ের এক ড. তৃপ্তি গিলাড়া। নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কারণ, মুম্বইতে এখন হাসপাতালে বেড সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তিনি জানালেন জীবন রক্ষাকারী অতি গুরুত্বপূর্ণ রেমডেসিভিরের মতো ওষুধের মারাত্বক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ঘাটতি পড়েছে টিকায়। অক্সিজেন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমরা অসহায়। এমন পরিস্থিতি এর আগে কখনো দেখিনি।
মানুষের মাঝে সারাক্ষণ ভীতি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর মধ্যে মুম্বই অন্যতম। সেখানে হাসপাতালগুলোতে করোনা পজেটিভ রোগী যাচ্ছেন হিমবাহের চাকের মতো। এর ফলে হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোর ধারণ ক্ষমতা মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন ড. তৃপ্তি গিলাড়া। তিনি সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ। মঙ্গলবার তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। জানিয়েছেন হাসপাতালে কিভাবে ভয়ানকভাবে বেড সঙ্কট বাড়ছে। তার ভাষায়- যে পরিস্থিতি চলছে এমনটা এর আগে কখনো আমরা দেখিনি। খুব অসহায় আমরা। অন্য অনেক চিকিৎসকের মতোই আমিও হতাশাগ্রস্ত। ৫ মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, কি করতে হবে কিছুই জানি না। আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। কি ঘটনায় আমি এতটা উদ্বিগ্ন, যদি আপনাকে বোঝাতে পারি, তাহলে কিছুটা শান্তি পাবো। আমাদেরকে প্রচুর পরিমাণ রোগীর ব্যবস্থাপনা করতে হয়। মারাত্মক অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বাসায় রেখে। এর কারণ, হাসপাতালে বেড নেই। এসব ব্যাপারকে তো আমরা উপভোগ করতে পারি না। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করেন। কান্না সংবরণ করে তিনি বলেন শিশু, নারী, পুরুষ কেউই এই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না। তাই তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, প্রথমত দয়া করে সবাই নিরাপদে থাকুন। যদি আপনার করোনা না হয়ে থাকে অথবা আপনি আক্রান্ত না হয়ে থাকেন অথবা যদি আপনি আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন তাহলে মনে করবেন না যে, আপনি একজন সুপারহিরো হয়ে গেছেন অথবা আপনার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। যদি আপনি এমনটা ভেবে থাকেন তাহলে আপনি ভুল করছেন। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কত বেশি পরিমাণ যুব শ্রেণির মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাদেরকে আমরা সাহায্য করতে পারছি না।
আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ড. গিলাড়া। তিনি বলেন, আমরা চাই না আপনারা কেউ এমন অবস্থার শিকারে পরিণত হোন। ভেন্টিলেটরে রাখা ৩৫ বছর বয়সী একজন রোগী কিভাবে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছেন, তা নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত- সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। যদি আপনি কোনো কারণে বাড়ির বাইরে যান তাহলে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরুন। কেন বাইরে যাচ্ছেন সেটা কোনো বিষয়ই নয়। কিন্তু আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনার ফেসমাস্ক পরা। নিশ্চিত হোন যে, আপনার নাক পুরোপুরি ঢাকা।
পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয়ত যদি আপনি অসুস্থ হন, আপনার যদি খারাপ লাগে, তাহলে আতঙ্কিত হবেন না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন। তবে কোনো হাসপাতালেই ফাঁকা স্থান পাবেন না। মারাত্মক সঙ্কটজনক অবস্থায় আছেন, এমন রোগীদের জন্য হাতেগোনা দু’চারটি বেড আমাদের হাতে আছে। তাই প্রথমত আপনাকে নিজেই আলাদা করে ফেলতে হবে নিজেকে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তারপর তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন।
ড. গিলাড়া বলেন, চিকিৎসা পেশায় আছেন এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একমাত্র চিকিৎসক তিনি একাই নন। তিনি বলেন, যেকোন কারণেই হোক আপনি যদি টিকা না নিয়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে টিকা নিয়ে নিন। এতে অবশ্যই যারা দুটি ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের কিছুটা উন্নতি হবে। তাদের সংক্রমণ ভয়াবহ হবে না। ফলে টিকা অবশ্যই সাহায্য করছে।
এর কয়েক ঘন্টা আগে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের একজন চিকিৎসক তার শহরে সঙ্কটজনক অবস্থার কথা জোরালোভাবে জানিয়ে আপিল করেছেন। অন্যদিকে দিল্লির সবচেয়ে বড় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা মঙ্গলবার এনডিটিভিকে বলেছেন, অল্প কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে অক্সিজেন সরবরাহ। এর ফলে যেসব করোনা আক্রান্ত রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলটায় লড়াই করবেন তাদের সংখ্যা হাজার হাজার।


Posted ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০