• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রোহিঙ্গাদের প্রকৃত ইতিহাস

    অনলাইন ডেস্ক | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৫:৫১ অপরাহ্ণ

    রোহিঙ্গাদের প্রকৃত ইতিহাস

    এই উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম যে কয়টি এলাকায় মুসলিম বসতি গড়ে ওঠে; এমনকি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়; আরাকান তার মধ্যে অন্যতম। রোহিঙ্গারা সেই আরাকানি মুসলমানের বংশধর। আর ঐ মধ্যযুগেই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল-আরাকান রাজসভায় অমাত্য (মন্ত্রী) হিসেবে স্থান পান। তিনি পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক ও বদিউজ্জামালসহ আরো বেশকিছু কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন।


    ১৪৩০ সালে আরাকানে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসন দুইশ বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হয়। সে সময় মুসলমানরা সেই রাজ্যে আধিপত্য বিস্তার করে।

    ajkerograbani.com

    ১৬৩১ সাল থেকে ১৬৩৫ সাল পর্যন্ত আরাকানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।

    ১৬৬০ সালে আরাকান রাজা থান্দথুধম্মা নিজ রাজ্যে আশ্রিত মোঘল সম্রাট শাহজাদা সুজাকে স্বপরিবারে হত্যা করে। এরপর শুরু হয় মুসলমানের উপর তার অমানবিক অত্যাচার আর দমন-নিপীড়ন। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর ধরে মুসলমানদের এই দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়।

    ১৭৮২ সালে বর্মী রাজা বোধাওপায়ার আরাকান রাজ্য দখল করে নেন। তিনি ছিলেন ঘোর মুসলিম বিদ্বেষী। দখলের পর বোধাওপায়ার ঢালাওভাবে মুসলিম নিধন করতে থাকেন। শুরু হয় অত্যাচার আর শোষণের আরেক অধ্যায়।

    ১৮২৮ সালে বার্মা (মায়ানমার) ইংরেজদের শাসনে চলে যায়। এরপর ১৯৩৭ সালে বার্মা স্বায়ত্ত্বশাসন লাভের পর বৌদ্ধদের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ব্যাপক রূপ নেয় এবং তারা প্রায় ৩০ লাখ মুসলিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। নির্যাতিত মুসলিমরা কোনঠাসা হতে হতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়।

    ১৯৮১ সালে মায়ানমারের সামরিক শাসনকর্তা ‘আরাকান’ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘রাখাইন’ প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য এটা বুঝানো যে; এই রাজ্য বৌদ্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নয়। ইতিহাস বিকৃতির এক ঘৃন্যতম দৃষ্টান্ত ছিল এই নাম পরিবর্তন !!!

    এখানেই শেষ নয়!!শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা মায়ানমারে বসবাস করে আসলেও মায়ানমার সরকার তাদেরকে সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই জাতিগোষ্ঠির পরিচয় নিশ্চিহ্ন করতে; ১৯৮২ সালে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয় এবং সরকারিভাবে তাদেরকে সেখানে বহিরাগত ‘বসবাসকারী’হিসেবে উল্লেখ করে। এর মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার, সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়।

    নিজ দেশে পরবাসী হয়ে পড়েন ভাগ্যাহত- নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠী। এমনকি মায়ানমারের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে অনুমতি ছাড়া তারা যেতে পারবেন না-এমন বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়। এক সময় যেখানে রোহিঙ্গারা ছিল সংখ্যাগুরু; আজ সেখানে তারাই হয়ে পড়ে সংখ্যালঘু। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- এখনও রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার। আর‘জীব হত্যা মহাপাপ’এই শান্তির বাণী উচ্চারণ করা মানুসগুলোই তাদের শিকারী।

    খুবই উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তাদেরকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠি বলেও অভিহিত করছে মায়ানমার সরকার। অথচ রাখাইন রাজ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করে আসছে। এরকম একটি জনগোষ্ঠিকে তাদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; বরং লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে; তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে।

    মায়ানমারের সামরিক জান্তা তার অধিবাসী মুসলমানদের জন্য সে দেশকে দু:স্বপ্নে পরিণত করেছে। তাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে উপার্জিত সব সম্পদের মালিকানা, নাগরিক অধিকার, মানবিক অধিকার, এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারও। বিপদের কথা জানার পরও মরিয়া হয়ে তারা বাংলাদেশে ছুটছে একটুখানি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755